সাইকিক ফটোগ্রাফি শব্দ দুটির সাথে অনেকেই পরিচিত। এটি হলো পরাবিজ্ঞানের একটি অতি আধুনিক শাখা। অনেকে এর অস্তিত্বকে স্বীকার করেন না। আবার অনেকে একে নীরবে মেনে নিয়েছেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে যখন আমরা কোন মানুষের ছবি তুলি তখন তার মধ্যে অদৃশ্য একটি আত্মার উপস্থিতি আমরা দেখতে পাই। ছবিটিকে আমারা ভালভাবে ওয়াস করলে দেখতে পাই যে ঐ মানুষটির পাশে  আত্মার সাদা অথবা ধোঁয়াটে চেহারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এটি হলো সাইককি ফটোগ্রাফির বিষয়বস্তু।

তিনি হলেন একজন বিখ্যাত পেশাদার আলোকচিত্রী। স্থির আলোক চিত্রের ক্ষেত্রে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা আছে তার। পরিবারেরর সকলের সাথে বেরিয়েছেন প্রমোদ ভ্রমনে। আশেপাশের সমস্ত সৌন্দর্যকে ক্যামরাবন্দী করতে থাকেন তিনি। কিছুদিন পর তিনি ফিরে এলেন এই প্রমোদ ভ্রমন থেকে। তিনি নিজেই ফটোগুলোকে ডেভলপ করলেন। স্মৃতির মণিকোঠায় উজ্জ্বল মণিমুক্তোগুলিকে এভাবে চিরস্মরনীয় করে রাখতে চান তিনি। ছবিগুলি যখন দেখলেন তখন অবাক হয়ে গেলেন। কোন কোন ছবির মধ্যে একটি সাদা বস্তুও উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

যখন তিনি তাঁর ছেলের ছবিটি দেখলেন তখন সেখানে একটি কুকুরছানাকে দেখতে পেয়ে ভারী অবাক হয়ে গেলেন তিনি। কেননা কোন ভাবেই ওখানে কুকুরছানাটি থাকার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না। ছেলেও এই ঘটনাতে অবাক হয়ে গেলো। তারপর সে চীৎকার করে বললো বাবা দেখ, এই কুকুরটা চিন। টিম নামে তাদের একটি পোষা কুকুর ছিল। দু’বছর আগে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনাতে কুকুরটির মৃত্যু হয়েছিল। এই কুকুরটি ছিল তার ছোট্ট ছেলের অত্যন্ত প্রিয়।

১৯২৫ সালের আগষ্ট মাসে সুইজারল্যান্ডে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিলো। একটি পারিবারিক আলোকচিত্র নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দেখা গেল একটি সাদা বেড়ালছানা রয়ে গেছে। যেখানে ছবি তোলা হয়েছে তার আশেপাশে কোথাও বেড়াল ছাড়া ছিল না। এই ছবিটি যিনি তুলোছিলেন, তিনি পেশায় ছিলেন একজন মেজর। তিনি প্রিন্টটাকে আরও অনেক বড় করলেন। তারপর দেখলেন ঐ ভৌতিক বেড়ালছানাটা হলো তার পুত্রের প্রিয় বেড়লাছানা। যেটি কদিন আগে হঠাৎ মারা গিয়েছিলো। এরপর ঐ ছবিটি এবং তার নেগেটিভ নিয়ে অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয়। বিশেষভাবে তৈরী মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে গবেষণা চালানো হয়। কিন্তু মৃত বিড়ালের ফিরে আসার ঘটনাটি কেউ ঠিক মত ব্যাখা দিতে সমর্থ হয়নি।

