আজ থেকে পনের বছর আগে অনেকে বর্তমান বিশ্বের ইন্টারনেট প্রযুক্তির কথা ভাবতেও পরে নি। যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবাইকে সামাজিক নেটওয়ার্কে আবদ্ধ করার পরিকল্পনাটাও ছয় বছর আগে জানা ছিল না। প্রতিদিন নতুন চিন্তা আর উদ্ভাবনে পাল্টে যাচ্ছে দিন। আর ইন্টারনেট আর ওয়েব দুনিয়া কয়েকটি মাত্র ভাগে ভাগ হয়ে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতের ইন্টারনেট প্রযুক্তি সম্পর্কে যদিও এখন হলফ করে কিছু বলা যায় না তবুও অনেক নিদর্শনই ইঙ্গিত করছে আমাদের পথ চলা। তারই প্রেক্ষিতে আজকের আলোচনা ও কয়েকটি জিনিসের সাথে পরিচয় ও ক্রমবর্ধমান ধারার বর্ণনা।

ভবিষ্যতের ইন্টারনেট ও ডিজাইন ভাবনা

ডিজাইন নয় কনটেন্ট ও ডাটাই ভবিষ্যতের ইন্টারনেট

এ কথা স্বীকার করতে হবে যে, ব্লগে আমরা মূলতঃ ডিজাইনটা দেখতে আসি না। লেখকের লেখা পড়তে আসি। এক এক ব্লগের ডিজাইনটা এক এক রকমের তাই এক একভাবে সুবিধা দেয় এক এক ব্লগ।

ব্লগ ডিজাইন

আরেকটা জিনিস ভেবেছেন কি? প্রায় সব ব্লগের বেসিক ডিজাইনই এক রকম। হেডার, সাইডবার আর মূল কনটেন্ট থাকে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সর্বাধিক ব্লগ ডিজাইন করা আর অন্যান্য সিএমএসও আছে কিছু। ব্লগস্পটে আছে অনেক ব্লগ। থিসিস থিম সহ বেশ কিছু ব্যাপক জনপ্রিয় থিম অনেকেই ব্যবহার করছে এই জেনে যে, একই জিনিস লক্ষ লোক ব্যবহার করছে- তাতে কিন্তু কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। বেপারটা একই এমন যে একই রকম পাত্রে ভিন্ন ভিন্ন খাবার। ব্লগের ডিজাইন যাই হোক…এক রকমই হোক… তাতে কোন সমস্যা নেই। দেখতে হবে কি আছে সেখানে।

ওয়েব এপ্লিকেশন

ডিজাইনকে গুরুত্বহীন করতে মজিলা প্রিজম এসে গেছে। এটি মূলতঃ আপনার প্রিয় ওয়েবসাইটকে ওয়েব এপ্লিকেশনে রুপান্তরিত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এটা আমাদের কতদূর নিয়ে যেতে পারে দেখা যাক। ভিডিওতে দেখুন মজিলা প্রিজমের ব্যবহার।

গুগল নিজেও ওয়েব নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম বানানোর জন্য উঠে পরে লেগেছে। তার মানে ভবিষ্যতে ডেস্কটপ থেকে সরাসরি ওয়েবে চলে যেতে পরবেন হয়তো…। হয়তো বা ব্রাউজারের প্রয়োজনীয়তাটা গৌণ হয়ে যাবে

ক্লিকহীন ভিজিট

ভিডিও দেখার সবচেয়ে বড় মজার বেপার হলো সময়ের সাথে সাথে এগিয়ে যাওয়া। আর ভবিষ্যত ওয়েবে বার বার পৃষ্ঠা পরিবর্তনটার ঝামেলা দুর করবে অনেকটাই। আজাক্স, সিএসএস৩, জেকোয়েরী, এইচটিএমএল৫ ইত্যাদির বহুল ব্যবহার এই পথই আমাদের দেখাচ্ছে।

আরও কয়েকটি সম্ভাবনা

১. ফেসবুক ইন্টারনেটের একটা বিড়াট আংশ দখল করে নিবে। বিভিন্ন ওয়েবের প্রায় সকল কনটেন্টই ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ হবে। প্রায় প্রতিটি ওয়েবেরই একটা করে ফেসবুক পাতা থাকবে যেখানে ওয়েবের তথ্যগুলো সয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে।

২. টেলিভিশনের অনলাইনিকরণ হবে। তখন আর হাতেগনা কয়েকটা টিভি চ্যানেল থাকবে না। যে কেউ একটি চ্যানেল পরিচালনা করতে পারবে। আর এটার নেতৃত্ব দিবে ইউটিউব ও গুগলটিভি

৩. গুগল আরও নতুন নতুন সার্ভিস নিয়ে আসবে। অনলাইন এপ্লিকেশনগুলোর উপরে অনেক বেশি কাজ করবে সবাই। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই তাদের ব্যাবসা পরিচালনা করবে ফ্রি এপ্রিকেশনের মাধ্যমে।

 গুগল আরও নতুন নতুন সার্ভিস নিয়ে আসবে
৪. হোম সার্ভিসটা ওয়েব নির্ভর হয়ে ওঠবে। বেচা কেনা, পড়ালেখা ইত্যাদির বিড়াট অংশই ওয়েবে বসে হবে।

৫. ওপেন সোর্স দুনিয়াটাকে কেউ আটকাতে পারবে না। অনেক ডেভলপাররাই তাদের অনেকদিনের গোপন করে রাখা কোড উম্মুক্ত করে দিবে।

৬. এর চেয়ে ভিন্ন নতুন কোন কোন আইডিয়ার জন্ম হবে…যা এখন কল্পনাও করে নি কেউ।

ভবিষ্যত ওয়েবে কারা জয়ী হবে?

ভবিষ্যত ওয়েবের বিজয়ের মালা তারাই পড়বে যারা মান সম্পন্ন কনটেন্ট (লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও) বানাতে পারবে। এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকরীদের অনেকেই নতুন, তাই অনেক অদক্ষ ভিজিটর নতুন ও মানহীন ওয়েব ভিজিট করে। ভবিষ্যতে মানসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহাকরীর সংখ্যা এত বাড়বে যে অপ্রয়োজনীয় ওয়বে ঘোরাঘুরি কমে যাবে।

ভবিষ্যত ওয়বে আরও একদল বিজয়ী হবে- মোবাইল ও ওয়েব এপ্লিকেশন ডেভলপার। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এপ্লিকেশনগুলো যারা বানাচ্ছে তারাই নেতৃত্ব দিবে।

ভবিষ্যতে আরও কি কি আসতে পারে বা না আসতে পারে সে বেপারে আপনার অভিমত দিন।

comments

2 কমেন্টস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.