যদি আমরা ভূতে বিশ্বাস না করি তবে অবশ্যি আমাদের সেই সব মানুষদের জানা উচিত যারা বলছেন ভূত আছে। মানুষ সাধারনত অবাস্তব কাহিনীর জন্ম দেয় তার কল্পনাশক্তির উপর ভর করে। ভূতরা জন্মের আদিলগ্ন থেকেই আছে কিন্তু বিজ্ঞানের কাছে তার ব্যাখ্যা নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূত শিকারীরা ভূত শিকার করে চলেছেন। তারা ছবি, ভিডিও এবং ভূতের কথা তুলে বেড়াচ্ছেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে, ভুয়া ভূত শিকারীরা একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। তাই ভূতের অস্তিত্ব মানেই ভুয়া কথা হয়ে দাড়িয়েছে। যারা বিজ্ঞানের লোক তারা অবিশ্বাসের সাথে সব যুক্তি নাকচ করে।

2010-10-22_002826

বৈজ্ঞানিক যুক্তি

শক্তি বিভিন্নভাবে থাকতে পারে। যেমন, তাপ, আলো, রাসায়নিক শক্তি, বৈদ্যুতিক শক্তি। শক্তি যে কোন পরিবর্তন আনতে পারে। থার্মোডিনামিক্সে আলোচনার বিষয় এই শক্তি।

থার্মোডিনামিক্সের প্রথম সূত্রঃ

শক্তি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে কিন্তু তা সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যাবে না। পৃথিবীর মোট শক্তি এবং পদার্থ সবসময় ধ্রুব থাকবে।

থার্মোডিনামিক্সের দ্বিতীয় সূত্রঃ

একই ব্যবস্থার মধ্যে শক্তির পরিবর্তনের সময় যদি নতু্ন কোন শক্তি না ঢুকে বা কোন শক্তি বের না হয়ে যায় তবে সম্ভাব্য শক্তি সবসময় প্রাথমিক শক্তির চেয়ে কম থাকবে। এটাকে এনট্রপি বলে। একসময় সম্ভাব্য শক্তি কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে যা গতিশক্তিরূপে রূপান্তর হ্য়। প্রণালীটিতে আর শক্তি আসে না যদি না কোন শক্তি দেওয়া হয়। এই শক্তি পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় কিছু শক্তি তাপশক্তি রূপে উড়ে যায়্। ফলে একটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় যা পরিমাপ করায় এনট্রপির কাজ। শক্তির প্রবাহ ক্রম এবং জীবন বজায় রেখে চলে। এনট্রপি পাওয়া যখন কোন প্রক্রিয়া শক্তি দেওয়া নেওয়া বন্ধ রাখে।

থার্মোডিনামিক্সের সূত্র যদি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা যায় তবে প্রমাণ করা সম্ভব ভূত আছে। যদি এটাকে প্রমাণ হিসেবে নাও ধরেন তবুও মনে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিবে। যদি সত্যিকারভাবে আমরা প্রশ্নগুলো জানার চেষ্টা করি তবে অবশ্যই কিছু পাওয়া যাবে। এখন আমরা প্রথম সূত্র থেকে জানি শক্তির কোন বিনাশ নেই, শুধু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায়। তাহলে, আমরা যদি শক্তি হই তবে মৃত্যুর সাথে আমরা বিনাশ হব না, শুধুমাত্র রূপ পরিবর্তন হবে।

আমাদের শরীর বিশ্লিষ্ট হয় মাইক্রোঅরগানিজম দ্বারা এবং এভাবে মানুষের শক্তির রূপ পরিবর্তিত হয়। কিন্তু আমাদের বুদ্ধিমত্তার কি হয় যা দ্বারা আমরা একটা পরিচয় বহন করি। আমাদের মন কি হাওয়ায় উড়ে যায়? নাকি শুধুই জীবাণুর খাদ্য? এই পরিবর্তন কি মেনে নেওয়া যায়? বিজ্ঞানের চোখ কি বলবে, আমাদের বাইরেও অনেক প্রাণ আছে?

