মোবাইলের চার্জ কি যখন-তখন ফুরিয়ে যায়? তবে সঙ্গে রাখতেই পারেন একটি পাওয়ার ব্যাংক। তবে আজকাল একটু ভাল রেঞ্জের মোবাইলের ব্যাটারি মোটামুটিভাবে ৪০০০ এমএএইচ-এর আশপাশে থাকে। সেখানে পাওয়ার ব্যাংকের ক্যাপাসিটি যদি ৫০০০ হয় তবে একবার ফুলচার্জ দিয়ে নিলেই কিন্তু ফুড়ুৎ। তখন পাওয়ার ব্যাংকটিকেই আবার চার্জে বসাতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে একটি ভাল মোবাইলের নিজস্ব ব্যাটারি ব্যাক-আপ যথেষ্ট ভালই থাকে। সেখানে দিনে একবার ফুলচার্জ দিয়ে নিলেই তো সমস্যা মিটে যায়। তাহলে পাওয়ার-ব্যাংকের প্রয়োজন কী?

প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রেই পড়তে পারে। আসলে মোবাইলে কতটা পাওয়ার খরচ হচ্ছে তা একেবারেই নির্ভর করে মোবাইলটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর। যদি প্রচুর অ্যাপ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়, গেম খেলা হয় অথবা বহুক্ষণ ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় তবে পাওয়ার দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। এছাড়া টানা অনেকক্ষণ ধরে কথা বললেও ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমতে থাকে। পেশাবিশেষে এবং কাজের ধরনবিশেষে মোবাইলের ব্যবহারের তারতম্য হয়। আর ব্যাটারিক্ষয়ও একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিন্তু সেটা যেমনই হোক না কেন, একটি পাওয়ার ব্যাংক হাতের কাছে রাখাটা খুবই দরকারী।

বাজারে পাওয়ার ব্যাংকের কমতি নেই। নামী-দামি বহু ব্র্যান্ডেরই পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায় কিন্তু পারফরম্যান্স সকলের সমান নয়। স্টার রেটেড পাওয়ার ব্যাংকগুলির মধ্যে রয়েছে লেনোভো ৫০০০ এমএএইচ বা এম আই ৫২০০ এমএএইচ। প্রথমটির দাম বেশ কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিল ২৫০০ টাকার আশপাশে যদিও এখন ১১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। দ্বিতীয়টির দাম ৬০০ টাকার আশপাশে। এর থেকে সস্তায় অনামী কোম্পানির পাওয়ার ব্যাংকও পাওয়া যায়। ২০০ টাকা বা ৩০০ টাকাতেও পেতে পারেন পাওয়ার ব্যাংক তবে সেগুলি খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। তাছাড়া এই দামে ২০০০ এমএএইচ-এর পাওয়ার ব্যাংকও রয়েছে যা আদতে একেবারেই কাজের নয়। ভাবুন, ফোনের ব্যাটারি যদি ২৫০০ এমএএইচ হয় আর পাওয়ার ব্যাংক হয় ২০০০ এমএএইচ তবে পাওয়ার ব্যাংক ফোনটিকে চার্জ তো করবেই না, উলটে ফোনের চার্জ ক্ষইয়ে দেবে।

তাছাড়া যদি ৫০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক ৬০০ টাকা দিয়ে কেনা হয় এবং ফোনের ব্যাটারি হয় ৩০০০ এমএএইচ, তবে কিন্তু একবার চার্জ দেওয়ার পরে আর সেই পাওয়ার ব্যাংকে মোবাইল চার্জ করা মুশকিল হবে। পাওয়ার ব্যাংকটিকে আবার চার্জে বসাতে হবে। তাছাড়া ধরুন কাজের সূত্রে বা বেড়াতে আপনি গিয়েছেন এমন কোনও জায়গায় যেখানে কোনও চার্জ দেওয়ার কোনও জায়গাই নেই। তখন কিন্তু এই ৫০০০ এমএএইচ-এর পাওয়ার ব্যাংক কোনও কাজে লাগবে না। এই সব কারণেই পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় কেনা উচিত ১০০০০ এমএএইচ বা তার বেশি ক্যাপাসিটির। ২০০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংকও রয়েছে বাজারে।

সম্প্রতি এদেশে লঞ্চ করেছে এমআই ১০০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক যার দাম ১২৯৯ টাকা। এছাড়া রয়েছে অনর-এর ১৩০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক (১৩০০ টাকা) অথবা সোনির সিপি-এস২০ ২০০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক যার দাম ৫ হাজার টাকার বেশি। তবে যেহেতু একটি পাওয়ার ব্যাংক মোট ৫০০বার চার্জ করতে পারে তাই এক একটি পাওয়ার ব্যাংকের শেলফ লাইফ মোটামুটি দেড় বছর থাকে যদি প্রতিদিনই এতে চার্জ দেওয়া হয়। তাই যদি কেউ একটি ফোন ব্যবহার করেন যার ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ৫০০০ এমএএইচ-এর মধ্যে তবে ১০০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক তাঁর পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু যদি কেউ দু’টি ফোন একসঙ্গে ব্যবহার করেন এবং ফোনগুলির এক একটির ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ৪০০০ এমএএইচ থেকে ৫০০০ এমএএইচ হয়, তবে তাঁর ২০০০০ এমএএইচ-এর পাওয়ার ব্যাংক কেনাই ভাল। যাঁরা ক্যাম্পিং বা ট্রেকিং করেন নিয়মিত, তাঁদের জন্যেও ভাল ২০০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক।

কোন পাওয়ার ব্যাংক প্রয়োজন তা একেবারেই নির্ভর করছে ইউজারের জীবনযাত্রা, কী ধরনের ফোন রয়েছে তাঁর এবং ফোনের ব্যবহার কেমন তার উপরে। তবে আর যাই হোক না কেন, একটু ভাল ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক কেনাই ভাল এবং সব সময় ফোনের ক্যাপাসিটির থেকে দ্বিগুণ ক্যাপাসিটির পাওয়ার ব্যাংক কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.