প্রতিদিনি কেউ না কেউ নতুন ব্লগ খুলছে কিছু বাড়তি আয়ের জন্য। তার মদ্ধে অনেকই ভালো করছে আর যারা ভালো করতে পারছে না তারা সফলদের দেখে হতাশ হচ্ছেন। ভাবছে কিভাবে তাদের মত হওয়া যায়। হ্যাঁ আপনিও সফল হতে পারবেন যদি তাদের মত চেষ্টা করেন। শুধু শুধু ঘরে বসে তাদের দেখে আপসোস করলে কিছুই হবে না বরঞ্চ আপনার সময় এবং মন মানসিকতা দুই নষ্ট হবে। আমি আপনাদেরকে হতাশ করছি না শুধু এইটুকু বোঝাতে চাচ্ছি যে, আপনি যদি ভালো কাজ পারেন তবে আপনাকে কাজ খুজতে হবে না কাজই আপনাকে খুজে বের করবে আর এমন অনেক উদাহরণ আছে আপনাদের আশেপাশে। যারা নতুন নিশ ব্লগ শুরু করেছেন তাদের জন্য আমার আজকের এই লিখাটি। আশাকরছি আপনাদের কাজে আসবে।

common-blogging-mistakes

ঠিক কি করবেন যখন আপনি একজন নতুন ব্লগার? আমি কিছু কমন ভুল দেখি জেগুলা প্রাই সব নতুন ব্লগারই করে থাকে। আজকে সেগুলা নিয়ে আলোচনা করবো।

পোস্ট টাইটেল- আপনি কি বিষয় নিয়ে লিখছেন সেটি মাথায় রেখে পোস্টের টাইটেল লিখুন। ধরুন আপনার লিখার বিষয় হচ্ছে “কিভাবে আপনি সফল ব্যাবসায়ি হবেন” তার ১০টি উপায়। এখন সেই লিখার পোস্টের টাইটেল যদি দেন “কিভাবে বড়লোক হবেন বা বড়লোক হবার ১০টি উপায়” তাহলে কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত হবে আর আপনার লিখার প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করবে। তাই যতদূর সম্ভব পোস্টের সাথে মিল রেখে টাইটেল লিখার চেষ্টা করুন আর আপনার টাইটেলের ওয়ার্ড কাউন্ট হবে ৫৫ ক্যারেক্টারের মদ্ধে।

Post title

মেটা ডেসক্রিপশন- মেটা ডেসক্রিপশন লিখার সময়ও আমি সেম কথা বলবো আপনি যখন লিখবেন একটু খেয়াল করে পোস্টের বিষয়ের সাথে মিলিয়ে লিখবেন ওয়ার্ড কাউন্ট দিবেন ১৫৫ ক্যারেক্টার।

meta description

পোস্ট লিংক/পারমালিংক– আপনার পোস্টের যে পারমালিংক টি হবে সেটি বেশি বড় করবেন না চেষ্টা করবেন ২,১ টি কথার ভেতরে শেষ করতে। আপনি খুব সহজেই পোস্টের লিংক কাস্টমাইজ করে ঠিক করে নিতে পারবেন যেমন (http://earntricks.com/onpageseo/31249) উদাহরণ।

গ্রামারের ভুল- আমরা বাঙালি আর আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু বাংলা ভাষাই আমরা ঠিকঠাক আয়ত্ত করতে পারিনি। এখন অনেক বাংলা কথা শুনি জেগুলা শুনলে মাথা ঘুরান্টি মারে আর ডিকশনারি খোঁজা লাগে কথাটির মানে খুজতে গেলে। ঠিক তেমনি আপনি যখন কোন ইংরেজি পোস্ট দিবেন আপনার ব্লগে তখন আপনার লিখা বাঙ্গালি কম ফরেনার বেশি পড়বে। তাই যতদূর সম্ভব চেষ্টা করবেন আপনার লেখা যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় এতে করে আপনার ভিজিটির বাড়বে। আর ফ্রি ফ্রি আপনার ব্লগের মার্কেটিং হয়ে যাবে।

grammar errors

অন্য কারোর কনটেন্ট কপি করা- ব্লগিং জগতে এটি একটি ঘৃণিত অপরাধ। মনে রাখবেন আপনি যত ভালোমানের চোর মানে কপিবাজ হোন না কেন কখনই ভালো অবস্থানে জেতে পারবেন না। গুগলের নতুন এলগোরিদম গুলো এখন অনেক স্ট্রং। আপনি মনে করছেন অন্য কারোর কনটেন্ট কপি করে সেটি সুন্দর করে স্পিন করে পোস্ট দিবেন। উহু এটাও সেই একই কথা কোন কাজ হবে না। তাই আমি আপনাদেরকে বলবো ফালতুতে সময় নষ্ট না করে সেই সময়টি একটি কনটেন্ট লিখার কাজে লাগান, কাজে দিবে।

