সম্প্রতি একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিশুদের মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার এবং চোখের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্টের মধ্যে এক ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। সিউলের চোনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের চিকিৎসকদের মতে, শিশুর মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে দুই চোখের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ঘটতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্বাভাবিক চোখ নিয়ে জন্ম নিলেও পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শিশুর দুই চোখের মধ্যে মিল থাকছে না। ধীরে ধীরে তারা টেড়া-চোখা (ক্রস-আইড) হয়ে উঠছে। ‘স্ট্রাবিমাস’ সাধারণভাবে এটি টেড়া-চোখা বা ক্রস-আইড অথবা ওয়াল-আইড নামে পরিচিত। এটি চোখের এক ধরনের দৃষ্টিজনিত সমস্যা। এ সমস্যায় ভুক্তভোগীরা চোখ একই সাথে নাড়াতে থাকলেও তাদের দুই চোখের দৃষ্টির দিক ভিন্ন মনে হয়। যদিও মানুষের চোখ সাধারণত সব দিকে একই সাথে নড়াচড়া করে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, স্মার্টফোন আসক্ত শিশুরা ডিভাইস ব্যবহারের সময় মুখাবয়ব থেকে ৮-১২ ইঞ্চি দূরত্বে ধরে, যা দৃষ্টিশক্তির জন্য ক্ষতিকর। অন্তত দুই মাস স্মার্টফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলার পর একই শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিলে তাদের ১২ জনের মধ্যে ৯ জনই সচেতন ও নিরাপদ দূরত্বে ধরে ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, স্মার্টফোন স্ক্রিনের দিকে একটানা ৩০ মিনিটের বেশি সময় তাকানো কারো জন্যই নিরাপদ নয়। জন্মের পর স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী শিশুর দুই চোখের দৃষ্টিতে আকস্মিক তারতম্য দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.