সমগ্র পৃথিবীতে অটিজম নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চলছে ছবি সূত্রঃ গুগল

নতুন একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ছয় মাস বয়সী বাচ্চার ব্রেইন স্ক্যান করবার মাধ্যমে এবার জানা যাবে শিশুটির বেড়ে ওঠা স্বাভাবিকভাবে হবে নাকি সে অটিজমে আক্রান্ত হবে।

এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন যেসব নবজতক শিশু আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠে এবং তাদের মাঝে অটিজমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, তাদের মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড প্রবাহিত হয়। এই ফ্লুইড বা তরল পদার্থের প্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ভেতরের গাঠনিক যেসব প্রক্রিয়া রয়েছে তা গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়া এম আর আই পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা যেতে পারে।

গবেষকেরা কি জানিয়েছেনঃ
গবেষকেরা বলছেন যে সিএসএফ (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড) এর প্রবাহ কতটুকু হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এই পরীক্ষাটি করা হবে। কোন শিশুর মস্তিষ্কে যদি ফ্লুইডের প্রবাহ বেশি হয়, তাহলে তার সাথে শিশুর বিকাশ সুস্থভাবে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা আরও বলেছেন যে ছয় মাস বয়স থেকে ২ বছর বয়সের মধ্যে যদি এই পরীক্ষাটি করা হয় তাহলে তা ৭০ শতাংশ ভালোভাবে নির্ণয় করা যায় বলে তারা জানিয়েছেন।
যদিও এই পরীক্ষাটিকে শতভাগ সফলতায় আনবার জন্য আরও নানা পরীক্ষা করতে হবে।একটি শিশুর অটিজম বিকাশ থেকেই হবে কি না তা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের মনিটরিং এর মাধ্যমে বোঝা যাবে।
ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিল স্কুলের সাইকিয়াট্রি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক মার্ক চেন বলেন,
“সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের নিউরোইমাজিং এর মাধ্যমে এবার পেডিয়াট্রিশিয়ানরা অটিজম খুব দ্রুতই নির্ণয় করে ফেলতে পারবেন।এটি খুব সাহায্যকারী একটি অস্ত্র হতে পারে।”

শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ হচ্ছে কি না জেনে নিন ছবি সূত্রঃ গুগল
শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ হচ্ছে কি না জেনে নিন
ছবি সূত্রঃ গুগল

চেন আরও বলেন যে,
“সেরিব্রোস্পাইনাল হচ্ছে ব্রেইনের ফিলট্রেশন বা পরিশুদ্ধির একটি প্রক্রিয়া।যখন মস্তিষ্কের মাঝ দিয়ে এই ফ্লুইড প্রবাহিত হয়, তখন এটি সব ধরণের বর্জ্য পদার্থ, যা মস্তিষ্কের বিকাশে বাঁধা প্রদান করবে, তা দূর করে নিয়ে যায়।”

অটিজম নিয়ে কিছু তথ্যঃ
১) সারা পৃথিবীতে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে অটিজমে ভোগার অনুপাত হচ্ছে ৪:১
২) সমগ্র পৃথিবীতে প্রতি ৬৮ জন ছেলের মাঝে জন ও প্রতি ১৮৯ জন মেয়ের মাঝে ১ জন মেয়ে অটিজমে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
৩) এশিয়ার মাঝে সবচেয়ে বেশি অটিজমে আক্রান্ত শিশু রয়েছে চীনে।
৪) বাংলাদেশে সমগ্র জনসংখ্যার মাঝে দশ শতাংশ নানা ধরণের মস্তিষ্কজনিত সমস্যায় ভুগে থাকে এবং এদের মাঝে ১ শতাংশ অটিজমে আক্রান্ত।

তথ্যসূত্রঃ লাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.