পরিশেষে বলি, ভূত থাকুক বা না থাকুক, যারা থার্মোডিনামিক্সের সূত্র যারা পড়েছিলেন তাদের আবার পড়া হল। আর যারা পড়েননি তাদের জানা হল। এবং অনেকের তা মনে থাকবে কারন তারা পরীক্ষা দেওয়ার জন্যে সূত্রগুলো মুখস্থ করবেন না। ভূতের কথা জানতে গিয়ে আগ্রহ নিয়ে পড়বেন।

comments

27 কমেন্টস

  1. কিন্ত ভুট আছে এটার ব্যাখ্যা এটা নয় যে মানুষ কখনো ভুতে পরিনত হয়
    কারন মানুষের শরীর গলে ভাইরাস বা জীবানু দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে মাটির মধ্যে,
    মাটিতে গাছ গাছালি কিন্তু সেই পুষ্টি আর শক্তি যাই বলেন তাতে পুষ্ট হয়, তারপর চলতে থাকে,
    ভুত বলতে মূলত কিছু নেই, তবে জীন আছে, এটা কোরআনেও উল্লেখ আছে

      • what do u mean by pran ??
        pran er sceintific defination ki.. ??
        “আমাদের মন কি হাওয়ায় উড়ে যায়? নাকি শুধুই জীবাণুর খাদ্য?” —- ei line er mane ki… science er blog er eishob gajakhuri likhalikhir shovab amader bangali blogger der shovab.. oder dharona .. baler blogger hoisi…. ekhn duniya re ja khawamoo tai khaibo…. shala faul……

  2. ১ গবেষণায় দেখা গেছে মৃত্যুর পর মানুষের ওজন নাকি ২৬গ্রাম(গ্রাম/মিলিগ্রাম নিশ্চিত নই) কমে যায়। গবেষকদের মতে এটাই আত্মা, লাকি এফএম ভাইয়ের মতে দেহ পচে সার হয়, তাহলে আত্মা পচে ভুত হলেও হতে পারে, যেহেতু শক্তির বিনাশ নেই।

  3. ভাই পৃথিবীতে কত রকম জিনিস আছে সেটা কিন্ত বলা কঠিন কারন দিন দিন একটা করে আবিস্কার হচ্ছে আর আমরা তাই বিস্শ্বাস করছি ।

  4. তবে ভাই আমি এমনও শুনেছি, যে জীন জাতির খারাপ রা যারা অপকর্মে লিপ্ত থাকে তারই কোন এক রুপকে ভুত বলে

  5. তাহলে প্রতি শুক্রবার AXN চ্যনেলে রাত ১০:৩০মি দেখান Ghost Hunter প্রোগ্রাম কি ভুয়া?

    • সাইদ ভাই, কোনটা যে ঠিক, আর কোনটা যে ভুয়া এটা বলা কিন্তু সহজ না। আপনি যদি বলেন আমি যা না দেখি তা বিস্শ্বাস করি না , তাহলে এক জিনিষ , আবার যুক্তি তর্কের বাহিরেও কিছু আছে, সেটাও আরাক জিনিষ……

  6. অসুন ভুতকে আমন্ত্রণ জানাই।

  7. লেখকের উদ্দেশ্যে এবং তাকে সমর্থন করা বিজ্ঞজনদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা:

    ১. আপনার প্রথম ভিত্তি থার্মোডিনামিক্সের প্রথম সুত্র । যার ব্যাখ্যা লাকি এফ এম ভাই সন্দেহাতীত ভাবে খন্ডন করেছেন ।
    ২. আপনার দ্বিতীয় ভিত্তি “আমাদের প্রাণটা যায় কই” ।

    সবার আগে বলি আমাদের প্রাণটা আসলে কী? আপনি নিশ্চয় জেনে থাকবেন আমাদের মস্তিষ্ক পুরো শারীরিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রন করে । আর আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন গুলো কাজ করে ইলেক্ট্রিক সিগন্যাল এর মাধ্যমে । একটি গবেষনায় জানা গেছে নিয়ন্ত্রিত ইলেক্ট্রিক শক আমাদের ব্রেন এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে । বিভিন্ন অংশে এই ইলেক্ট্রিক শক বিভিন্ন অসাধ্য সাধন করতে পারে । তার থেকে অন্তত এটা প্রমান হয় যে আমরা চালিত হই ইলেক্ট্রিসিটির সাহায্যে । মানে আমাদের প্রাণ আসলে ছোট ছোট ইলেক্ট্রিক পাল্স । ……………..(১)

