পদার্থ বিজ্ঞান সবসময়ই আমার অপ্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আমি খুব বেশি সময় দিতে লাগলাম এই পদার্থ বিজ্ঞানেই। খুব বেশি দেরি হয়নি আমার পূর্ববর্তী লেখা বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। আগের পোস্টটা ছিল নিউটনের প্রথম সূত্র অর্থাৎ জড়তার সূত্র নিয়ে। এবার নিউটনের ১ম ও ৩য় সূত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি ঘটনা প্রকাশের চেষ্টা করলাম। আশা করি, পাঠকবৃন্দ সহজে বুঝতে পারবেন।Cyklostezka_bicycle_road_sign.svg

সাইকেল নামের যন্ত্রটার সাথে ছোটবেলায় কমবেশি সকলেরই সখ্যতা ছিল বলে আমার ধারণা। কেননা, আমি নিজেও ছোটবেলায় এই যানটার জন্য পাগল ছিলাম। এই যন্ত্রটা যে খুশির পাশাপাশি অনেক বিষাদময় স্মৃতির কারণ হতে পারে তারও বাস্তব প্রমাণ পেয়েছিলাম হাতে-নাতে।

২০০৮ সালের শেষদিকের ঘটনা।  আমি তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র। বৃষ্টি আসবে-আসবে অবস্থায় স্কুল ছুটি হওয়াতে সাইকেলে চেপেই ভা…গতে লাগলাম বাড়ির দিকে। গ্রামের রাস্তা হবার কারণে অনেকগুলো বাঁক-সাকোঁ ছিল। এমনি একটা বাঁকে জোরে চালাতে গিয়ে নিজে তো পড়লাম, সাথে একটা রিক্সাকেও খালে ফেলে দিয়েছিলাম। যা হোক বাদ দিন সেদিনের কথা।

স্বাভাবিকভাবেই আমরা জানি সাইকেল বা অন্য যানবাহনের মোড় ঘোরার সময় গতিবেগ কমিয়ে আনতে হয়। অন্যথায়, পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটানোর সমূহ সম্ভাবনা থাকে। সোজা পথে এই ধরণের ঘটনা মোটেও ঘটেনা।

এর পিছনে কারণ হল বল। বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোন বস্তুর উপর ঐ বৃত্তের কেন্দ্রের বাইরের দিকে কেন্দ্রবিমুখী বল ক্রিয়াশীল হয়ে উঠে। একে নিষ্ক্রিয় করার জন্য সমমানের কেন্দ্রমুখী বল সৃষ্টির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই উদ্দেশ্যে চলমান গাড়ি বা সাইকেল ঐ বৃত্তাকার অংশের কেন্দ্রের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তে হয়। এর মূল কারণ যতটুকু সহায়তা এই কেন্দ্রবিমুখী বলকে সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন তা সমতল রাস্তা হতে পাওয়া যায় না। তাই হেলিয়ে চলে বা গতি কমিয়ে বাঁক পার হতে হয়।

এতে করে লাভটা হলো, সাইকেলের চাকা রাস্তার উপর বাঁকাভাবে চাপ দেয় এবং তার ফলে ঘর্ষণজনিত বল তৈরি হয়। এই বলের প্রতিক্রিয়া বলটি সরাসরি বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে। ক্রিয়ারত বিপরীতমুখী বলটি দুটি উপাংশে বিভক্ত হয়ে যায়।

উলম্ব উপাংশটি গাড়ি বা সাইকেল এবং যাত্রীদের ভর নিষ্ক্রিয় করে এবং অনুভূমিক উপাংশটি গাড়ি বা সাইকেল এবং যাত্রীদের ভারসাম্য রক্ষা করে।

কিন্তু গাড়ির ক্ষেত্রে তো আর গাড়িকে কাত করে চালানো যায়না, তাই উন্নত দেশে রাস্তাগুলো বাঁকের বা মোড়ের দিকে হিসেব করে ঢালু করে তৈরি করা হয় যাতে করে বাঁকে গাড়ি চালানোর সময় গাড়ির সৃষ্ট কেন্দ্রবিমুখী বলের প্রতিক্রিয়ায় সমমানে কেন্দ্রমুখী বল সৃষ্টিতে রাস্তার ঢাল গাড়িকে সহায়তা করতে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশে আজ অবধি আমার এরূপ সিস্টেম চোখে পড়েনি। তাই সাবধানে গাড়ি বা সাইকেল চালান আর নিরাপদে বাড়ি ফিরুন। 😉

তথ্যসূত্র:

* বিজ্ঞানের রাজ্যে কি ও কেন – আব্দুল কাইয়ুম
* Physics for All- A. Kitaigarodski
* Physics for Entertainment- Yakov Perelman

সৌজন্যে:

সবার জন্য বই নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে গিয়েই আমার এই ব্লগিং এর শুরু হওয়া। এই গ্রুপে সবাইকে আমন্ত্রণ।

comments

11 কমেন্টস

  1. কিন্তু বাংলাদেশে আজ অবধি আমার এরূপ সিস্টেম চোখে পড়েনি !!

    ফ্লাই ওভার গুলো একটু সূক্ষ ভাবে খেয়ায়াল করলে চোখে পড়তে পারে 🙂

    • আপনি দেখতে পেয়েছেন শুনে আমার ভালই লাগলো… আর আমি বাংলাদেশের যে স্থানে থাকি সৌভাগ্যক্রমে সেখানে কোন ফ্লাইওভার নেই। তাই আমার চোখ আপনার চোখগুলোর মত সৌভাগ্যবান হয়নি। লাকি এফএম সাহেব, আমি আমার পোস্টে আমার চোখে পড়েনি বলেছি শুধু… তাই, খোঁচাটা গ্রাহ্য করা ছাড়া উপায় রইলনা আমার। 😉

  2. 上轮联赛中泰达在主场被绿城2-2逼平,此前已闪现的重返三甲曙光又显被削弱;目前泰达积35分位列积分榜第5位,正处在争夺第3张亚冠门票的激斗中心。从上轮联赛安排于大宝休息以求全力打好此战来看,泰达对于足协杯已是全力以赴的态度。双方近3次联赛交锋均战为平局,这样的数据也要求泰达必须在此战百分百投入。

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.