যারা ল্যাপটপ বা নোটবুক এর জগতে কম বেশি ঘোরাফেরা করেন তাদেরকে আর নতুন করে বলার কিছু নাই এই ম্যাকবুক এর ব্যাপারে। বিশেষ করে প্রফেশনালদের জন্য তো অসাধারন এক জিনিস। প্রধানত এর আকর্ষন ছিল এর অস্বাভাবিক দ্রুতগতির জন্য এবং আউটলুকের জন্য। আমার মনে হয় না, এমন কোন প্রযুক্তি-প্রেমী আছেন যে ম্যাকবুক এর চেহারা দেখা মনে মনে তা পাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন নাই।

এতদিন পর্যন্ত এর প্রসেসর শুধুমাত্র ছিল কোর টু ডুয়ো পর্যন্ত। সম্প্রতি কম্পানীটি বাজারে কোর টু ডুয়োর গন্ডি থেক বের হয়ে এসে এখন কোর আই সিরিজের প্রসেসরের দিকে ঝুকেছে। আর তাই এখন আরো অনেক বেশি গতি সম্পন্ন, আরো অনেক বেশি ফাস্ট। গ্রাফিক্স আগের তুলনায় ৩ গুন দ্রুতগতির। খুবই ক্ষুদ্র ফেসটাইম ক্যামেরা আর সাথে মাল্টিটাচ ট্রাকপ্যাড ও শক্তিশালী ব্যাটারী।

Macbook Proএখন দেখা যাক কেন এই  ম্যাকবুক প্রো অন্য আর সবার থেকে আলাদা! সবচেয়ে পিকুলিয়ার ব্যাপারটা হচ্ছে, এর প্রশস্ততা। মাত্র ১.৫ থেকে ০.৭ ইঞ্ছি এর পুরুত্ত্ব। অসাধারন চকচকে এর এলুমিনিয়ামের তৈরি পৃষ্ঠগুলো। পুরো নোটবুকটাই যেন একটা একক জিনিস, আলাদা আলাদা পার্টস বলতে গেলে নাই, পুরোটাই একটা পার্টস। এর স্ট্রেন্থ এবং লঞ্জিবিটি অন্যান্য নোটবুক গুলোর চেয়ে অনেকাংশেই বেশি।

Macbook proMacbook Proএর ফেসটাইম এইচ.ডি ক্যামেরাটাও অসাধারন। এটার প্রশস্ততা বাজারের লেটেস্ট আইফোন ৪ এর চেয়েও অনেক কম। সাথে আছে ম্যাগনেটিক ল্যাচ যেটা খুব সহজেই এর লিডটাকে আটকে রাখতে সহায়তা করে।

নতুন ২.৩ থেকে ২.৭ গিগাহার্টয এর প্রসেসর গুলো আগের প্রসেসর গুলো থেকে অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী। আগের প্রসেসরগুলোর চেয়ে এর ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুন এখন, এর টার্বো বুস্ট ক্ষমতা অনেকাংশেই ৩.৪ গিগাহার্টয পর্যন্ত।

এর ট্রাকপ্যাডটাও অসাধারন। শুধুমাত্র আঙ্গুলের কারসাজিতেই হয়ে যাবে ছবি জুম, রোটেট করা যাবে ছবি। এবং সব ধরনের লোকই সে, যেই ধরনেরই নোটবুক ব্যাবহার করে অভ্যস্ত হোক না কেন, এই ট্রাকপ্যাড এ আসলেই অসাধারন সেটা ব্যাবহার মাত্রই টের পাবে।

Macbook Pro Trackpadআবার অনেকেই এই ম্যাকবুক বেছে নেয় এদের লং লাস্টিং ব্যাটারীর জন্য। এমনকি পুরো নোটনুকের ১০০% প্রসেসর এবং সম্পুর্ন ভিডিও গ্রাফিক্স একসাথে ব্যবহৃত হলেও এর ব্যাটারী একাধারে ৭ ঘন্টা ব্যাকআপ দিয়ে যেতে পারে। এবং একটা ব্যাটারী কমপক্ষে ১০০০ বার পর্যন্ত ফুল চার্জ এবং ফুল ইম্পটি সাইকেল সম্পন্ন করার মত ক্ষমতা রাখে যেটা অন্যান্য সাধারন নোটবুকের তুলনায় প্রায় ৩ গুন বেশি।

এর থান্ডারবোল্ট ডাটা ট্রান্সফার টেকনোলজিটাও অসাধারন, এটা একটা ১০ গিগাবাইট ডাটা ট্রান্সফার চ্যানেল, যেটা অন্যান্য লেটেস্ট ওয়ারলেস টেকনোলজি থেকেও ১২ গুন দ্রুতগতি সম্পন্ন। এর ওজনটাও বেশ কম, প্রায় ২.৫ কেজি এবং অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও কম।

thunderboltএইবার আসেন এত গুন সম্পন্ন জিনিসটার দামটা কেমন হতে পারে? ধারনা করতে পারেন? না আসলেই অনেক বেশি না, বরং আমাদের ক্রয় ক্ষমতার ভিতরেই বলে আমি মনে করি। ৮৫০ থেকে ১২০০ ইউ এস ডলার অর্থাৎ আমাদের হিসেবে ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকার ভিতরেই।

তো কি বলেন? কিনে ফেলা যায় একটা? আমার নেক্সট সিরিয়ালে আছে এইটাই আর তাই এই পোস্টটা লেখা!

comments

3 কমেন্টস

  1. অসাধারণ একটি পোষ্ট লিখেছেন সাইফ ভাইয়া। আমি গত কয়েকদিন আগে অবশ্য ম্যাকবুক এয়ার কিনেছি। আমার কাছে ম্যাক এয়ারের লুকটা অনেক বেশী ভালো লেগেছে। কিন্তু আপনি যে দাম দিয়েছেন এই দাম বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশে ৯৫,০০০ এর মতো দাম লাগবে কিনতে গেলে। 🙂

    • হু, এটা জাস্ট একটা আনুমানিক দাম মাত্র।

      যাই হোক, আপনার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.