ছুরিমুখো হাঙর

চিন্তা করে দেখুন তো, এমন একটি প্রাণী যার নামই একটি অস্ত্রের নামে সেই কিনা নিজের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে?
ঠিক তাই ঘটেছে দক্ষিণ আমেরিকার ছুরিমুখো হাঙর সাথে। এটি পরিচিত ড্যাগারনোজ শার্ক নামে। বৈজ্ঞানিক নাম ইজোগোমফডন ওক্সিরিনকাস। ধারালো দাঁত, লম্বা চোয়াল এবং পেশীবহুল শরীরের সাথে এটি দেখতে বেশ ভয়ংকর। এটি আকারে খুব একটা বড় নয়, মাত্র দেড় মিটার লম্বা।
এটির প্রধান খাদ্য হচ্ছে সমুদ্র তীরবর্তী ছোট ছোট মাছ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এই মাছের কারণেই তারা বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কারণ, জেলেরা মাছ ধরতে তীরে আসে এবং তাদের জালে খুব সহজেই ধরা পরে এই হাঙররা। এছাড়াও তারা গভীর নদীতে সাঁতার কাটে না। যার ফলে দেখা যায় যে তারা জেলেদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে।
১৯৯০ সালের মাঝেই তাদের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে। যদিও এটি এখনো বিলুপ্তির পর্যায়ে চলে যায় নি তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এটিরও খুব বেশি একটা দেরি নেই আর।
গ্লোবাল ইকোলজি এন্ড কনজারভেশন নামক জার্নালে এটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে নিয়ে ভাবা শুরু করেছেন কারণ সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান ঠিকভাবে হবার জন্য এটির প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি। তাছাড়া এই মাছ খুব দৃষ্টিনন্দনও বটে।
২০০৬ সালে IUCNএর দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এটি বিশেষ ভাবে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর পর্যায়ে চলে গিয়েছে, কিন্তু সংরক্ষণকারীরা এটি নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না।
নতুন গবেষণায় জানা গিয়েছে যে এই হাঙরদের আবাস হচ্ছে ব্রাজিলের সমুদ্র তীরবর্তী দিকে। ১৯৯০ সালে এদের বিলুপ্তি শুরু হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে, তখনকার সময়ে ব্রাজিলের অবস্থা এত ভালো ছিল না। সমুদ্রের সম্পদ আহরণ কিংবা কফি বীনের চাষ করেই তারা তাদের দিন অতিবাহিত করত। এর ফলে দেখা যাচ্ছে যে এই হাঙরদের অপার প্রাপ্তির ফলে তারা সহজ শিকারে পরিণত হয়ে গেল।
বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের নিয়ে চিন্তাভাবনা ইতোমধ্যেই বেশ জোরেশোরে শুরু করে দিয়েছেন। তার কারণ হচ্ছে, পৃথিবী দিন দিন পরিবেশগতভাবে তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এর অন্যতম একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, প্রাণীদের নির্বিচারে হত্যা। বাস্তুসংস্থানের অন্যতম এই প্রাণীদের এভাবে অবাধ হত্যা করা হলে খুব দ্রুতই পৃথিবী এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.