ব্লগার বন্ধু এবং পাঠকেরা নিশ্চয় ভালো আছেন। সেটাই কামনা করি। আমরা সবাই জানি, মানুষ সামাজিক জীব। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ দলবদ্ধ হয়ে, সামাজিকভাবে একত্রে মিলেমিশে বসবাস করতে করে আসছে। এখনও তেমনটিই হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় সামাজিকভাবে বসবাস করার ধরনে একটু পরিবর্তন এসেছে। এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বিশেষ করে তরুণরা বাস্তবিক সামাজিক মেলামেশা থেকে সামাজিক যোগাযোগসাইটে মেলামেশা বা সময় কাটানোর প্রতি বিশেষভাবে ঝুঁকে পড়ছে। প্রযুক্তির দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় সবকিছুতেই ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছে মানুষ। বিনোদনের মাধ্যমটি খুঁজতেও এখন ইন্টারনেটকেই ভরসা করেন অনেকেই। আর এর জন্যও অধিকাংশই সামাজিক যোগাযোগ সাইটকে বেছে নেন। তবে এই ব্যবহারকারীদের জন্য হতাশার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। আমি নিজেও যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আসক্ত তাই এই হতাশার মাঝে আমিও আছি।

গবেষকদের দাবি, ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো কল্যানের পরিবর্তে অনেকসময় মানুষকে বিষন্ন, হতাশাগ্রস্থ, আশাহত করে তোলে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির এই গবেষকরা জানিয়েছেন সামজিক যোগাযোগ সাইটে বেশি সময় পারকারীদের বিষন্নতার পরিমান বেড়ে যায়, যা শারীরিকভাবে মারাত্বক ক্ষতিকর। কাজেই অধিক সময় এসব সাইটে থাকা মানে নিজের অকল্যাণ বয়ে আনা।

বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক হু-জু গ্রেস চো এবং নিকোলাজ এজ ৪২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহার ও এর প্রতিক্রিয়া বিষয়ক জরিপ চালান। জরিপটির মাধ্যেমে শিক্ষার্থীরা কতোটুকু সময় ফেসবুক, টুইটারে ব্যয় করছে এবং তার সঙ্গে তাদের জীবনের পাওয়া না পাওয়ার মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গবেষনা করা হয়।
গবেষক দল জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন করেন তারা জীবনে কতটা সুখী, জীবন সুন্দর কিনা ইত্যাদি। এছাড়াও পারিবারিক সম্পর্ক, লিঙ্গ, ধর্মীয় বিশ্বাসসহ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গবেষনার ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারকারীরা অন্যদের তুলনায় জীবন নিয়ে অধিক হতাশ। এদের অধিকাংশই অন্যের তুলনায় নিজেকে ছোট মনে করে। এরা ভাবে তার চেয়ে তারা বন্ধুরা অনেক এগিয়ে আছে। বন্ধুদের ভালো দিকগুলোর সাথে তারা বেশি বিবেচনা করে। যেকারণে পরিচিত ও আপন এসব বন্ধুদের সাথে ধীরে ধীরে তাদের দুরত্ব কমে যায়। বিপরীতে ইন্টারনেটে পরিচিতদের সাথে তাদের বন্ধুত্বের পরিমান বেড়ে ওঠে বা বেশি পরিমানে সময় কাটাতে পছন্দ করে। ফলে ক্রমান্বয়ে তারা অধিক পরিমানে হীনমণ্যতা ও মানষিক বিষন্নতায় ভোগে। যেকারণে স্বাস্থ্যহানিসহ মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখিন হবার সম্ভাবনা থাকে। আমেরিকান আ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস নামের গবেষনা সংস্থা জানায়, অধিক সময় সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারকারীরা প্রথমে হতাশা, বিষন্নতায় ভুগতে ভুগতে স্থায়ী জটিল রোগে ভোগা শুরু করে। এমনকি অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে।

গবেষকরা আরো জানান, বাস্তবিক পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারকারীদের আনন্দের মাত্রা কমে গেলেও তারা এসব সাইটে হাশিখুশি থাকার চেষ্টা করে। তাদের কাছে কোথাও বেড়াতে যাওয়া বা অন্যকোনো বিনোদন প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার থেকে ফেসবুক, টুইটারই ভালো লাগে। তাই এসব ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন ছাড়া এবং কম সময় সামাজিক যোগাযোগ সাইটে কাটানোর পরামর্শ দেন। একইসাথে কোথাও বেড়ানো, বাস্তবিক জীবনের বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া, গান শোনার প্রতি জোর দিতে পরামর্শ দেন। এতে তাদের মানসিক প্রশান্তিসহ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপহার হবে।

আপনাদের কি মনে হয়? গবেষকদের গবেষনার ফল কি ঠিক? আমরা কি সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে বেশি সময় ব্যয় করে ফেলছি। নাকি যেমন চলছে ঠিকই আছে?

comments

17 কমেন্টস

  1. যদি সত্যি কথা বলতে বলেন আমি বলবো “উনারা ১০১% সঠিক বলেছেন”। যার উদাহারন আপনি না হলেও আমি! তার পরেও আমি ভার্চুয়াল ছাড়া কিছুই চিন্তা করতে পারি না। 😕

  2. আমিই তো দেখি অনেক ভাল আছি ❗ , ভিসিট করি ডেইলি কিন্তু থাকি ২-৩ মিনিট ( নোটিপিকেশন দেখি আরকি :mrgreen: )
    মাসে একটা স্ট্যাটাস 😀
    কিন্তু আমি ব্লগাসক্ত!!! 😳
    ধন্যবাদ। 🙂

  3. ভাই আপনার লেখাটা কয়েক জায়গায় লিখতে চাই। অনুমতি চাচ্ছি আরকি!!:oops:

    • লিখতে পারেন, তবে অবশ্যই সোর্স উল্লেখ করবেন প্লিজ! প্রয়োজনে বিপ্র এর এই পোস্ট লিংকটি দিবেন…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.