মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা নয় এতো সহজ

মাত্র হাঁটতে শেখা শিশুদের জন্য সেরেব্রাল প্যালসি থাকাটা খুবই বিপদজনক। তাদের জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটা খুবই কষ্টদায়ক ও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। যেসব শিশুরা মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্তির শিকার, তাদের হাত ও পায়ের মাসলগুলোয় জড়তা থাকে, ফলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে তারা চলাফেরা করতে পারে না।

সবচাইতে বড় সমস্যাটি হচ্ছে, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয় যখন এটি দেখতে পাচ্ছে যে আপনি এটিকে আর ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। এটি তার বিভিন্ন অংশের কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং হাঁটাচলায় শিশুরা এক্সথানেই আটকে থাকে। ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, থুবি কোলবে বলেন, “মস্তিষ্কের কাজই হল তাই। আপনি যদি এটিকে ব্যবহার না করেন, তবে এটি কাজ কর বন্ধ করে দেবে।”

কিন্তু ছোট বাচ্চাদের তো এখনো ততটা বোধশক্তি হয় নি যে তারা একজন প্রাপ্তবয়স্কদের মত তাদের মস্তিষ্ক কর্মক্ষম রাখতে পারবে। তাহলে উপায়?

এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে মস্তিষ্কের মোটর যেন কাজ করতে পারে তাই কোলবে ও তার সহযোগীরা একটি নতুন যন্ত্র উদ্ভাবন করার চেষ্টা করছেন। এই যন্ত্রটি বলা হচ্ছে ‘সেলফ ইনিশিয়েটেড প্রোন প্রগ্রেসিভ ক্রওলার (SIPPC). এটির মাঝে অত্যাধুনিক প্রযুক্ত সংবেলিত করা হয়েছে এবং এর সাথে তিনটি চাকাও যোগ করা হয়েছে। এই রোবটের মাঝে বোঝার জন্য এলগরিদম দেয়া হয়েছে যেটির ফলে এটি মানুষের দেয়া সকল আদেশ তার ভাষায় অনুবাদ করে নিতে পারে।  একটি শিশুর হাত পা ছোঁড়াছুঁড়ি দেখে এটি তার দিক পরিবর্তন করে এবং শিশুটি যেদিকে যেতে চায় সেদিকে সে শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, যেসব শিশুরা এই রোবটের সাহায্য নিচ্ছে তারা অনেক উন্নয়ন সাধন করছে হাটাচলার ক্ষেত্রে। যেসব শিশুরা একটি সাধারণ রোবটের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করে তাদের চাইতে অন্তত এক মাস আগেই এই সাহায্য নেয়া শিশুরা একটি ঘরে চলাফেরা করতে শিখে যায়। শিশুটির ১৪ মাস বয়সেই এটি কোন কিছুর সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে হামাগুড়ি দিতে শিখে ফেলে।

বিজ্ঞানীরা চাইছেন এখন এই প্রযুক্তিটিকে যাতে আরো উন্নত করা যায়। তারা আরো ৮০টি বাচ্চা নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন।

অ্যান্ড্রু ফ্যাগ, যিনি এই প্রকল্পটির একজন সহযোগী, তিনি বলেন, “আমরা মনে করি যে খুব সহজেই এই প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা প্রতিটি শিশুকে হাঁটাচলায় সাহায্য করতে পারব যারা এই সমস্যায় ভুগছে।”

 

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.