ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কামাল দেখেছে সবাই। গেমসের সকল দৃশ্য বা চরিত্র চলে আসে হাতের মুঠোয়। কিন্তু আসলেই কী হাতের মুঠোয়? যারা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআরে গেমস বা ভিডিও দেখেন তাদের কাছে মনে হয় সকল কিছু হাতের কাছেই। একেবারে বাস্তব অভিজ্ঞতা উপভোগের জন্যে বিশ্বজুড়ে ভিআরের জুড়ি নেই।

 

তবে স্যামসাং বা ফেসবুকের অকুলাস যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এনেছে তার সঙ্গে পাল্লা দিতে ইন্টেল এবার নিয়ে এসেছে মার্জড রিয়েলিটি। প্রশ্ন হলো, ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য তো অবশ্যই আছে। ওই যে বললাম, হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে তা হাতের নাগালে পাওয়া যায়না। তবে মার্জড রিয়েলিটির অত্যাধুনিক ক্যামেরার সাহায্যে এখন থেকে ভার্চুয়াল জগতকে আনতে পারবেন হাতের মুঠোয়! কী ধন্দ লাগছে? আসলেই এবার ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে দেখা যাবে আপনার হাতও!

 

আর ইন্টেল মনে করছে শুধুমাত্র এই ফিচারের কারণেই তাদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রাখা যাবে। এবং বাজারেও ভালো কাটতি হবে। ফলে এখন থেকে মেডিক্যাল প্রেজেন্টেশনে আরো চমৎকার উপস্থাপনা করা যাবে। যদি দেহের কোনো ডায়াগ্রামের প্রেজেন্টেশন হয় তবে সেখানে হাত দিয়ে অবজেক্টস ধরা যাবে। মানে, দেখানো বিষয়গুলো হাত দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ধরে শেখা যাবে। এখানেই বাজারের অন্যান্য ভিআরের চেয়ে ইন্টেলের ভিআর এগিয়ে।

 

যদিও বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এটা এমন কোনো ফিচার না যার জন্যে গ্রাহক দীর্ঘদিন তাকিয়ে থাকবে। রিয়েল সেন্স টেকনোলোজির সুবাদে ভার্চুয়াল জগতে মানুষের প্রবেশের প্রথম ধাপ ধরা যায় একে। এর সুবিধার দিক যেমন তুলে ধরা হয়েছে তেমনি কিন্তু এর অসুবিধা বা খারাপ দিকগুলো উহ্য রাখা হয়েছে। যেমন পর্নো ভিডিওকে এটি আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।

 

আমেরিকার বাজার নিয়ে গবেষণা করে এমন এক প্রতিষ্ঠানের মতে, ২০২৫ সালে ভিআরের তৃতীয় বড় ব্যবহারকারী হবে পর্নো ভিডিও। কারণ প্রথম অবস্থানে থাকবে গেমস এবং অন্যান্য সেবা। ফলে টেক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি সত্যি সত্যি পর্নো ভিডিও ভিআরের মাধ্যমে উপভোগ করা যায় তবে তা সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। মানুষের জীবনাচারে আসবে বিস্তর পরিবর্তন। মানুষের তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি চাহিদা কমে যেতে পারে। ভেঙে পড়তে পারে সমাজ ব্যবস্থা।

 

প্রযুক্তি আপাতত শুধু হাতের প্রবেশ ঘটিয়েছে ভার্চুয়াল জগতে তাতেই এতো শোরগোল। যেদিন সম্পূর্ণ ভাবে মানুষ তার নিজের উপস্থিতি টের পাবে ভার্চুয়াল জগতে সেদিন কী ঘটবে বলা দুষ্কর। তবে এটুকু বলা যায় সামনে যে সময় আসছে তাতে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার অদ্ভুত কোনো দৃশ্য যদি সমাজে দেখা যায় তবে অবাক হবার কিছু থাকবে না!

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.