আমরা বেশিরভাগ মানুষই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, নানা সমস্যা হলেও অনেকে সেকেন্ডারি কিংবা অনেকে আবার একমাত্র ওএস হিসেবে উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন। উইন্ডোজ ব্যবহার করতে না চাওয়ার অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে এর গতি শ্লথ হয়ে যাওয়া, হ্যাং করা, ভাইরাস, ট্রোজান হর্স ইত্যাদির ঝুঁকি এবং সর্বোপরি ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বছরের পর বছর অন্যান্য ওএস ব্যবহারকারীরা এসব স্পষ্ট সমস্যার দিকেই ইশারা করে আসছেন।

তবে এবার বোধহয় মাইক্রোসফটের ঘাড় থেকে এতো সমস্যার দায় কমতে শুরু করলো। কেননা, গতি ধীর হয়ে যাওয়ার সমস্যা আজও বিদ্যমান থাকলেও নিরাপত্তার দিক দিয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ-এ, যা কম্পিউটার জগতে সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের আসন দখল করে আছে।

উইন্ডোজ এক্সপি এবং আগের সংস্করণগুলোতে নানা সিকিউরিটি হোল দেখা দিলেও ভিসতা নামক দুঃস্বপ্ন পার হয়ে এসে উইন্ডোজ সেভেনে সত্যিকারের উন্নতি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে মাইক্রোসফট করপোরেশন।  এ বিষয়ে সিকিউরিটি ফার্ম ক্যাসপারস্কাই জানিয়েছে, প্রযুক্তি জগতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সেরা ১০টি সফটওয়্যারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে মাইক্রোসফট ও এর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম।

সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবার সেরা ১০ ঝুঁকিপূর্ণ সফটওয়্যারের তালিকায় উইন্ডোজ চোখে পড়ার মতো অবস্থানেই থাকে। কিন্তু এই প্রথমবার উইন্ডোজ এই লজ্জাজনক স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। ক্যাসপারস্কাই জানিয়েছে, উইন্ডোজ সেভেনের অটোমেটিক আপডেট মেকানিজম এবং নিরাপত্তার নানা কঠোর দিকই পণ্যটিকে নিরাপত্তার দিক দিয়ে শক্তিশালী করে তুলেছে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সিকিউরিটি এক্সপার্টরা যারা আগে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের নানা ঝুঁকিপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করতেন তারাই জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি দেখার মতো। কাজেই মাইক্রোসফটের  প্রোডাক্ট মানেই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভরা এমনটা ভাবলে বলতে হবে আপনি অতীতে বসবাস করছেন। মাইক্রোসফট এগিয়ে চলেছে, সেই সঙ্গে ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের। তাই বাধ্য হয়ে উইন্ডোজ ব্যবহার করতে হলেও একেবারে মন খারাপের কিছু নেই। উইন্ডোজ এখন নিরাপদ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃত।

তবে উইন্ডোজের স্ট্যাবিলিটি এখনো ম্যাক বা লিনাক্সের কাছাকাছিও যায়নি এমন প্রতিক্রিয়াও শোনা গেছে অনেকের মুখে।

comments

7 কমেন্টস

  1. এই লেখায় আপনার তো কোন স্বাধীন মতামত প্রকাশই পেল না, ব্লগ লেখার অর্থ তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের সামনে নিজের স্বাধীন তথ্য তুলে ধরা অর্থাৎ তথ্য নিজের করে সাজিয়ে গুছিয়ে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। এক্ষেত্রে সেটা হয় নি।
    আমি কি এটা পাঠকদের Confuse করতে লিখেছেন?

    “তবে উইন্ডোজের স্ট্যাবিলিটি এখনো ম্যাক বা লিনাক্সের কাছাকাছিও যায়নি এমন প্রতিক্রিয়াও শোনা গেছে অনেকের মুখে।”

    উপরের লাইন টা দিয়ে আপনি কি বোঝাতে চেয়েছেন? “অনেকের মুখে” বলতে???

    হয় অনেকের বলতে কাদের বুঝিয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করুন নয়ত বলুন “তবে উইন্ডোজের স্ট্যাবিলিটি এখনো ম্যাক বা লিনাক্সের কাছাকাছিও যায়নি” একথা বলুন।

    • ব্লগ লেখার অর্থ সবসময়ই নিজের স্বাধীন মত প্রকাশ এ কথা আপনাকে কে বলেছে? এই পোস্টে আমি আমার মত প্রকাশ করিনি কেবল সংবাদ লিখেছি। এটা বিজ্ঞান প্রযুক্তির খবর বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে। আর খবরের সাথে স্বাধীন মত প্রকাশ মিলিয়ে ফেলার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। আর এটা ব্লগ হয়েছে কি হয়নি সেটা আপনার না বললেও হবে।

      আমার ধারণা আপনি সংবাদ খুব একটা পড়েন না, পড়লে “অনেকের মুখে” এটাকে কনফিউজিং মনে হতো না। অনেকের মুখে একটা এক ধরনের সংবাদ লেখার ভাষা, এটা আপনি পত্র-পত্রিকায় তো বটেই, বিদেশি সংবাদ সাইটেও পাবেন। আপনি না বুঝলে তো আর কিছু করার নেই।

      এই নিউজ যেই সোর্স থেকে নেয়া হয়েছে, সেখানে এবং আরো কিছু ব্লগে আর টুইটারেই মানুষের মন্তব্য পাওয়া গেছে। এখন আপনি নিশ্চয়ই চান না আমি প্রত্যেকের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে বলি, তাই না?

      আর ম্যাক সম্পর্কে ধারণা থাকলে আপনিও হয়তো প্রশ্নটা তুলতেনই না। এ কথা মোটামুটি সবাই জানে যে পারফরম্যান্স ও স্ট্যাবিলিটির দিক দিয়ে ম্যাক বেস্ট। কাজেই অনেকের মুখে এখানে কনফিউজিং-এর কিছু নেই। যদি কারো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে তার জন্য মন্তব্যের অপশন খোলাই আছে।

  2. কেন ভাই, আবার পাইরেসিকে উৎসাহিত করেন?

    অন্যদিকে, ওপেন সোর্স সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ব্যবহার বান্ধব।

  3. প্রিয় সজীব
    আপনি যে মানদন্ডে এই ফলাফল সংক্রান্ত তথ্যটা পেয়েছেন সেই মানদন্ড মানে ক্যাসপারস্কি নিজেই বিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে এবং নিজের গ্রাহকদেরকে ঝুঁকির মধ্যে রাখে।
    তথ্যসুত্র ১ এবং তথ্যসুত্র ২

    এইডসের রোগী দিচ্ছে ক্যান্সারের রোগীকে সুস্থতার সার্টিফিকেট। বেশ মজা পেলাম। হাজার হলেও মাসতুতো ভাই তো। 🙂

    আর যে নিরাপত্তার ত্রুটির কথা তুলেছেন সেই সিকিউরিটি হোল আর ব্যাকডোরগুলো উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারে ছিলো, আছে এবং রাখা হবে। এর ব্যতিক্রমে মাইক্রোসফট হয়ে পড়বে একঘরে, তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই মাইক্রোসফটের পলিসি এইরকম থাকবে।

  4. রিং ভাইয়ের কথার সাথে একাত্বতা পোষন করছি। আমার জানামতে উইন্ডো ৯৮ এ একবার আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার নামে একটা কিছু পাওয়া যায়। এটা কিসের জন্য কোন জবাব পাওয়া যায় নাই। তাহলে কি মাইক্রোসফট তথ্যচুরি করছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.