ব্যবসা করে টাকার পাহাড় গড়েছেন এমন হাজারো মানুষ পাওয়া যাবে। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যারা ব্যবসা করতে যেয়ে হারিয়েছেন তাদের শেষ সম্বল টুকু। ছোট থেকে ধিরে ধিরে বড় হলে সেটি মেনে নেয়া যায় কিন্তু হটাথ করে কোটিপতি থেকে ফকীর হলে সেটি মেনে নেয়া খুবই কষ্টের। এই অনুভূতি আসলে কেমন সেটি তারাই বলতে পারবে যাদের সাথে ভাগ্য এমন নির্মম পরিহাশ করেছে। আজকে জানাবো সেইসব দুর্ভাগার কথা যাদের যারা রাতারাতি বড়লোক থেকে ফকীর হয়ে গেছেন।

 অ্যাক বাতিস্তা

 অ্যাক বাতিস্তা

সর্বপ্রথম আছেন ব্রাজিলের সাবেক শীর্ষ ধনী অ্যাক বাতিস্তা। বারবারই বিশ্বের শীর্ষ ধনী বেক্তিদের তালিকাই তার নাম লেখা হয়েছে। কিন্তু এবার তিনি পরিচিতি লাভ করেছে সবচেয়ে দুর্ভাগা ধনী হিসেবে। এই বছরেই তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে হারিয়েছেন ১০.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেটার শুরুটা হয়েছিল ২৬ জুলাই ২০১৩ সালে। তিনি মূলত তেলের ব্যবসা করে এতো ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। তার প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করতো কিন্তু দুর্ভাগ্য বসতো নানান ধরনের সমস্যার কারনে সময়মতো তেল ডেলিভারি দিতে পারতেন না। পরবর্তীতে ব্যবসায় ক্ষতি হতে হতে বিলিওনিয়ার থেকে মিলিওনিয়ার হয়ে পরেন। এখন সবাই তাঁকে বিশ্বের দুর্ভাগা শিল্পপতি হিসেবে চেনে।

 ওলাভ থোন

ওলাভ থোন

ওলাভ একজন নরওয়েন রিয়েল এস্টেট কিং। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের কাতারে নাম লেখান ২০১৩ সালে। ওলাভ তার এই বিশাল অর্থ উপার্জন করেছেন হোটেল ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি নরওয়েতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন। ওলাভের ব্যক্তিগত সম্পত্তির যে পরিমান তার কাছাকাছি খুব কম ব্যবসায়ী রয়েছেন। নরওয়ের যে কয়েকটি নামকরা ফাইভ স্টার হোটেল আছে তার প্রায় বেশিরভাগ তার মালিকানাধিন। বর্তমানে সব মিলিয়ে তার মালিকানাধীন রয়েছে প্রায় ৪৫০টির মতো সম্পত্তি। অবাক করা বিষয় হচ্ছে তিনি এই বছর প্রায় সবগুলো প্রজেক্টেই লস খেয়েছেন যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ৫.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বছরে তাঁকেও ধরে নেয়া হচ্ছে দুর্ভাগা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন হিসেবে।

 ভিক্টর নুসেনকিস

 ভিক্টর নুসেনকিস

ইউক্রেন থেকে কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন যারা তাদের মধ্যে ভিক্টর একজন। ২০১৩ সালে ফোর্বসের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় নাম উঠে আসে। তিনি বর্তমানে রাশিয়ার নাগরিক ভিক্টর সাইবেরিয়ার প্রধান কয়লাখনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। এই বছরে তার কয়লা কেনাবেচায় ভাটা পড়ে সাথে যোগ হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা যার কারণে কয়লা বিক্রি করতে গিয়ে পদে পদে লসের সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। এই এক বছরের ব্যবধানে ১.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারিয়ে পথে বসে গেছেন তিনি।

 রবার্ট ফ্রেডল্যান্ড

 রবার্ট ফ্রেডল্যান্ড

শুরুর দিকে তিনি একজন ছোট মানের বিনিয়োগকারী হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন পরবর্তীতে তার ভাগ্য তাকে আস্তে আস্তে উপরের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কয়েক বছরের ব্যবধানে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সেরা বিনিয়োগকারীদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি। কাজ করেন বড় বড় কয়েকটি খনিজ উত্তোলন সাইটে কাজ করে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু তার সৌভাগ্য বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮০ সাল থেকে ব্যবসা করে আসা রবার্ট ফ্রেডল্যান্ডের ব্যবসায় বড় রকমের বিপর্যয় ঘটে ২০১৩ সালে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ে ব্যবসায় ধস নামে। এক বছরের ব্যবধানে হারান ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তিনি এখন ঋণগ্রস্ত গরিব একজন ব্যবসায়ী।

হাবিল খোরাকিয়ালা

হাবিল খোরাকিয়ালা

হাবিল খোরাকিয়ালা পেশায় একজন ওষুধ রপ্তানিকারক। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম হাবিল খোরাকিয়ালা’স ফার্মা। ভারতে রয়েছে তার সুবিশাল দুটি ওষুধের কারখানা। তার তৈরি বেশিরভাগ ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে। ভারতের শীর্ষ ধনীদের দলে তো বটেই বিশ্বজুড়ে থাকা বিলিওনিয়ারদের কাতারে তার নাম উঠে আসে ফোর্বসের করা এক তালিকায়। গত অর্থবছরে তিনি ৮১০ মিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ প্রদান করে আলোচনায় উঠে আসেন। শেয়ারবাজারেও তার অবস্থান চড়া ছিল। সবমিলিয়ে খুব ভালো ব্যবসায়িক অবস্থানে ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালে উলটপালট হয়ে যায় সবকিছু। ১ বছরের ব্যবধানে হারান ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওষুধ ব্যবসায় এ ধরনের ক্ষতি একটি রেকর্ড। ওষুধসামগ্রীর চাহিদা থাকলেও ক্রেতারা পিছুটান দেওয়ায় এই ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

উক্ত ঘটনাবলী বিচার বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে টাকা পয়সা এমন জিনিস এই আছে তো এই নেই। আমরা হুদাই টাকা পয়সা নিয়ে ভাব দেখাই যেটা কখনোই কাম্য না।

সূত্র : দৈনিক পত্রিকা

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.