সৌরজগতের সবচেয়ে ভেতরের গ্রহ বুধ। আবার সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ হলেও এর পৃষ্ঠদেশ অস্বাভাবিক রকম আবছা। যেখানে অতিরিক্ত উত্তাপে গ্রহটির উজ্জ্বল হওয়ার কথা, সেখানে কেন এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন বুধের গতর (শরীর)। সম্প্রতি সে রহস্যের ‘মোক্ষম জবাব’ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, কাঠপেন্সিলের শিষ (যা দিয়ে আঁক টানি আমরা) যা দিয়ে গড়া, সেই গ্রাফাইটই মুড়ে রেখেছে সবচেয়ে ছোট্ট গ্রহের বাইরের পিঠকে। নাসার মার্কারি মেসেঞ্জার মহাকাশযানের তথ্য-উপাত্ত ও ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গ্রহটির কঠিন আদি ভূত্বকের ধ্বংসাবশেষই হতে পারে আজকের বুধপৃষ্ঠের গ্রাফাইট, যা কার্বনের এক রূপ।

সংশ্লিষ্ট গবেষকরা তাদের এই দাবি তুলে ধরেছেন নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে । গবেষণায় দলনায়ক প্যাট্রিক পেপলোভস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা গবেষণাগারের (এপিএল) বৈজ্ঞানিক। সতীর্থদের সঙ্গে তিনি মেসেঞ্জারের সংগৃহীত বুধের কালচে অঞ্চলের তথ্য ও ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। অভিযানের শেষভাগে এসব তথ্য সংগ্রহ করে ওই মহাকাশযান। ২০১১ সালে শুরু হওয়া অভিযানটি শেষ হয় ২০১৫ সালে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বুধের ঘনকালচে আবরণটা আদতে কার্বনসমৃদ্ধ। এর সঙ্গে বড় ধরনের আগ্নেয়গিরির সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকরা এও বুঝতে পারলেন, এই বস্তুটা গ্রহটার ভূপৃষ্ঠের ভেতর থেকে আসছে। যখন মহাশূন্য থেকে পাথর আছড়ে পড়ে গ্রহটির গায়ে, তখন পৃষ্ঠ ফেটে ওই পদার্থ বেরিয়ে আসে।

পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ কিংবা অন্যান্য অন্তর্বর্তী গ্রহদের (শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল- যারা তুলনামূলক সূর্য থেকে কম দূরত্বের কক্ষপথ দিয়ে ঘোরে) উত্তপ্ত মহাসাগর ছিল, যখন এরা বয়সে শিশু ছিল। সৃষ্টির শুরুর দিকে এদের পৃষ্ঠ ছিল খুবই উত্তপ্ত। বুধের বেলাও এ কথা খাটে।

এপিএলের বিজ্ঞানী রাচেল ক্লিমা বলেছেন, ‘এই উত্তপ্ত মহাসাগর একসময় ঠাণ্ডা হয় ও খনিজ উপদানাগুলো স্ফটিক হতে শুরু করে। এভাবে সব খনিজই ক্রমে ভূপৃষ্ঠের নিচে চলে যায়। শুধু ব্যতিক্রম গ্রাফাইট। এরা বরং ভাসতে থাকে। এবং সৃষ্টি করে বুধের আসল ভূত্বক।’

তথ্যসূত্র : বিবিসি সায়েন্স।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.