Copy Content

ইমেজ অলটার ট্যাগ- আপনি যখন পোস্টে ইমেজ আপলোড করবেন তখন ব্যাবহৃত ইমেজটি অবশ্যই ভালো করে অপ্টিমাইজ করবেন। যতদূর সম্ভব অলটার ট্যাগ দেবার সময় ছোট করে দিবেন। আর ইমেজের সাইজটি যেন বেশি বড় না হয় সেটির দিকে খেয়াল রাখবেন। আপনার ইমেজ সাইজ মানে(মেগাবাইট বা কিলোবাইট) যত বেশি হবে সাইটের লোডিং টাইম ততো বাড়বে তাই এটির ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হতে হবে।

ক্রউলার এরোর- আপনার সাইট টি যদি গুগল ওয়েবমাস্টারে অ্যাড করা থাকে তবে সেখানে লগইন করলে দেখতে পারবেন কোন এরোর ম্যাসেজ আছে কিনা যদি থাকে তবে সেটি সাইট থেকে রিমুভ করে দিবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, এরোর অনেক ধরনের হয় ৩০১, ৪০৪ ইত্যাদি। আর কিভাবে সেটি খুজে বের করবেন এবং ঠিক করবেন সেটি নিয়ে বিস্তারিত পাবেন এই লিংকে

টাকা দিয়ে ব্যাকলিংক কেনা বন্ধ করুন- জী আপনি ঠিকই শুনেছেন যদি ভালো চান তবে এখনই টাকা দিয়ে ব্যাক লিংক কেনা বন্ধ করুন। এখন আর সুধু ব্যাকলিংক করে গুগলে র‍্যাঙ্কে আসতে পারবেন না। তাই এটি করে অযথা সময় ও টাকা দুই নষ্ট করার দরকার নেই। উক্ত টাকা খরচ করে ব্লগে ভালো মানের কনটেন্ট দিতে থাকুন কাজে দিবে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি পরতে পারেন।

Paid- links

আর্টিকেলের ওয়ার্ড কাউন্ট- আপনি যে আর্টিকেলটি লিখছেন সেটির ওয়ার্ড কাউন্ট খেয়াল করুন। ৫০০ থেকে ১০০০ ওয়ার্ড হচ্ছে বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড মানের আর যদি বই বা ম্যাগাজিন হয় সেটির বিষয় আলাদা। আপনার আর্টিকেলের ধারাবাহিকতা রক্ষাকরে পোস্ট দিবেন আর চেষ্টা করবেন মিনিমাম ৭০০ ওয়ার্ড করে পোস্ট লিখার তাহলে এস ই ও তে ভালো করতে পারবেন।

ইন্টারনাল লিংক করা- আমি আমার আগের পোস্টে বলেছি এটি কি এবং কেন করবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন। আর কিভাবে এটি করতে হবে সেটি জানতে এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

শেষ কথা- সবশেষে আমি আবারো আপনাদেরকে বলবো, যখন লিখবেন তখন একজন ভিজিটরের স্থানে দারিয়ে কল্পনা করে লিখবেন। আপনি যদি ব্লগের ভিজিটরদের ভালো মানের লিখা উপহার দিতে পারেন তবে দেখবেন এমনিতেই আপনার ব্লগের ভিজিটর বেড়ে যাবে। আর লিখার সময় ভালো করে সেই বিষয়টির উপর স্টাডি করে নিবেন তারপর লিখবেন।

আর কথা না বাড়িয়ে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার কোন লিখা নিয়ে হাজির হব ইনশাআল্লাহ্‌।

comments

কোন কমেন্ট নেই

LEAVE A REPLY

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.