প্রযুক্তির কল্যানে মানুষের কাজ দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। কায়িক পরিশ্রমের কাজই যে প্রযুক্তি কমাচ্ছে এমন নয়, কমিয়ে দিচ্ছে দৈনন্দিন সাধারণ কাজের চাপও।

 

যেমন অ্যাপল শুধু ফোন বা টিভিকেই স্মার্ট বানিয়ে ক্ষান্ত দিচ্ছে না, এখন পুরো ঘরকেই বানাতে চাচ্ছে স্মার্ট। অ্যাপলের উদ্দেশ্য, আপনি আপনার রুমে প্রবেশের পর নানা সুবিধা যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পান। অর্থাৎ রুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রুমের লাইট জ্বলে উঠবে। গরমের দিনে ঘুরে উঠবে ফ্যান কিংবা চালু হবে এয়ারকন্ডিশনার। টিভি চালুর সময়ও নেই! সমস্যা নেই, আপনি টিভি রুমে যেতেই তা চালু হয়ে যাবে!

 

এ ধরনের সুবিধাই দিতে চাচ্ছে অ্যাপল। তাদের নতুন প্রজেক্ট ‘অ্যাপল হোম অ্যাপ’ দিয়ে ডিজিটাল বানানো হবে আপনার ঘর। যেখানে সবকিছু হবে স্বপ্নের মতো। আপনি রুম থেকে বেড়িয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যাবে সকল লাইট, ফ্যান বা এসি। এতে করে সাশ্রয় হবে দেশের বিদ্যুতও।

 

আর হ্যাঁ, অ্যাপল হোম অ্যাপ অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করবে আইফোন। যদিও উন্নত বিশ্বে এ ধরনের অনেক লাইট বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স আছে যা এরকম সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু একেকটা প্রোডাক্ট একেক কোম্পানির হওয়ায় তা একটি মাত্র অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ছিল না। তাই অ্যাপল তাদের তূনের আরেকটি তীর বের করলো। অ্যাপল হোম অ্যাপের দ্বারাই সকল হোম অ্যাপ্লায়েন্স এককভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

 

এই অ্যাপ কাজ করবে তিনটি ভাগে যথা: রুম, হোম এবং অটোমোশন। এই তিনভাবে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যেমন আপনি যখন রুম থেকে বের হবেন তখন আপনার গাড়ির গ্যারেজের শাটার অটো খুলে যাবে। তাছাড়া ‘সিরি’ ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে আপনি মৌখিকভাবেও কাজ করিয়ে নিতে পারবেন। তাছাড়া অ্যাপের থিম চেঞ্জ করলেও পাওয়া যাবে বেশ কিছু সুবিধা। ধরুন আপনি ঘুমানোর আগে যদি নাইট সিন অন করে দেন তবে আপনার রুম তো বটেই অন্যান্য রুমেরও লাইট বন্ধ হয়ে যাবে।

 

যদিও আমাদের মতো দেশের জন্যে অ্যাপল হোম অ্যাপ একটি বিলাসী চিন্তা। কিন্তু আমাদের বিদ্যুৎ অপচয়ের হিসাব বা অভ্যাস দেখলে এ ধরনের অ্যাপ আমাদের জন্যে হতে পারতো একেবারে মনের মতো। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এ ধরনের অ্যাপ অনেক ব্যয়বহুল। আর অ্যাপলের প্রোডাক্ট সবসময়ই একটু দামী।

 

তবে অ্যান্ড্রয়েড গ্রাহকদের হতাশ হওয়ার কিছু নাই। কেননা গুগলও তাদের নিজস্ব হোম অ্যাপ নিয়ে কাজ করছে। ফলে একটা সময় এ ধরনের সুবিধা হাতের নাগালে আসবে নিশ্চয়ই। তখন আমাদের মতো দেশেও এর সফল ব্যবহার বাঁচাতে পারবে অনেক গ্যাস কিংবা বিদ্যুৎ। তখন ডিজিটাল বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে হয়তো দেখা যাবে ডিজিটাল বাড়ি।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.