বিলুপ্তপ্রায় শামূক

গুটি গুটি পায়ে হেঁটে চলা, মুহূর্তের মাঝেই শক্ত খোলকের মাঝে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে। প্রাণীটি কি হতে পারে?

হ্যাঁ, শামূকের কথাই বলছি। তারা আকারে ছোট, তাদের শরীর খুবই নাজুক। একটি গরিলা কিংবা মেরু অঞ্চলের ভালুকের মত তাদের মাঝে মনকড়া কোন বৈশিষ্ট্য নেই। তবুও তারা পৃথিবী থেকে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিভাবে?

হাওয়াইতে অ্যাকাশিনেলা ফাসকোবিস নামক প্রজাতিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিপন্নদের তালিকায়। তাদেরকে শেখানো হচ্ছে বন্য পরিবেশে তারা নিজেদেরকে কেমন করে টিকিয়ে রাখবে। অ্যালাবানায় বন্যপ্রানী সংরক্ষনকারী সংস্থাগুলো এক ধরনের পাথুরে প্রজাতির শামূকদের বিপন্নদের তালিকা স্থান দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড, ফিজি, মালয়শিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণে বিলীন হয়ে যাওয়া শামূকদের প্রজাতির সংখ্যা কেবলই দিন দিন বাড়ছে। এটি তো শুধু ওপরের সারির কথা বলা হল। এ বছর প্রায় ১৪০টিরও অধিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে বিপন্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত শামূকদের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন শামূকদের অস্তিত্ব আজ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। তার কিছু কারণ হিসেবে বলা যায় বাস্তুসংস্থানের কথা। মাছ, পাখি ও অন্যান্য কিছু জীব খাবার হিসেবে শামূকের ওপর নির্ভর করে থাকে। তাছাড়া, কিছু উদ্ভিদও মাটির সাথে নিজেদের সম্পর্ক স্থাপনে শামূকের ওপর নির্ভর করে থাকে।

রেবেকা র‍্যানডেল, নিউ ইয়র্কের স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শামূক নিয়ে গবেষণাকারী বলেছেন কেন আমাদের শামূকের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত হতে হবে। তাদের খোলকে থাকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট যার মাধ্যমে তারা কত বছর বেঁচে থাকে তার একটা হিসেব পাওয়া যায়। এই খোলকের ওপর একটি শামূকের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নির্ভর করে। অন্যান্য প্রাণীদের মৃত্যুর পর তাদের কঙ্কাল পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের তথ্য পেয়ে থাকেন। কিন্তু একটি শামূকের মৃত্যুর পর তার খোলকের ওপরই সব নির্ভর করে থাকে। শামূকটি যে অঞ্চলে ছিল, তার বাস্তুসংস্থান ও অন্যান্য জীব বৈচিত্র্য সম্পর্কেও নানা ধরনের ধারণা পাওয়া যায়।

এছাড়াও বিজ্ঞানীরা বলেন সামুদ্রিক যেসব শামূকের খোলক তাদের মৃত্যুর পর পরীক্ষা করা হয়, সেসব খোলক থেকে প্রাপ্ত ক্যালসিয়াম কার্বনেটের পরিমাণ থেকে বোঝা যায় সামুদ্রিক অঞ্চল কতটা ক্ষতির সম্মুখীনে রয়েছে। একই কথা ঠিক ভূমিতে যেসব শামূকের বসবাস, তাদের ক্ষেত্রেও খাটে।

র‍্যাচেল বলেন, “শামূকের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতিতে নানা ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেখতে পাই। কিন্তু এরা দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার ভয় হয় যে এরা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবার আগেই না মানব জাতির ওপর বড় কোন বিপর্যয় এসে পরে? তখন সাবধানবাণী দেবার জন্য এমন উপকারী বন্ধু কি আমরা আদৌ পাব?”

সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে আমাদের আজকের যে বিবর্তন হয়েছে, তার একটি স্পষ্ট বাহক হচ্ছে শামূক। বিবর্তন নিয়ে গবেষনাকারী যেসব বিজ্ঞানীরা রয়েছেন তারা দিন দিন এ বিষয় নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েই চলেছেন।

বিলুপ্তির হাত থেকে শামূকদের রক্ষা করা কোন সহজ কথা নয়। কারণ, তাদের আবাস ধ্বংস করা খুবই সহজ, নাগালেই থাকে। তাছাড়া এটাও আমাদের জানা নেই যে কতটুকু জায়গা হলে কিংবা কতটুকু পরিবেশে তারা তাদেরকে মানিয়ে নিতে সক্ষম। র‍্যানডেল গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এদেরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য।

শামূকদের রক্ষা কেন করতে হবে? সহজ উত্তর, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তারা প্রকৃতির এক অপার ধাঁধা বহন করে চলছে। হয়ত ভবিষ্যতে আমরা কোথায় যাব কিংবা কতটুকু বিবর্তিত হতে পারব, সে প্রশ্নের উত্তরও জানা আছে তাদের।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.