বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০১৬-২০১৯) এর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) এর গুলনকশা মিলনায়নে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বেসিসের গত কয়েক বছরে সম্পাদিত কার্যক্রম নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেসিসের বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান।

বিদায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদ, বেসিস নির্বাচন বোর্ড ও আপীল বোর্ডকে তাদের অবদানের জন্য শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। এরপর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদকে শপথ পাঠ করান বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নির্বাচন আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তৌহিদ।

তারপর বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের হাতে বেসিসের পতাকা ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন তুলে দেন। একইসাথে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদকে বরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বেসিসের সকল সাবেক সভাপতিবৃন্দকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভালো অর্জন করেছি। যেমন- ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটির বেশি। আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হচ্ছে। আমাদের সেই অগ্রযাত্রাকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর এক্ষেত্রে বেসিস বড় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং আগামীতেও সেই প্রত্যাশা করি।

বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে সেটির প্রসারে সহায়তা করে এসেছি। আগামীতেও পাশে থাকবো। অবশ্যই বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত একদিন গার্মেন্টস খাতের মতোই বড় খাত হয়ে উঠবে।

বিশেষ অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের এই খাতের রফতানি আয় ২৬ মিলিয়ন থেকে এখন ৪০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্ঠার সৈনিক হিসেবে কাজ করছেন বেসিসের বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান। আশাকরি আগামীতেও তিনি সেই কাজ করে যাবেন। এছাড়া নতুন সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বে বেসিস দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রযাত্রাকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করি।

বেসিসের বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান তার মেয়াদ কালের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মেয়াদকালে আমরা সদস্যদের মানোন্নয়ন, তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, পলিসি তৈরি, পরিবর্তন, পরিবর্ধনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছি। এই কাজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তাঁর আইসিটি উপদেষ্ঠা, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছি। আর বেসিসকে বর্তমানে অবস্থানে নিয়ে আসার কৃতিত্ব সকলের। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা থাকবে।

বেসিসের নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৯ সালে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেয়। তখন এ খাতে বাজেট ছিল ১০০ কোটি টাকা।যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬শ কোটি টাকায়। কাজেই তথ্যপ্রযুক্তি খাত অনেক এগিয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের বাজার আমাদের নেই। বিদেশের পণ্য আমাদের বাজার দখল করে রেখেছে।আমাদের সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্পৃক্ত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাবো।

 

 

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.