কয়েকদিন আগেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্লগে প্রবেশ করি ফ্রিলান্সিং বিষয়ক একটি লেখা দিয়ে। সেখানে ফ্রিল্যান্সারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু এটা বলা হয়নি যে, কি কি চ্যালেঞ্জ তাকে মোকাবেলাবেলা করতে হতে পারে। কেউ নতুন কোন অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিলেই তার প্রথম ও প্রধান বিষয়ের মধ্যে থকে-ইনভেস্ট, শ্রম ও আয়ের পরিমান বিশ্লেষণ।ভবিষ্যতে সফলতা পেতে এই বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ন।

success-photo1

আর এটাই অনেককে ফ্রিলান্সার হতে বাধা দেয়। চাকরীর বেপারটা এমন হয় যে , নিয়মিত এতটা থেকে এতটা আফিস করতে হবে। সপ্তাহে এত দিন বছরে এত দিন করে ছুটি পাবেন এবং এই এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। কিন্তু একজন ফ্রিলান্সারকে কে কেউ এই বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা দেবে না।

কিন্তু নিজের পরিশ্রম আর মেধা খাটিয়ে কাজ করতে পারলে আপানার স্বাধীন জীবনের বাধা বলতে কিছু থাকবে না। আর এই সব নিয়েই আজকের কথাবার্তা।

১. সুনির্দিষ্ট বেতন পাওয়ার সময়

মাস শেষে যারা সুনির্দিষ্ট পরিমান বেতন পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় তাদের যদি ফ্রীল্যান্সের দিকে আসতে বলেন তাহলে তারা নিশ্চয়তাটাকে অনেক বড় বলে মনে করবে। জীবনে যারা চ্যালেঞ্জ নিতে জানে না তারা এই দিকে ছুটে আসতে গেলে প্রথম বাধাটা হয় কবে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা পাবো। আরেকটা বেপার হলো-প্রত্যেকেরই মাসিক একটা খরচের তালিকা আছে যেটা প্রতি মাসে পাওয়াটাই জরুরী। আর এটা না হলে চলেই না।

২. কাজের সময় অসময়ের মাঝামাঝি কোন সময়

আজ একবারে ভোর সকালে উঠেই কাজে লেগে গেলাম। বর্তমানে আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ করছি। প্রতিটি আর্টিকেল প্রায় ১.৫ ডলার করে । সেই সাথে অফিসের বেপারটাও মাথায় রাখতে হয়। অফিস সকাল ১০ টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত। তারপর আবার আমার নিজের মতো করে নেওয়া। সত্যিকারার্থে নিজে একজন শুধুই ফ্রীল্যান্সার হলে কাজের সময় ও অসময়ের মাঝে কোন দাগ কাটা যাবে না। অনেক সময় ধরে সামাজিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে হবে। এক দেশের দিন..আরেক দেশের রাত তাই অনেক সময় ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ রাখতে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হতে পারে। ব্লগারদের অনককেই দেখি অনেক রাতে কাজ করছে। বন্ধুদের আড্ডার আমন্ত্রনের ঝামেলা এড়াতে অনেকে লুকিয়েও থাকেন।

৩. মার্কেটিং

অফিসে কাজ করে আমার একটা বেপার অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল যে, আমার কাজের সীমার বাইরে কোন কাজ করবো না। কিন্তু আপনাকে নিজেকে অনেক কাজই করতে হবে। প্রয়োজনে নিজের ঢোল নিজেকেই পেটাতে হবে। কিছু দিন আগেও আমি অনেকটা বর্ণচোরা ছিলাম। লোকজনের সাথে কথা বলা কাজ করার বেপারে নিজের মধ্যে জরতার অভাব নেই্আমার মধ্যে। কিন্তু এ বেপারটা থেকে সরে আসার চেস্টা চলছে। নিজেকে প্রকাশ না করলে এ ব্যবসায় উন্নতি করতে বেশি সময় লেগে যাবে।