    উপরের বক্তব্য এর প্রমাণ:
    [http://www.bigganprojukti.com/post-id/4645]
    [http://www.rawstory.com/rs/2010/11/electric-brain-stimulation-improve-math-skills/]

    এখন চিন্তা করুন RFID ট্যাকনোলজির কথা । এই ট্যাকনোলজিতে একটি ট্যাগ ডিভাইস যখন কোনো নির্দিষ্ট রেন্জের ভিতর থাকে তখন সেটি একটি সেন্ট্রাল পাওয়ার স্টেশনের পাওয়ার ব্যবহার করে ডাটা ট্রান্সফার এন্ড রিসিভ করে । যখন সেন্টাল পাওয়ার স্টেশন থেকে ওই ট্যাগ ডিভাইসটিকে অন-অথরাইজ্ড করে দেয়া হয় তখন সেই ট্যাগ ডিভাইসটি রেন্জের ভিতর থাকা সত্যেও আর পাওয়ার আপ হয় না ।
    সহজ উদাহরন চান ? ওয়্যারলেস মাউস কিবোর্ড গুলো রেডিও সিগন্যাল এর মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করে। তার থেকে আমরা প্রমান করলাম ইলেক্ট্রিক ডিভাইস দুর থেকে পাওয়ার আপ ডাউন করা সম্ভব । ………….(২)

    এখন বলি আমাদের প্রাণটা কই যায় । আমাদের মস্থিষ্ক যদি ইলেক্ট্রিসিটি না পায় তাহলে সেটা কোনো কাজ করবেনা । কোনো অংগ কায করতে পারবেনা । Total shutdown । যাকে আমরা মৃত অবস্থা বলি । মানে যখন আমরা আমাদের সেন্টাল কন্ট্রল রুম থেকে পাওয়ার পাবোনা তখন আমরা মৃত । প্রমাণ(সমিকরণ ১ এবং ২ এর ব্ল্যান্ড)

    আমাদের ধর্মগ্রন্থ কোরানে এই সম্পর্কে সূক্ষ ইঙগিত আছে যার একটা রেফারেন্স আমি খুব শিঘ্রই আপনাকে পাঠাতে চেষ্টা করবো । যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমি দেয়ার চেষ্টা করলাম ।
    ৩. আপনার তৃতীয় আর আমার মতে আপনার একমাত্র ভিত্তি “AXN” চ্যানেলের “Ghost Hunter” ওইটাতে যে উনারা জ্বীন দেখছেন না সেটা আপনি কি করে জানেন? আর জ্বীন তো আছেই ।
    ৪. জ্বীন আছে তার প্রমাণ চান ? দুটি সোর্স দিলাম যেটা আপনার ভাল লাগে দেখে নিতে পারেন :

    ১. কোরান শরীফের সূরা “আল-জ্বীন” ।
    ২. প্যারালাল জগতের সুত্র গুলো এবং তার ব্যাখ্যা ।
    [http://en.wikipedia.org/wiki/Many-worlds_interpretation]

    আর ভাই আপনি নাকি ইন্জীনিয়ার । এই সহজ ব্যাখ্যা গুলো আপনার মাথা থেকে উড়ে গেল ? আর অযুক্তিক ভুত এসে ঘাড়ে ভর করলো? sorry to say :মনে প্রানে ইন্জীনিয়ার তো নাকি শুধু সার্টিফিকেট নাই সম্বল ??

    • আনাস ভাই কে ধন্যবাদ তার রেফারেন্স গুলোর জন্য। তবে আমি আনাস ভাই কে একটা রেফারেন্স বলতে চাই তার শেষের অংশ টির জন্য…মন্তব্য প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা (http://www.bigganprojukti.com/terms) একটু পড়ে দেখবেন …

      • রিয়াজ ভাইকে ধন্যবাদ ভূলটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য ।
        এবং আমি লেখক ও এই লেখার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষামাপ্রার্থী আমার হিনমন্য আচরণের জন্য ।

        • এই লেখাটির উদ্দেশ্য ছিল এটুকু “পরিশেষে বলি, ভূত থাকুক বা না থাকুক, যারা থার্মোডিনামিক্সের সূত্র যারা পড়েছিলেন তাদের আবার পড়া হল। আর যারা পড়েননি তাদের জানা হল। এবং অনেকের তা মনে থাকবে কারন তারা পরীক্ষা দেওয়ার জন্যে সূত্রগুলো মুখস্থ করবেন না। ভূতের কথা জানতে গিয়ে আগ্রহ নিয়ে পড়বেন।”

