অনেকদিন ব্লগিং করার পর প্রায় ব্লগারই একটা সমস্যায় পড়েন। সেটা হল বিষয়বস্তু নির্বাচনে জটিলতা। দেখা অনেক দিন ব্লগ লেখার পর নতুন কোন আইডিয়া মাথায় আসে না। কি নিয়ে লিখব সেই চিন্তায় মস্তিষ্ক হয়ে যায় বিভর। তবে আজকে কয়েকটি কৌশল আলোচনা করব যা অনুসরন করলে ভবিষ্যতে লেখার উপাদানের অভাব অনেকটা দূর হবে।

writing

জনপ্রিয় ব্লগগুলো বিশ্লেষন করুন

যখন একান্তই লেখার উপকরেনের অভাব হবে তখন বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্লগগুলো ঘেটে, সেইসব ব্লগের বিভিন্ন পোস্ট পড়ে নতুন বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব। তাদের লেখাগুলো বোঝার চেষ্টা করুন, তারা কি বিষয়ের ওপর লিখছে সেই সমস্ত বিষয়গুলো আচঁ করুন এবং সেই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে নিজের আলোকে লেখার চেষ্টা করুন। দেখবেন লেখার টপিকের অভাব হবে না। আমাদেরই একজন প্রিয় লেখক মাহবুব টিউটো বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে একটি পোস্টে লিখেছিলেন-

“যখন কোন কিছুই খুজে পাওয়া যাচ্ছে না লেখার জন্য তখন বিভিন্ন ওয়েব দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ান। আমি বেশ কিছু ব্লগ অনুসরণ করি নিয়মিত। তার মধ্যে tutsplusSmashing Magazine অন্যতম। এ দুটি লিংকে প্রায় ৫০ টি সাইট আছে যেখানে নিয়মিত পড়ালেখা করলে অনেক কিছু জানা যায়”।

পাঠকের মন্তব্যকে সমীহ দেখান 

আমি সবসময় থেকে বলি লেখক যেমন পাঠকের কাছ থেকে মন্তব্য আশা করে তেমনি পাঠকের কিছু প্রত্যাশা থাকে লেখকের প্রতি। পাঠকের মন্তব্যকে সবসময় গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ একটি মন্তব্য দ্বারা পাঠক লেখকের নিকটে তার অনুভূতি ও প্রত্যাশা জানাতে পারে। অন্যান্য ব্লগের পাঠকদেরও মন্তব্য গুরুত্ব দিয়ে পড়া উচিত। হয়তবা পাঠক এমন কোন প্রশ্ন করল যার উত্তর কেউই দেই নি অথবা লেখকের স্বয়ং সেই বিষয়ে তুলনামূলক জ্ঞান কম  অথচ সেই সম্পর্কে আপনি জানেন। তাহলে বিষয়টি সম্পর্কে মতামত আকারে পাঠককে জানান ও পরবর্তীতে সেই বিষয়ে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করুন।

ফোরামের সাহায্য নিন

প্রথমত উপরের সারির ফোরাম গুলোর একটি তালিকা তৈরী করুন। ফোরামগুলোর বিষয়বস্তুর সাথে যেন আপনার ব্লগের বিষয়বস্তুর মিল থাকে সেদিকে লক্ষ রাখুন। ফোরামের বিভিন্ন পোস্টে ও থ্রেডে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করুন। অন্যন্য পাঠকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করুন। সেখান থেকেই আপনি আপনার লেখার উপকরন পেয়ে যাবেন। ডিজিটাল পয়েন্ট ফোরাম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

সাম্প্রতিক খবর নিয়ে লিখুন

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে বর্তমানে প্রতিদিনই নতুন কিছু না কিছু আবিষ্কৃত হচ্ছে। আপনার যদি কোন টেকনলজী ব্লগ থাকে তাহলে বিভিন্ন পণ্য ও তার মান বা যাবতীয় তথ্য নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। ধরুন বিখ্যাত কোন কোম্পানি যেমন- অ্যাপল বা স্যামসাং কোনো নতুন মডেলের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন বাজারজাত করেছে। তাহলে সেই পণ্য সম্পর্কে লেখা যেতে পারে।

“সেরা সামগ্রী নিয়ে লিখুন”

যদি হাতে কাছে লেখার মত কিছুই না থাকে তখন এ জাতীয় পোস্ট লেখা যেতে পারে। ধরুন ওয়ার্ডপ্রেস থিম নিয়ে পোস্ট লিখবেন তাহলে বিভিন্ন ওয়েব পড়ুন ও ১০ বা ততোর্ধ্ব হাই কোয়ালিটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম সংগ্রহ করুন এবং সেইগুলো ভালো স্ক্রিনশট দিয়ে পোস্ট আকারে প্রকাশ করুন। এমন পোস্টের জনপ্রিয়তা কোন অংশে কম নয় বরং বেশি। তবে এই জাতীয় পোস্টে নিজের সৃজনশীলতার কিছুই থাকে না।

পূর্ববর্তী পোস্টগুলো একবার পরখ করুন

পূর্বে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টগুলো একবার পড়ে দেখুন। হয়তবা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু লেখার সময় বিষয়গুলো বাদ চলে গেছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় একটু ভিন্নতা এনে লিখুন। প্রয়োজনে আরোও কিছু তথ্য সংগ্রহ করে প্রকাশ করুন।

সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করুন

লেখার উপকরন পাওয়ার ক্ষেত্রে delicious ও  stumbleupon.com বা digg.com আপনাকে বহুলাংশে সহয়তা করবে। সাইটগুলোতে কোন প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে সার্চ করলে আপনি পেয়ে যেতে পারেন আপনার কাঙ্খিত বিষয়বস্তু যা আপনাকে লিখতে সহয়তা করবে।

এই গুলো ব্যতীতও সবচাইতে বড় যে ব্যাপারটি হল সেটি  হল নিজ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো। স্বাভিবিকভাবেই নিজে যে বিষয়টি নিয়ে দক্ষ বা পূর্বে তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে লেখা বেশ সহজ। তাই নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে,সফলতা আসবেই। “Happy Blogging”

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.