৪. অগ্রহনযোগ্য প্রস্তাব

অনেক ধরনের প্রস্তাবই আপনার কাছে আসতে পারে। আপনি যেহেতু একজন ফ্রীল্যান্সার তাই আপনার কাজের পরিধিটা হয়তো সবাই নাও জানতে পারে তারা আপনাকে বিভিন্ন ধরেনর কাজের মজুরী নিধ্যারণ করতে পারে- যা আপনার কারা সম্ভব হলো না-অথচ এই কাজের জন্য আপনি অন্য কোন কাজ হাতে নেন নি। এরকম ঝামেলার বেপার থাকতেই পারে।

৫. এলোমেলো অনুরোধ ও কর্মসূচি

প্রত্যেক ফ্রীলান্সারেরই কোন না কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি- ক্লাইন্ট এমন কিছু চায় যা করলে বিষয়টি একবারে অসুন্দর হবে। আবার এমন কিছু চাইবে যা একবারে অসম্ভব। যদি কেউ চায় যে, তার সাইট খুবই দ্রুত লোড হবে এবং সাইটের প্রথম পাতায় কয়েকশত ছবি থাকবে তাহলে কি সেই অনুরোধ রক্ষা করা সম্ভব?

কয়েকদিন আগে এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় হলো আমার। এক বন্ধুর পরিচিত আমাকে জানালো তার সাইট একটি ওয়েবসাইট দরকার। তাকে ডোমেইন হোস্টিং আলাদাভাবে কিনে দেওয়ার পর সে আবার মত বদলালো, সাইট বানাবে না। সে বললো- হোস্টিং বিক্রি করে তাকে টাকা ফেরত দিয়ে দিতে । আমি যেখানে হোস্টিং ব্যবসার সাথে জরিত সেখানে তার হোস্টিং আমি বিক্রিকরে দেওয়ার দায় নেব কেন?

অনেক সময় কোন ক্লাইন্ট সাইটের ডিজাইন এমন রঙচঙে ভরে দিতে বলে যা দেখলে যে কেউ ডিজাইনারের সমালোচনা করবে।

কেউ কেই এমন বাজেট দেয় যা আমর মূল্যের ১০ ভাগের ১ ভাগের চেয়েও কম হয়। এ জাতীয় সকল সমস্যা একজন উন্নয়নশীল অবস্থার ফ্রীল্যান্সারের সুন্দরভাবে মোকাবেল করতে হবে।

তারপর ও ভালবাসি

এত ঝামেলার পরেও এটাকেই নিজের আসল পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাই। আমার একটি ইংরেজী লেখায় চাকরী করার কুফল বর্ণনা করেছিলাম। আরেকটা প্রকাশনায় দেখিয়েছি চাকরী জীবনের কষ্টগুলো। সেই কারনেই নিজে স্বাধীন হতে চাই ।

আপনার অবস্থান কি?

আপনি কি বলেন ? আমার কিছু লেখায় অনেক লোক দ্বিমত প্রকাশ করেছিল। এই লেখাটার সাথে আপনার মতামত দিন। আশা করি আপনার মতামত লেখাটিকে পূর্ণতা পেতে সহায়তা করবে।

comments

29 কমেন্টস

  1. হুম। টিউটো ভাই আপনার সবগুলো লেখাই মনযোগ সহকারে পড়লাম। লেখাগুলো থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নেবার আছে। আমি আপনার সাথে সম্পূর্ন এক মত। আমি ও একবার বিড়ম্বনায় পড়েছিলাম এক ক্লায়েন্টের জন্য সাইট বানাতে গিয়ে।

    • প্রথম অবস্থায় এ বিরম্বনা পোহাতে কষ্ট হয় কারণ প্রথম অবস্থায় সবাই ক্লাইন্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সাধারনত: হাতে কম কাজ থাকলে সবাই কাজটি নিতে চেস্টা করে-আর এটাকে অনেকে দুর্বলতা ভাবতে পারে। (দাম কম নেওয়াটা অনেকক্ষেত্রে দুর্বলতা ভাবাটা একবারে যে অযৌক্তিক তাও অবশ্য বলবো না।)

