বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। ডিভিডির নাম শোনেন নি বা ব্যবহার করেন নি এমন মানুষ খুবই কমই পাওয়া যাবে। আমরা সবাই ডিভিডির উপকারীতা সম্পর্কে জানি। কারণ ডিভিডিতে প্রচুর পরিমানে ডাটা সংরক্ষণ করা যায়। তবে দুঃসংবাদ হলো সবার মাঝে জনপ্রিয় এই ডিভিডি এখন হারাতে বসেছে তার নিজের আধিপত্য।

সম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে ধীরে ধীরে “ডিভিডির” জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে ডিভিডির দিন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে। আর এমনটাই তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞেরা। ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সাথে সাথে বিদায় নিয়েছে রেকোর্ডার, টেপ, ফ্লপি ডিস্ক এবং সিডি। এবার সময় এসেছে ডিভিডির। এমনকি বিখ্যাত হলিউড চলচ্চিত্র পরিমণ্ডলেও এখন ডিভিডি কদর হারাতে বসেছে। গত কয়েক বছরে ডিভিডি অনেকটা ঋণাত্মক পথে এগিয়ে চলেছে। আর এর সাথে সাথে ডিভিডির অর্থ, বহনযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ মাধ্যমের জনপ্রিয়তা কমছে।

তাহলে প্রশ্ন হলোঃ ডিভিডির বদলে কে জায়গা দখল করছে?

আসলে এটার খুবই সুন্দর একটা উত্তর হচ্ছে অনলাইন খনি। হ্যা! বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন স্টোরেজ বা যাকে আমি বলি ইন্টারনেট কক্ষ। এখন বিভিন্ন কোম্পানী বিশেষ করে সর্বাধিক চলচ্চিত্র উৎপাদন ক্ষেত্র হলিউড ডিভিডির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। আর এজন্যই নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতারা ডিভিডির বদলে ইন্টারনেট প্রচারণায় বিনিয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আর এটি ডিভিডি শিল্পের জন্য মোটেও সুসংবাদ নয়। বর্তমান প্রযুক্তি খুবই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ফলে এই রাস্তায় কোন কিছুই তার নিজের অস্তিস্ব বেশী দিন টিকে রাখতে পারছে না। যেমনটা ঘটেছে “ডিভিডির” ক্ষেত্রে। সাম্প্রতি একটি জরিপের সূত্রে এ তথ্য জানা যায় যে, গত এক বছরে ডিভিডি এবং ব্লুরে (BlueRay) ডিস্ক প্রায় ২০% বাজার হারিয়েছে।

এছাড়াও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনপিডি জানিয়েছে, গত ছয় মাসে ডিভিডি ১০% ভাগ বাজার হারিয়েছে। আর এ বছরের প্রথমভাগেই ২৬০ কোটি থেকে ২১০ কোটি ডলারের নেমে এসেছে ডিভিডির বিক্রি। আর তাছাড়া ডিভিডি বাজারে অন্যতম দু প্রতিন্দন্দ্বী হচ্ছে ব্লুরে ডিস্ক এবং এইচডি ডিভিডি। উন্নত প্রযুক্তির কারণে এদের টিকে থাকা বর্তমানে সত্যি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ জানিয়েছেঃ

ডিজিটাল বিনোদন শিল্পে ব্লুরে ডিস্ক আরও কিছুটা সময় টিকে থাকলেও। ডিভিডির হাতে আছে আর মাত্র এক থেকে দুই বছর।

লাইভইন্টারনেটের পরিচালক জার্মান কিলিমেনকো জানানঃ

ডিভিডির এখন অস্তিত্ব হারাচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল শিল্পের দ্রুত মানোন্নয়নে ডিভিডি অসহায় আত্মসর্মপণ এখন দৃশ্যমান। তাছাড়া এসময় বহনযোগ্য পণ্যগুলো ভোক্তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে উঠেছে। তাই এ ডিভিডি শিল্প আগামী দু থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এখন বর্তমান ডিভিডি ব্যবহারকারীরা বলছেনঃ

ডিভিডি ব্যবহারে এখন তাদের নানান সমস্যা হচ্ছে। দুরে কোথাও গেলে ডিভিডিগুলোও তাদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়।

এটি তাদের বিরোক্তির অন্যতম কারণ। এছাড়াও ডিভিডি ব্যবহার করার জন্য “ডিভিডিটিকে” ভিভিডি রমে ঢুকাতে হয়। এখন আমাদের এটাই দেখতে হবে যে সময়ের সাথে লড়াই করে “ডিভিডি” বিশ্ব প্রযুক্তির বাজারে কতক্ষন টিকে থাকতে পারে।

ধন্যবাদ…
মোঃ আব্দুর রহিম

তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক আমার বাংলা ব্লগঃ www.itworld24.tk

comments

8 কমেন্টস

  1. শেষ কবে ল্যাপ্টপের ডিভিডি রম ব্যবহার করেছি, মনে নাই।

  2. ভাই ডিভিডি উঠে গেলে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে এটা কি আপনি বুঝতে পারছেন। সবার না হলে আমার মত যারা গ্রামীন ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের।

    • ভাই দুঃভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশ আমিরিকার চেয়ে ৫০ বছর পিছিয়ে আছে। তাই মনে করুন বাংলাদেশে ডিভিডি বিলুপ্ত হতে সময় লাগবে ৫০ বছর! ইনসাআল্লাহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.