আধুনিক শল্যচিকিৎসার যন্ত্রাদি আবিষ্কার করেন কাসিম ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
আরবের মুসলিম বিজ্ঞানীরা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অনেক আবিষ্কার ও তত্ত্ব ইউরোপীয়রা ধারণ করে নিজেদের মাঝে আত্তীকরণ করেছেন এবং পুনরায় রিফর্মেশনের সাহায্যে আরো আধুনিক করছেন। তবে মধ্যযুগীয় আরব এই মুসলিম বিজ্ঞানীদের কথা অনস্বীকার্য। গত পর্বে আপনাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কথা বলা হয়েছিল। আজ দেয়া হল এটির শেষ পর্বঃ
১) ম্যাগনিফাইং গ্লাস বা আতশি কাঁচঃ 
হাসানের আতশি কাঁচ  ছবি সুত্রঃ ইন্টারনেট
হাসানের আতশি কাঁচ
ছবি সুত্রঃ ইন্টারনেট
আরবরা কেবলমাত্র গণিতই নয়, আলোকের বিভিন্ন শাখায়ও তারা অবদান রেখেছেন। আমাদের দৃষ্টি কিভাবে কাজ করে, অর্থাৎ আমরা কিভাবে কোন বস্তুকে দেখতে পাই, তা নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন বসরা নগরীর আবু আল হাসান। ইউরোপীয়দের কাছে তিনি ‘আল হাজেন’ নামেও পরিচিত।
তিনিই সর্বপ্রথম বলেন যে আমাদের চোখ থেকে কোন আলো নির্গত হয় না বরং বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে তা আমাদের চোখে এসে পড়ে। ফলে আমরা কোন বস্তুকে অতি সহজে দেখতে পায়।
আজকের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের যে ধারণা, তা এসেছে হাসানের আতশি কাঁচের তত্ত্ব থেকে। আমরা কোন কিছু পড়ার সময় যে রিডিং গ্লাস ব্যবহার করি, তাও এই হাসানের আবিষ্কার।
২) কফিঃ 
কফি ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
কফি
ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
আজকের দিনে আমরা জানি কফি সবচেয়ে ভালো চাষ হয় ব্রাজিলে। কিন্তু আপনার জানা আছে কি, প্রথম কফির চাষ হয় ইথিওপিয়াতে? তখনকার আরব মুসলিমরা চা রপ্তানীতে ছিল বিশ্বসেরা।
ধারণা কর হয় যে অটোমান সাম্রাজ্যের এক বণিক ১৭ শতাব্দীর দিকে প্রথম ইউরোপে কফি বীজ নিয়ে আসেন। সেখান থেকে আস্তে আস্তে কফির চাষ সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পরে।
৩) হাসপাতালঃ 
আধুনিক হাসপাতালের ধারণা আরব মুসলমানদের ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
আধুনিক হাসপাতালের ধারণা আরব মুসলমানদের
ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
তুলুনিদ সাম্রাজ্যের স্থাপিত প্রথম হাসপাতালের নাম হচ্ছে আহমদ ইবন তুলুন হাসপাতাল। আধুনিক যুগের হাসপাতালে আমরা যেমন সেবিকা, ওয়ার্ড, ডাক্তার ইত্যাদি সংবলিত একটি অবস্থান দেখি, তুলুন হাসপাতালেও ঠিক তেমন একটি পর্যায় গড়ে তোলা হয়েছিল। ৮৭২ সালে এটি প্রথম স্থাপিত হয়।
এর পরবর্তীতে বাগদাদে আরো নতুনভাবে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
৪) শল্যচিকিৎসার যন্ত্রাদি উদ্ভাবনঃ 
মধ্যযুগীয় শল্যচিকিৎসকদের মাঝে একটি গুরত্বপূর্ণ নাম হচ্ছে আবু আল কাসিম। ইউরোপীয়দের কাছে তিনি আলবুকাসিস নামে পরিচিত। কাসিমের জন্ম আন্দালুসিয়ার প্রান্তরে। চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে বেশ কিছু বই তিনি লিখেছেন। আধুনিক শল্য চিকিৎসকদের কাছে অন্যতম পাথেয় হয়ে আছেন আল কাসিম। তিনি তার বইতে লিখেছেন একজন ডাক্তার ও রোগীর মাঝে কেমন বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক হওয়া উচিৎ এবং সকল মত বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে ডাক্তারদের সেবা দেয়া উচিত। আজকের যুগের একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী যে “ওথ” বা সংকল্প নিয়ে থাকে, তা আবু আল কাসিমেরই ধারণা।
এছাড়াও শল্য চিকিৎসা আরো নিপুণভাবে করার জন্য তিনি বেশ কিছু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন।
সূত্রঃ হাফিংটন পোস্ট
comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.