  2. বেশ ভালো কিছু পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছেন। অনেক ফ্রীল্যান্সারই এই বিষয়গুলো অতিক্রম করতে না পেরে ফ্রীল্যান্সিং ছেড়ে দেয়।

    • আপনাকেও ধণ্যবাদ সেতু। আশা করি সামনের পথে এগিয়ে যেতে আমরা একসাথে কাজ করতে পারবো। আমার পরবর্তি লেখাগুলোতে আপনার সুচিন্তিত মতামত চাই।

  3. যানজটের সমস্যার জন্য ফ্রীলেন্সের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্লাস বাসায় বসে নিজস্ব পরিবেশে আরাম করে করা যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে লোডশেডিং। ভাবছি নেটবুক কিনে এই সমস্যা সমাধান করবো। কি বলেন? বুদ্ধিটা ভালো না??

  4. Bux.to দিয়ে খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করুন।

    ইন্টারনেট থেকে আয়ে করার অনেক PTC (paid to click) সাইট আছে, কিন্তু এর বেশির ভাগ সাইট কোন টাকা পরিশোধ করে না। আজকে আমি এইটি PTC নিয়ে বিস্তারিতভাবেবলবো যারা টাকা পরিশোধ করে
    PTC তে কাজ করার পূর্বে আপনাকে Alertpay/ Paypal – তে একাউন্ট খুলতে । শুধু
    Alertpay একাউন্ট-ই বাংলাদেশে এখনো সাপোর্ট । তাই আপনাকে Alertpay তে একটি একাউন্ট
    খুলতে হবে। Alertpay তে চেকের মাধ্যমে টাকা তোলার সিস্টেম রয়েছে। তাই এখানে টাকা
    তুলতে কোন ঝামেলা হয় না বললেই চলে। এবারে আসুন কিভাবে আপনি একাউন্ট খুলবেন।

    Alertpay তে একাউন্ট খোলার জন্য ক্লিক করুন।
    একাউন্ট খোলার পরে মোবাইল নাম্বার ভেরিফাই করতে হবে। মোবাইল ভেরিফাই শেষ হ লে
    আপনার একাউন্ট রেডি হয়ে যাবে।

    আমি যে PTC সাইত নিয়ে বলব সেতি হলো Bux.to, সাইটটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি সাইট।
    তাদের ফোরামে অনেক বাংলাদেশী সদস্য খুজেঁ পাওয়া গেছে যারা এ সাইট থেকে টাকা উপার্জন
    করেছে। আমি এই সাইটের একজন নিয়মিত সদস্য। প্রতিদিন আপনি ২৫-৩০ টি এড’স দেখার সুযোগ
    পাবেন । প্রতেক এড আপনি দেখবেন মাত্র ৩০ সেকেন্ড, প্রতি এড জন্য আপনি পাবেন ১
    সেন্ট । সময়তো কতভাবেই নষ্ট হচ্ছে একবার না হয় একটা রিক্স নিয়েই দেখলেন।