          আমি কোথাও বলি নাই ভূত আছে। আপনি আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী হয়ত সেজন্যে কি বুঝেছেন আমি জানি না। এবং সেজন্যে হয়ত এরকম বাজে মন্তব্য আপনার দ্বারা সম্ভব হল। sorry to say brother, আগে লেখার উদ্দেশ্য খুঁজুন তারপর কথা বলবেন। আমি কেমন ইঞ্জিনিয়ার এটা আপনার জানার দরকার নাই। বাংলাদেশের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা আমি যেখানে ভর্তি হওয়া হাজার ছেলেমেয়ের স্বপ্নই থেকে যায়। রুচি পরিবর্তন করুন। কাজে দিবে।

          • vai ek shera uni theke pass korsen bole ki baal chirechen……
            nijer mon manoshikota poriborton korun… r amader comment er kehtre rules thakleo apner blog post korar shomoy kono rules nai… eishob gajakhuri likha likhe apni apner porer genration er polapain k ki shikkha dicchen… apni shera uni theke pass kore bohut baal chire felsen …… :p

      • জমাদানকৃত লেখা অবশ্যই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত হতে হবে। অন্যথায় লেখা গ্রহন নাও করা হতে পারে।

    • সত্যিই আনাস ভাইয়ের একটু সংযত হওয়া উচিৎ। একজন অতিথি লেখকের জন্য এই রকম অপমান আসলে সহ্য করার উর্ধে। একজন লেখক বিজ্ঞান প্রযুক্তি তে লেখার জন্য বাধ্য নয়। আর বিশেষ করে লিখতে গিয়ে এমন অপমান পেলে তো নইই। রুচি পরিবর্তন করুন, সম্মান বাড়বে।:evil:

  8. ভূতের রহস্য নিয়া বেশি মাথা ঘামাবেন তো নিজেই ভূত হই যাবেন

    • এই লেখাটির উদ্দেশ্য ছিল এটুকু “পরিশেষে বলি, ভূত থাকুক বা না থাকুক, যারা থার্মোডিনামিক্সের সূত্র যারা পড়েছিলেন তাদের আবার পড়া হল। আর যারা পড়েননি তাদের জানা হল। এবং অনেকের তা মনে থাকবে কারন তারা পরীক্ষা দেওয়ার জন্যে সূত্রগুলো মুখস্থ করবেন না। ভূতের কথা জানতে গিয়ে আগ্রহ নিয়ে পড়বেন।”

      আমি কোথাও বলি নাই ভূত আছে। আপনি আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী হয়ত সেজন্যে কি বুঝেছেন আমি জানি না। এবং সেজন্যে হয়ত এরকম বাজে মন্তব্য আপনার দ্বারা সম্ভব হল। sorry to say brother, আগে লেখার উদ্দেশ্য খুঁজুন তারপর কথা বলবেন। আমি কেমন ইঞ্জিনিয়ার এটা আপনার জানার দরকার নাই। বাংলাদেশের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা আমি যেখানে ভর্তি হওয়া হাজার ছেলেমেয়ের স্বপ্নই থেকে যায়। রুচি পরিবর্তন করুন। কাজে দিবে।

  9. জীন আছে ১০০% মানুষের মৃতু্ পর জীবন আছে যার শুরু আছে শেষ নেই ১০০০০০০০০০০০০০০…%

  10. সবার অবগতির জন্য বলছি—
    প্রান এবং মস বলতে আলাদা কোন বস্তু নেই। দুইটাই আমাদের ব্রেনের একাংশ।মৃত্যুর পর ওজন কমে যাওয়ার পরীক্ষাটি বিজ্ঞানে সমাদৃত না। কারন তিনি দ্বিতীরবার এই পরীক্ষাটি সবার সামনে প্রমান করতে পারেনি।প্রান এবং মৃত্যুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পেতে অভিজিত রায় এর আত্মা বইটি mukto-mona.com থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। আশা করি ভূত সম্পর্কে সকল আশংকা মিটে যাবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.