কোডাক নামটি শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে হলুদ রঙের একটি ছোট প্যাকেট যেটাতে থাকতো ফিল্ম। আমাদের অনেক স্টুডিওর ব্র্যান্ডিংয়েও এই হলুদ রঙের ছোঁয়া দেখা যায়। কেননা সেটা করে দিতো কোডাক। আমাদের দেশে দুটি রঙের স্টুডিও ব্র্যান্ডিং দেখা যায়। একটি সবুজ রঙের, যেটা করে ফুজি ফিল্ম। আরেকটি দেখা যায় কোডাকের নিজস্ব রঙ হলুদ।

এই কোডাক যে শুধু অ্যানালগ ক্যামেরার ফিল্মের জন্যেই বিখ্যাত তা কিন্তু নয়। কোডাক বিখ্যাত তার ক্যামেরার জন্যেও। যদিও আমাদের দেশে কোডাক অতোটা জনপ্রিয় ছিলনা কিন্তু বিশ্বব্যাপী কোডাকের ক্যামেরার আলাদা শুনাম ছিল। ‘ছিল’ বললাম এই কারণে আসলে স্মার্টফোনের যুগে ম্যানুয়াল ক্যামেরার ব্যবহার মানুষ ভুলেই গেছে। আর যদিওবা ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় তবে তা সীমাবদ্ধ শুধু ডিজিটাল ক্যামেরাতে। তাই কোডাকের ব্যবসা এখন আর আগের মতো নেই।

তাই বলে কোডাক তার ব্যবসা গুটাচ্ছে না। কোডাক তার ক্যামেরার ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে চায় স্মার্টফোনের মাধ্যমে। শুধু ক্যামেরার মানের মাধ্যমেই নয়, কোডাক তার সবচেয়ে পুরোনো এবং জনপ্রিয় একটি ক্যামেরার আউটলুক ফিরিয়ে আনছে আধুনিক স্মার্টফোনে।

১৯৪১ সালে বাজারে আসা ‘একট্রা’ নামের জনপ্রিয় সেই ক্যামেরার আদলে কোডাক আনতে যাচ্ছে তাদের পরবর্তী স্মার্টফোন। পরবর্তী বলার কারণ হচ্ছে কোডাক ইতিমধ্যেই তাদের একটি স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে যার নাম আইএম-৫। এবারের ফোনও আইএম-৫ এর মতোই ডিসপ্লে বা অন্যান্য সুবিধা থাকবে। শুধু এর ডিজাইনে আসবে বৈচিত্র্য।

ডিজাইন করেছে ‘বুলিট’ নামের ইংল্যান্ডের একটি কোম্পানি, যারা ডিজাইনের জন্যে খুব বিখ্যাত। রোলসরয়েসের মতো কোম্পানির কাজও এরা করে থাকে। স্মার্টফোনটি দেখতে অনেকটা ১৯৪১ সালের একট্রা ক্যামেরার মতো। যার বডি ডিজাইন আজকালকার স্মার্টফোনের মতো মেটাল কিংবা ডায়মন্ড পলিশ নয় বরং সেই পুরনো ধাঁচের চামড়ার কেসিং। অনেকটা চামড়ায় মোড়ানো ক্যামেরার মতো, যা এক সময় বিয়ে বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দেখা যেত। এমনকি সাংবাদিকরাও এ ধরনের চামড়ার আউটলুকের ক্যামেরা ব্যবহার করতেন।

তাই যারা ‘এন্টিক’ জিনিস পছন্দ করেন বা সংগ্রহ করেন তাদের জন্যে এটা একটা বিশাল সংগ্রহ। আর সত্যি বলতে কি যদিও এর নির্মাতা ক্যামেরা কোম্পানি তবুও কোডাক বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছে, ‘আমাদের প্রতিযোগিতা আইফোন কিংবা গুগল পিক্সেলের সঙ্গে নয়। বরং আমাদের একট্রা যারা পছন্দ করতেন তাদের কাছেই যেতে চাই। যারা তাদের মোবাইল হাতে নিয়ে পেতে চান ক্যামেরার অনুভুতি কিংবা নস্টালজিয়ায় ভুগতে চান চল্লিশ বা পঞ্চাশ দশকের সেই ফ্যাশনের দুনিয়ায়।’

তবে নস্টালজিয়ার সঙ্গে কিন্তু আধুনিকতার কমতি নেই। ২১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, সনির উন্নত মানের লেন্স (ফোকাল ২), অ্যান্ড্রয়েড মার্সম্যালো, ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৩২ জিবি রম। ৪৪৯ ডলারের এই মোবাইল ইউরোপের বাজারে আসবে এই ডিসেম্বরে আর আমেরিকাতে আসবে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যা কোনোভাবেই বাজারের আধুনিক স্মার্টফোন থেকে আপনাকে পিছিয়ে রাখবেনা।।

বরং আধুনিকতার সঙ্গে নান্দনিকতার মিশেল আপনাকে নিয়ে যাবে সেই পঞ্চাশের দশকে। যখন বড় বড় কলারের শার্টে ও ঢোলা প্যান্টের সঙ্গে বিশাল আকৃতির গগলস চোখে, কাধে ঝুলতো চামড়ার ডিজাইনে মোড়া ক্যামেরা। সুতরাং কোডাক তার ঐতিহ্যের সঙ্গে ব্যবসার যোগসূত্রের মাধ্যমে হলেও আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছে ক্ল্যাসিক এক ফোন। যাকে স্মার্টফোন বলার চেয়ে ‘ক্ল্যাসিক’ ফোন বললেই বোধহয় বেশি ভালো হয়।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.