প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আমাদের তার নতুন সব উদ্ভাবন দিয়ে বিস্মিত করে যাচ্ছে। কিছু কিছু উদ্ভাবন যেমন আমাদের আবেগ থেকে বিচ্যুত ঘটায় আবার কিছু উদ্ভাবন আমাদের আবেগের সাগরে ভাষায়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কিছু গবেষক কম্পিউটারকে এমন ভাবে তৈরি করেছেন যাতে যে কারো হাতের লেখা কপি করে হুবহু সেভাবে লিখতে পারে। আধুনিক স্ক্যানের যুগে আপনি হয়তো ভাবছেন, এটা কোনো ব্যাপার হলো? হাতের লেখা স্ক্যান করে দিলেই তো হয়!

 

কিন্তু গবেষকরা এমন এক প্রোগ্রাম আবিস্কার করেছেন, যেটাতে প্রথমে আপনার হাতের লেখা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ইনস্টল করা হবে। এরপর আপনি কম্পিউটারে যে লেখাই টাইপ করুন না কেন, তা হবে হুবহু আপনার হাতের লেখার মতো। অর্থাৎ আপনি কাউকে আপনার হাতের লেখার চিঠি দিতে চাইছেন। কিন্তু হাত আর আগের মতো চলেনা। তার চেয়ে আপনার আঙুলগুলো কিবোর্ডে বেশি সক্রিয়, তাহলে এটা হবে আপনার জন্যে দারুন এক প্রোগ্রাম।

 

শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলোতে এখনো কিছু সেবা পেতে নিজ হাতে লেখা চিঠি পাঠাতে হয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা দেবে এই সফটওয়্যার। গবেষকরা এভাবেই এই অ্যালগরিদম প্রোগ্রাম করেছেন।

 

আর সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রোগ্রাম ফিরিয়ে আনতে পারে প্রয়াত কিংবদন্তির লেখা। আমেরিকানরা যেমন শার্লোক হোমসের জনক আর্থার কোনান ডয়েল কিংবা আব্রাহাম লিঙ্কনের লেখা নিয়ে এই গবেষণা করেছেন।   গবেষক দলের প্রধান টম হেইন্স এবং তার দল এই প্রোগ্রামের নাম দিয়েছেন ‘মাই টেক্সট ইন ইয়োর হ্যান্ডরাইটিং’। এমনকি যাদের লেখা কপি করা হবে, তারা যে শব্দগুলো হয়তো কোনোদিন লেখেননি এই সফটওয়্যার দিয়ে লেখা যাবে সেটাও। এটা প্রতিটি অক্ষর এবং তার সঙ্গের বাঁক খুব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে কপি করে। এমনকি কেউ যদি তার লেখায় কোনো বিশেষ অক্ষর একেক জায়গায় একেক ভাবে লিখে থাকে এই সফটওয়্যার সেটাও খুব সুন্দরভাবে আয়ত্তে নিতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো, তবে কী এটা দুর্নীতিকে উস্কে দিল? কেউ চাইলে অন্যের হাতের লেখা কপি করে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বা টাকা-পয়সা তুলে নিতে পারবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না! কেননা এই সফটওয়্যার যতই নিখুঁত হোক বিশেষ মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে একে ধরা যাবে। ব্যাংক বা অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় তাতে এটা সহজেই ধরা যাবে। তাহলে লেখার প্রথমেই যে বলা হলো, ব্যাংকের প্রয়োজনীয় চিঠিগুলো লেখা যাবে এই সফটওয়্যার দিয়ে? হ্যাঁ, সেটা আপনি অবশ্যই পারবেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংক আপনার সঙ্গে কনফার্ম করে নিবে আপনি নিজে কী এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট চিঠি পাঠিয়েছেন কিনা? তবে এই সফটওয়্যার এর আসল ব্যবহার কিন্তু এ কাজে নয়। আপনি ব্যাংকিং কাজ সারতে পারবেন কী পারবেন না সেটা ভবিষ্যত বলে দেবে। কিন্তু প্রয়াত প্রিয় লেখক কিংবা স্বজনের হাতের লেখা যে ফেরাতে পারবে সেটা নিশ্চিত। আপনি হয়তো এমন কারো হাতের লেখায় দেখতে চাইছিলেন, আমি তোমাকে ভালবাসি! কিন্তু সেটা কোনো ভাবেই সম্ভব হয়নি, এমনকি সে বেঁচে থাকার পরও…। এই সফটওয়্যার কিন্তু আপনার আবেগের মূল্য দিয়ে সেটা করে দেবে নিমিষেই!

comments

কোন কমেন্ট নেই

LEAVE A REPLY

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.