    এই সাইটে কাজ করতে গেলে প্রতিটি এডের সাথে ৩০ সেকেন্ড এর একটি ঘড়ি দেখতে পাবেন। ৩০
    সেকেন্ড শেষ হয়ে Done লেখাটি উঠে একটি টিক চিহ্ন আসলেই বুঝবেন আপনার কাজ শেষ।
    অবশ্যই এক আইপি এবং একটি কম্পিউটারে ১ টির বেশি একাউন্ট করতে পারবেন না। নিয়ম-এর বাইরে
    কিছু করলে আপনার লগ ইন এড্রেসটি বাতিল করে দেবে।
    রেজিষ্ট্রেশন করার সাথে সাথে আপনি পাবেন একটি রেফারেল আইডি। এই আইডি দ্বারা আপনি
    আরও অনেক-কে রেফার করতে পারবেন। তাদের প্রত্যেকের আয়ের সমান পরিমান অর্থ জমা হবে
    আপনার একাউন্টে। আপনি সমান পরিমান অর্থ পাবেন যখন তারা কাজ করবে।
    তাই আর দেরি না করে সাইন আপ করুন ।
    ধরুন, আপনার একটি একাউন্ট আছে সেখানে আপনি প্রতিদিন আয় করেন মাত্র ১০ সেন্ট আর
    আপনার রেফারেল করেছেন ৫০ জনকে। এখন তারা প্রতেকে যদি মাত্র ১০ টি করে এডস ক্লিক করে,
    তাহলে যে তারা পাবে ১০ সেন্ট করে এবং আপনি পাবেন মোট ১০+(৫০*১০)=৫.১ ডলার প্রতিদিন।
    অর্থাৎ বাংলাদেশের হিসেবে ৩৫০ টাকা তাও আবার মাত্র ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করে। এবার
    সিদ্ধান্ত নিন করবেন কি করবেন না।
    http://Bux.to তে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া:
    ১. সাইটটিতে প্রবেশ করুন এরপর register লেখা বাটনটিতে ক্লিক করুন।
    ২. এরপর ফরমটি পূরন করুন।

    Selectas your Country, Bangladesh না থাকলে indea িদন কোন problem নাই, কারন টাকা আশবে Alertpayতে।
    মনে রাখবেন: Alertpay লেখা ঘরে Alertpay তে ব্যবহৃত ইমেইল এড্রেস, referrer ঘরে nishatbogra লিখুন এবং I agree লেখা চেক বক্সটি ক্লিক করুন।
    এরপর register বাটনে ক্লিক করুন।
    কিভাবে কাজ করবেন:
    ১. লগ ইন বাটনে ক্লিক করে তৈরিকৃত একাউন্টটি দ্বারা লগইন করুন।
    ২. ইউজার নেইম, পাসওয়ার্ড এবং ক্যাপচা দিয়ে ঘরটি পূরন করে লগইন করুন।

    ৩. লগইন হয়ে গেলে যে পেইজটি আসবে সেখান থেকে Surf ads বাটনে ক্লিক করুন।
    ৪. এই পেইজে যে লিঙ্কগুলো দেখতে পাচ্ছেন মূলত সেগুলোই হচ্ছে এডস। এরপর যেকোন
    এড’স ক্লিক করুন। দেখবেন কিছু সময় পরে এড’দ পেইজে ৩০ সেকেন্ডের একটি ঘড়ি চলছে। ৩০
    সেকেন্ড পরে ঘড়িটি বন্ধ হয়ে Done এবং পাশে একটি টিক চিহ্ন উঠবে। এখন আপনি পেইজটি
    Close করে একইভাবে এই পেইজের সকল এড’স দেখুন।

    ৫. সকল এড’স দেখা শেষে আপনার মোট এমাউন্ট অর্থাৎ কত সেন্ট বা ডলার হল সেটি দেখে
    নিন My Stats লিঙ্কটিতে ক্লিক করে।
    ৬. সবশেষে logout করে বেরিয়ে আসুন।
    http://www.bangladeshgirlwallpaper.blogspot.com/

  5. আর্টিকেল লেখার সহজ উপায় হল কারও লিখা একটা আর্টিকেল কপি করে তা নিজের মত করে সাজিয়ে প্রকাশ করা। এই কাজটি করার জন্য আমাদের বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হবে তার প্রথম ধাপ হল আর্টিকেল সংগ্রহকরণ। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে আর্টিকেল সংগ্রহ করতে পারি কিন্তু কোথা থেকে সংগ্রহ করলে ভাল আর্টিকেল পাওয়া যাবে তার কিছু নমুনা তুলে ধরছি। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ- http://www.dinajpurit.com/courses/article-writing/article-collect.html

  6. Are you interested in saving money on your clothing, entertainment and grocery purchases? Everyone does! The simplest way to purchase those items at the best possible price is by locating coupons that work well. Where do you look to find these great coupons? The following piece will give you coupon tips that you need to use to save money.
    Louis Vuitton Pas Cher

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.