প্রাথমিক কথা

আমাদের দেশের প্রায় সাড়ে ১১ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।তার মানে হলো, আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকেরই প্রযুক্তির সাথে সম্পর্ক আছে।এদের মধ্যে অনেকেই আবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে।এ ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারণে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি এবং চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচিত হতে পারছি।আর এভাবেই আসে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কথা। এখন হয়তো অনেকেই চেষ্টা করি নিজেকে একজন ভালো ওয়েব ডেভেলপর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।কিন্তু কীভাবে?আমি চেষ্টা করব তাদের যতটুকু সম্ভব বিস্তারিতভাবে সহযোগিতা করার জন্য।

কারা ওয়েব ডেভেলপার

ইন্টারনেট ব্যবহার করি কিন্তু ফেসবুক সম্পর্কে জানি নাÑ এমন লোক হয়তো দুনিয়ার জমিনে নেই। আমরা ব্রাউজারে ফেসবুকের অ্যাড্রেস লিখে এন্টার চাপলে ব্রাউজার আমাদের যেখানে নিয়ে যায়, তা হলো ফেসবুকের ওয়েবসাইট। আর এ ওয়েবসাইট নিশ্চয় কোনো মানুষ তৈরি করেছে। আর যে করেছে সেই হলো ওয়েব ডেভেলপার।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, যারা একটা ওয়েবসাইট ডিজাইন করার পর তাকে প্রাণদান মানে ডায়নামিক করার মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে তারাই ওয়েব ডেভেলপার।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী?

কারা ওয়েব ডেভেলপার এখান থেকেই অনেকে বুঝতে পারছেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট আসলে কী। এখন একটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বুঝতে চেষ্টা করব।

ধরুন আমি আপনাকে একটি গাড়ির ছবি দিয়ে বললাম, এ গাড়িটা তৈরি করে এটি দিয়েই আমাকে ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখাতে হবে। আর আপনি যদি তা পারেন তবে আপনি এ গাড়ির সম্মানিত ডেভেলপার। এখন যদি আপনি গাড়ি তৈরি না করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাহলে আপনি ওয়েব ডেভেলপার।

আমি কি ওয়েব ডেভেলপার হতে পারব?

কেন নয়? আপনি চাইলেই হতে পারেন বিশ্বসেরা ওয়েব ডেভেলপার।কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম ও সাধনা। পরিশ্রম ও সাধনা ছাড়া কেউ কোনো কাজে কখনও সফল হতে পারেনি। আপনি সফল হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। আপনি যদি পরিশ্রম করতে রাজি থাকেন এবং ধৈর্যসহকারে আপনার সাধনা চালিয়ে যান, তাহলে আমরা আশা করতে পারি অচিরেই একজন নতুন ওয়েব ডেভেলপার পাচ্ছি।

কেন হবেন ওয়েব ডেভেলপার?

এবার কোটি টাকার প্রশ্ন করলেন। কেন হবেন আপনি ওয়েব ডেভেলপার। একটা সময় ছিল যখন ওয়েবসাইট ছিল শখের একটা বিষয়। কিন্তু এখন তা আর কোনো শখ বা বিলাসিতা নয়, বরং অবশ্য প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন প্রতিদিনই ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট তৈরির জন্য অর্ডার করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ডেভেলপারের সংখ্যা অনেক কম। আপনি ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এখানেই হতে পারে আপনার উপার্জনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। মার্কেট প্লেসগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাহিদা ওয়েব ডেভেলপারের। পারিশ্রমিকও অন্যসব কাজের তুলনায় বেশি।

কেমন আয় হতে পারে?

এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সদিচ্ছার ওপর। আপনি যদি নিজেকে একজন দক্ষ ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে মাসে কয়েক লাখ টাকা সহজেই উপার্জন করতে পারবেন। আমি আবারও বলছি, এটা নির্ভর করবে আপনার ওপর।

আপনি যদি দক্ষ ও যোগ্য না হোন, আপনার যদি পরিশ্রম করার মানসিকতা না থাকে, তাহলে আপনি সারা জীবনেও এক পয়সা উপার্জন করতে পারবেন না । তবে প্রথমে টাকা-পয়সার চিন্তা না করে কাজ শেখার দিকে মনোযোগ দিলে পরে ইনকামটা স্থায়ী হবে এবং পরিমাণ বেশি হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন প্রয়োজন

ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো মাপকাঠি নয়। তবে আপনি ইংরেজিতে যতটা ভালো হবেন, ততটাই ভালো। কারণ হলো ইংরেজিতে আপনি শেখার জন্য যত ভালো টিউটোরিয়াল বা বই পাবেন তা অন্য ভাষায় পাওয়া সম্ভব নয়। তবে সুসংবাদ হলো, এখন বাংলায়ও অনেক ভালো টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়।

কতটা সময় প্রয়োজন

এটা নির্ভর করবে আপনার মেধা এবং পরিশ্রমের ওপর। আপনি কতটা সময় ব্যয় করবেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য তার ওপরও। তবে সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে যে কেউ মোটামুটি ভালো ওয়েব ডেভেলপার হতে পারেন। আসল কথা হলো, আপনি কখনও এটা শিখে শেষ করতে পারবেন না।

৬ মাস ধারণা নেয়ার পর আপনিই বুঝতে পারবেন আপনি আসলে কাজ নেয়ার জন্য এ মুহূর্তে কতটা যোগ্য।

আপনাকে অবশ্যই নতুন নতুন আপডেট সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজেকে আপডেট করে নিতে হবে। তা না হলে আপনি কখনোই সফল হতে পারবেন না। সাময়িক সফল হলেও অচিরেই আপনি আপনার প্লেস হারাবেন। মনে রাখবেন, শেখার কোনো শেষ নেই।

শেখা শুরু করব কীভাবে

ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য আপনাকে যে বিষয়গুলো জানতে হবে

html: প্রথমেই শিখবেন html. এটা হলো heyper text markup laguage. এর মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইটের কাঠামো তৈরি করবেন।

css : তারপর শিখবেন css . এটা হলো cascading style sheet. এর মাধ্যমে আপনি তৈরি করা কাঠামোকে সাজাতে-গোছাতে পারবেন। এর মানে হলো ওয়েবসাইটকে সুন্দর করতে প্রয়োজন css.

Programming language : তারপর আপনাকে কোনো একটা programming language জানতে হবে। এটা মূলত ওয়েবসাইটের ইঞ্জিন। আমি আপনাকে সাজেস্ট করব চঐচ শেখার জন্য। এটা তুলনামূলক সহজ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি।

cms : content mangment system. বিভিন্ন ধরনের cms আছে। যেমন wordpress, jomla ইত্যাদি। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় wordpress. তাই বলব, শুরু হোক wordpressদিয়ে।

বিশেষ কথা হলো, জীবনে সফল হতে গেলে আপনাকে কাজপাগল হতে হবে।কাজকে পাগলের মতো ভালো না বাসলে তাতে সফল হওয়া যায় না। জানেন তো, জয় করার জন্য ভালোবাসার চেয়েও বড় অস্ত্র আর হয় না।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.