অনেক সময় মৃত মানব আত্মার ফিরে আসার কাহিনী প্রচলিত আছে যদিও এর সত্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। উইলিয়াম ফোক ছিলেন একজন সাইকিক ফটোগ্রাফার। তিনি ১৯২৪ সাল কতগুলো ছবি নিয়েছিলেন। এই ছবিতে তার সহকারিনী শ্রীমতি বাকস্টান এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ছবি ছিল। সকলেই অবাক হয়ে দেখলেন যে এই ছবির মধ্যে কিছু অশরীরী আত্মার উপস্থিতি চোখে পড়ছে। তার মধ্যে এই ছবিকে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হলো। সেটি ছিল শ্রীমতি বাসস্টানের ছেলের ছবি। গত বছর একটি মর্মান্তিক দূর্ঘটনাতে ঐ শিশুটি পৃথিবীকে চিরবিদায় জানিয়ে চলে গিয়েছিল। শ্রমতি বাকস্টান পরে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি তাঁর হারানো শিশুকে ছবির মাধ্যমে জীবন্ত করে রাখতে চেয়েছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত প্রেসিডেন্স আব্রাহাম লিঙ্কন এমনভাবে ছবির মাধ্যমে ফিরে এসেছিলেন ইউলিয়াম মাম্বালার নামে একজন বিখ্যাত স্থির ফটোগ্রাফার এই ছবিটি নিয়েছিলেন। তিনি থাকতেন বোষ্টন শহরে। স্থি্র ফটোগ্রাফি চর্চাতে তাঁর যথেষ্ট নাম হয়েছিলো।

১৮৬৫ সালের শেষের দিকের কথা। নিহত আব্রাহাম লিঙ্কনের বিধবা পতিœ মেরিটাড লিঙ্কন এসে তাঁকে অনুরোধ করলেন তাঁর স্বামীর প্রেতাত্মাকে ফটোগ্রাফির সাহায্যে বন্দী করে রাখতে। ইউলিয়াম মাম্বালার মেরিটিডোর একটি ছবি তোলেন। এই ছবিতে আব্রাহাম লিঙ্কনের উপস্থিতি বেশ ভালোভাবে বোঝা যায়। লিঙ্কন দাঁড়িয়ে আছেন মেরিটোডের পেছনে। তাঁর হাত মেরিটোডের কাঁধের উপর।

যারা পরামনোবিজ্ঞানের বাসিন্দা তাঁরা ঘটনাকে বিশ্বাস করেন। এ সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী মতবাদ রয়ে গেছে। সুতরাং শেষ কথা বলার সময় এখানো আসেনি।

কল্প-কাহিনীর মত মনে হলেও এর সত্যতা এখনও অনেকের অজানা। এসব অলৌলিক ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা এখনও বিজ্ঞানের কাছে নেই। চলুন দেখা কিছু ভৌতিক ছবি বাস্তব বটে-

apparition of a young woman at the top of the stairs at Hollytrees Museum

apparition photo of a close up face

apparition standing by a Celtic cross in a cemetery

picture of four apparitions in the back of a chapel ruin

apparition of a victorian woman strolling the grounds of a priory

picture of a spirit apparition by a hedge

two apparition figures strolling the grounds of ruins

picture of an apparition of an airman

apparition of a young girl bathed in sun rays coming down the stairs of a walled garden

undefined

undefined

undefined



অনেকের কাছে এগুলো অবিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। কারণ এখানে বিজ্ঞান কোন স্পষ্ট ধারণা দেয়নি। তবে এর অস্তিত্ব নিয়ে অনেকেই সহমতও প্রকাশ করেছেন। যদি বিশ্বাস না হয় অন্তত ছবিগুলো দেখে উপভোগ করুন। 😉

comments

21 কমেন্টস

  1. সাইকিক ফটোগ্রাফির সত্যতা জানি আমি। এ জন্যই সন্ধ্যার দিকে গাছপালা বা গার্ডেনের ছবি তুলতে ভয় পাই। 🙁

