‘সাইবার বুলিং’ হচ্ছে অনলাইনে কোনো শিশুকে প্রলুব্ধ বা হেয় প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন করা। শুরুতে কিশোর-কিশোরীরাই কেবল এ ধরনের কাজে জড়িত থাকে ভেবে বুলিং সংজ্ঞায়িত করা হলেও পরে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে স্বনামে বা ফেক আইডির আড়ালে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকেও এ ধরনের হীন কাজে জড়িত থাকে।

সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঘটলেও ফোনে কিংবা ইমেইলেও অনেক সময় এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে। সাইবার বুলিংয়ের কোনো সূত্র পাওয়া গেলে বা এ ধরনের ঘটনা একবার ঘটলে বিকৃত ও অসুস্থ মানসিকতার আরো অনেকের কাছে আক্রান্ত ব্যক্তির খোঁজ বা যোগাযোগের তথ্য চলে যায় বলে ধীরে ধীরে এর মাত্রা বাড়তেই থাকে। এর ক্রমবর্ধমান চাপে শিশুর মাঝে হতাশা, লেখাপড়ার প্রতি অনীহা, ইনসমনিয়া থেকে শুরু করে আত্মহত্যার প্রবণতা পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।

সাইবার বুলিং প্রতিরোধে এ বিষয়ে মা-বাবার ধারণা থাকা, সন্তান ইন্টারনেটে (কম্পিউটার এবং মোবাইলে) কী করছে তা জানা এবং সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।

সাইবার বুলিং কী?

শিশুকিশোররা অনলাইনে যা দেখে তাই বিশ্বাস করে। আবেগে কখনো কখনো ভুল সিদ্ধান্ত বা কাজও করে বসতে পারে। কিন্তু যখন তা ধরতে পেরে পিছপা হতে চায়, তখন বিপরীত পাশে থাকা অনলাইন বন্ধু কখনো তাকে লোভ দেখায়, কখনো বা ভয় দেখায় কিংবা মানসিক (সম্পর্ক অনলাইন থেকে অফলাইন অবধি গড়ালে শারীরিক অত্যাচারও হতে পারে) নির্যাতন করে তাকে কোনোকিছুতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।

শিশুদের অনেকেই এসময় ভয় পেয়ে বা ‘চুপ করে থাকলে একসময় ঠিক হয়ে যাবে’ ভেবে মুখ খোলে না। আর, সাইবার বুলিংয়ে জড়িতরা এর সুযোগ নেয় আরো বেশি করে। অন্যান্য সাইবার বুলারদের সাথে নিয়ে তারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে আরো বেশি করে নির্যাতন করে।

সাইবার বুলিংয়ের প্রভাব

সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীই সাইবার বুলিংয়ের নিয়মিত শিকার। এ ছাড়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের দেওয়া তথ্য মতে, দেশের তিন-চতুর্থাংশ নারীই সাইবার নিপীড়নের শিকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এদের মধ্যে মাত্র ২৬ শতাংশ অনলাইনে হেনস্থার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে অভিযোগ করে এবং অন্যরা সামাজিকতার ভয়ে গোপন রাখে।

শুধু তাই নয়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশীয় শিশুকিশোরদের হাতের নাগালে আসছে মাদক, অস্ত্র, আত্মহত্যা ও নিজেকে ঘৃণা করার যাবতীয় উপকরণ। মোবাইল ফোনে বিব্রতকর এসএমএস পাঠানো, অনলাইনে নিজের পরিচয় গোপন করা ও অনুপযুক্ত ছবি পোস্ট করা – এসবও সাইবার বুলিং।

সাইবার বুলিংয়ের শিকার শিশুদের মাঝে হতাশা, স্কুল-কলেজে না যাওয়ার প্রবণতা, ইনসমনিয়া এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা যায়। এখন পর্যন্ত একাধিক আত্মহত্যার ঘটনার মূল খুঁজতে গিয়ে অনলাইনে হেনস্থা হওয়া ও পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সাইবার বুলিং প্রতিহতে করণীয়সমূহ

সাইবার বুলিং প্রতিহত করতে সবার আগে হতে হবে সন্তানের বন্ধু। সাইবার বুলিং কী, অপরিচিত বা অনলাইন বন্ধুরা কেন অনিরাপদ এবং তাদের সাথে কেন ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করা যাবে না – এসব সন্তানদের বুঝিয়ে বলতে হবে। সম্ভব হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সন্তানদের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। সর্বোপরি সন্তানরা অনলাইনে কী করছে তার ওপর নজর রাখতে হবে।

সন্তান আপনার আড়ালে ইন্টারনেটে কী করছে, কোন কোন সাইট বেশি ব্রাউজ করে কিংবা সেসব সাইটে ভয়ঙ্কর কোনো ফাঁদ পাতা নেই তো – একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে এসব সার্বক্ষণিক লক্ষ রাখা আবশ্যক।

কেউ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে কখনোই চুপ করে থাকার কথা ভাববেন না, সরাসরি আইনের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন চুপ করে থাকলে সমস্যা কমবে না বরং অপরাধী আরো সাহস পেয়ে যাবে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনগত সহযোগিতা দেয়- এমন প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হোন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এ ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মিথ্যা বা অশ্লীল কিছু প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আছে। আইন লঙ্ঘন করলে ১৪ বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে। হয়রানির ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইন বা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়ে থাকে।

হয়রানির শিকার যে কেউ সরাসরি বিটিআরসিতে যোগাযোগ করতে পারেন। বিটিআরসি ফোনে ও ইমেইলে দুইভাবেই অভিযোগ গ্রহণ করে থাকে। বিটিআরসির কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্স রেসপন্স টিম এ ধরনের সমস্যায় সহায়তা করে থাকে। বিটিআরসিতে হয়রানির অভিযোগ জানাতে কল করতে পারেন (০২)৭১৬২২৭৭ নম্বরে বা ইমেইল পাঠাতে পারেন contact@csirt.gov.bd ঠিকানায়।

এ ছাড়া, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১০৯২১ নম্বরে ফোন করলেও গোপনীয়তা রক্ষা করে এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা হয়।

কম্পিউটার ও স্মার্ট ডিভাইসের নিরাপত্তায় ব্যবহার করুন রিভ অ্যান্টিভাইরাস। এর টার্বো স্ক্যান প্রযুক্তি পিসি স্লো না করেই নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ সুরক্ষা। ফ্রি মোবাইল সিকিউরিটি অ্যাপসহ একক ডিভাইসের পাশাপাশি রিভ অ্যান্টিভাইরাসে রয়েছে দুই বা ততোধিক ডিভাইসে ব্যবহারসহ নজরদারির জন্য অ্যাডভান্সড প্যারেন্টাল কন্ট্রোল। ঘরে কিংবা অফিসে বসেই ক্যাশ অন ডেলিভারিতে রিভ অ্যান্টিভাইরাস ক্রয় করতে ভিজিট করুনwww.reveantivirus.com অথবা কল করুন 01847214959 নম্বরে। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আপডেট পেতে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন ফেসবুক পেজে: https://www.facebook.com/REVEAntivirusBD/

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.