ব্যবচ্ছেদকৃত টালি মনস্টারের ফসিল ছবি সূত্রঃ মাই ফসিল

টালি মনস্টার বা টালি দানব- সমুদ্রে বিচরণ করত আজ থেকে প্রায় ৩০৭ মিলিয়ন বছর আগে।অনেক বিজ্ঞানীদের কাছে টালি এখনো একটি বিস্ময়।এর শারীরিক গঠন খুবই বিস্ময়কর। চোখগুলো হ্যামারহেড তিমির মত এবং মুখটি বেশ সূচালো।বিজ্ঞানীদের একে কোন পর্বভুক্ত করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল কিন্তু অবশেষে তারা এটির একটি গোত্র খুঁজে পান দুই বছর আগে।বিজ্ঞানীদের রায়ে এটি জলজ একটি স্তন্যপায়ী মেরুদন্ডী প্রাণীর মাঝে স্থান পেয়েছিল।

শিল্পীর তুলিতে সমুদ্রে বিচরণকারী টালি মনস্টার ছবিসূত্রঃ লাইভ সাইন্স
শিল্পীর তুলিতে সমুদ্রে বিচরণকারী টালি মনস্টার
ছবিসূত্রঃ লাইভ সাইন্স

প্যালেওন্টোলজি নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে যে বিজ্ঞানীরা এতোদিন যা বলে এসেছেন তা ভুল।তাদের তথ্যমতে টালি মনস্টার বা টালিমনস্ট্রাম গ্রেগারিয়ামের কোন মেরুদন্ডই নেই!এটি একটি অমেরুদন্ডী প্রাণী।গবেষণার অন্যতম একজন গবেষক লরেন স্যালান বলেন,”এই প্রাণীটিকে কোন ধরণের প্রজাতিতেই সহজে অন্তর্ভুক্ত করা যাচ্ছে না কারণ, এটির মেরুদণ্ড নেই।এটির চোখ কিংবা সূচালো নাক দেখে অন্তত এটি বলা যায় যে এটি একটি মৎস্য প্রজাতির প্রাণী।”

কিভাবে টালি মনস্টার পাওয়া গেলঃ
প্রায় ৬০ বছর ধরে এই প্রাণী বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে সমর্থ হয়েছে।নবিশ ফসিল সংগ্রাহক ফ্রান্সিস টালি ১৯৫৮ সালে ইলিনয়ে সর্বপ্রথম এই মাছের একটি নমুনা সংগ্রহ করেন।ইলিনয়ের মানুষ এতই অভিভূত হয়ে গেল যে তারা এটিকে তাদের “রাজ্য ফসিল” হিসেবে ঘোষণা করে দিল।এমনকি এখনও তাদের কিছু কিছু ইউ-হোল ট্রাকের পার্স্বদেশে টালি মনস্টারের ছবি দেখা যায়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে,এটি আসলেই কোন ‘দানব’ কি না তা নিয়ে কেউ এখনো কোন উপযুক্ত প্রমাণ প্রদর্শন করতে পারেন নি।কেউ কেউ এটিকে বলেন কীট, কেউ কেউ বলেন খোলকবিহীন শামূক আবার কেউ বা এটিকে লবস্টার, মাকড়সা এবং পতঙ্গের সাথে তুলনা করেছেন।

মেরুদন্ড আসলেই নেই?:
২০১৬ সালের মার্চ থেকে গবেষকরা এই প্রাণীটিকে গবেষনা শুরু করেন।তাদের একটি পরীক্ষায় দেখা যায় এর পিঠ থেকে শুরু করে শেষাংশ পর্যন্ত একটি লাল রেখা চলে গিয়েছে।তারা ভেবেছিলেন এটি নটোকর্ড, যার কারণে এটিকে মেরুদন্ডী প্রাণী হিসেবে বলা হত।কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, এটির মেরুদন্ডই নেই!

তথ্যসূত্রঃলাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.