  2. মাফ করবে খালিদ বাবু, আপনার বক্তব্য মানতে পারছি না। পৃথিবীতে অলৌকিক বলে কিছু নেই, আত্মা বলেও কিছু নেই। আর পরাবিজ্ঞান কোন বিজ্ঞানের শাখা নয়, এটি বিজ্ঞানেরই কিছু কথা দিয়ে তৈরি একটি শাস্ত্র মাত্র।
    আপনার হয়ত জানা আছে যে কলকাতার যুক্তিবাদী সমিতির সম্পাদক শ্রী প্রবীর ঘোষ মহাশয়ের এই বক্তব্যের উপরে একটা চালেঞ্জ আছে। — যে কেউ কোন অলৌকিক ক্ষমতা দেখাতে পারলে বা আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারলে তাকে উনি দেবেন ২৫ লক্ষ টাকা। (www.srai.org) আর যে সমস্ত ঘটনার কথা গুলি আপনি উল্লেখ করেছেন, সেগুলি বেশিরভাগি বানানো, নয়ত লোক মুখে প্রচার, অথবা ঘটনাগুলি সম্পর্কে যথাযত অনুসন্ধান হয়নি, আর আজকে দিনে দাঁড়িয়ে তা করা সম্ভব নয়।
    আর রইল ফটো গুলি। যারা ফটো বিশেষজ্ঞ তারা বলতে পারবেন কি কৌশলে ফটো গুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে দিলে ১০০% প্রমাণ হয়ে যাবে এর মধ্যে কৌশল করা হয়েছে। আজকাল তো কম্পিউটারে এতো উন্নত মানের ফটো এডিটিং সফটওয়ার এসেছে যে অনায়াসেই এর চেয়েও ভাল ফটো তৈরি করা সম্ভব যাতে মনে হতে পারে যে সত্যিই আত্মা আছে। কিন্তু মনে হলেই হবে না , চাই প্রমাণ। আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে বিজ্ঞানের কাছে কার মুখের কথা, কারো ব্যাক্তিগত বিশ্বাস-এর সামান্যতম মূল্য নেই। বিজ্ঞানের কাছে একমাত্র বিচার্য বিষয় প্রমাণ।

    • আমি আমার লেখাতেই জানিয়ে দিয়েছি এটি নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক আছে। বিশ্বাস করা না করা আপনার ওপর নির্ভর করে। তবে পৃথিবীতে এমন অনেক মিরাকেল ঘটেছে যার স্পষ্ট ধারণা বিজ্ঞান দিতে পারিনি।

    • বিশ্বাস-অবিশ্বাসের চেয়ে লেখাটি পড়ে যেন সবাই মজা পাই সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সাজানোর চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ ভাইয়া।

  3. খালিদ হাসান ভাই চমৎকার লিখেছেন … অনেক ধন্যবাদ … সত্যি বলতে কি বর্তমান বিজ্ঞান হয়তবা যে সমস্ত কিছুর ব্যখ্যা দিতে অক্ষম তাকেই আমরা মানতে চাই না , কে জানে হয়তবা একদিন বিজ্ঞান, এই সমস্ত বিষয়ের সুস্পস্ট ধারনা দিতে পারবে …
    আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন, যারা জ্বীন-ভূত বিশ্বাস করেন না, কিন্তু আবার রাতের বেলা জ্বীন ভূতের গল্প পড়তে , শুনতে কিংবা ছবি দেখতে পছন্দ করেন (বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এমন মানুষের সংখা কিন্তু কম নয়) …… তাদের জন্য কাজের একটা জিনিষ হবে আপনার পোস্ট টি।
    আবারো ধন্যবাদ …

    • রিয়াজুল ভাইয়ার সাথে শতভাগ একমত আমি। বিজ্ঞানের প্রতি আমাদের অন্ধ বিশ্বাস জন্মে গেছে। বিজ্ঞান যা বলে না তা আমরা বিশ্বাসই করতে চাই না।

  4. আমার নিজেকে বিশ্বাসী বলতে ভালোবাসি। পৃথিবীর সব বিষয়ে নাক গলানোর ক্ষমতা প্রকৃতি কাউকে দেয়নি। সব কিছুর ব্যাখ্যা বের করাও আমাদের সাধ্যের বাইরে বলে আমি মনে করি। ভালো লেগেছে অনেক। সুন্দর পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ। এমন ব্যতিক্রমী আরো পোস্ট চাই। ভালো থাকুন ভাইয়া।

  5. 第17分钟广州前场进攻获得角球,但却未能形成威胁,被亚泰顺利解围。第18分钟恒大在长春禁区内连续配合,穆里奇试图横传被解围。第20分钟张文钊在禁区内突破,为长春赢得角球,广州将球解围后反击,阿雷切亚在禁区内,以一记关键的铲断高志林将球解围。第22分钟阿雷切亚再前场拿球,很遗憾的没有将球控制住。第25分钟广州开出角球,张琳芃抢到落点却将球顶高。第27分钟王栋前场断球,将球输送到禁区内,阿雷切亚未能断下皮球。

  6. Great beat ! I would like to apprentice while you amend your site, how can i subscribe for a weblog website? The account helped me a appropriate deal. I have been a little bit familiar of this your broadcast provided brilliant clear concept

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.