কম্পিউটার কে তার কার্যকার তাপমাত্রায় রাখতে হলে, কম্পিউটার চলার সময় যে অতিরিক্ত তাপমাত্রা উৎপন্ন হয় তা বের করে দেয়া খুবই জরুরি। এতে করে আপনার কম্পিউটার টির আয়ুস্কাল যেমন বাড়বে, তেমনি ভাবে কম্পিউটার এর কাজ করার ক্ষমতাও বাড়বে। কম্পিউটারের মধ্যে যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা বের করে দেয়ার জন্য কম্পিউটারের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম আছে, যাকে স্টক কুলিং সিস্টেম বলা হয়ে থাকে।কিন্তু দেখা যায়, আমরা আমাদের কম্পিউটার কে যখন খুব বেশি লোড দেই, তখন কম্পিউটার এর নিজস্ব স্টক কুলিং সিস্টেম কম্পিউটার কে সম্পূর্ন ভাবে ঠান্ডা করতে পারে না। এর জন্য স্টক কুলিং সিস্টেম এর বাহিরেও আরো বিভিন্ন ধরনের কুলিং সিস্টেম আছে যার অনেক গুলোই আমাদের অজানা। আজকে আমি আপনাদের সাথে সেই সমস্ত কুলিং সিস্টেম নিয়েই আলোচনা করতে আসছি।

কম্পিউটারের মধ্যে সাধারনত, প্রসেসর, চিপসেট, গ্রাফিক্স কার্ড, র্যা ম, হার্ড ডিস্ক, এগুলোই তাপ উৎপন্ন করে থাকে। বর্তমান দিনের বেশির ভাগ কম্পিউটারের বায়োসে এমন একটি প্রোগ্রাম দেয়া থাকে, যার কাজ হচ্ছে, কম্পিউটার এর তাপমাত্রা বেড়ে যেতে লাগলেই তা কম্পিউটার ইউজার কে অ্যালার্ম দিয়ে জানিয়ে দিবে।

আসুন দেখি, কেন আমাদের কম্পিউটারে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়;

আমাদের কম্পিউটার এ যে সমস্ত কম্পনেন্ট গুলো তাপ উৎপন্ন করে, সেগুলোর সাথে সাধারনত হিট সিঙ্ক লাগানো থাকে।আবার যে সমস্ত হার্ডওয়্যার গুলো খুব বেশি তাপ উৎপন্ন করে, তাদের হিট সিঙ্ক এর সাথে ফ্যানও লাগানো থাকে। এখন, কোন কারনে যদি হিট সিঙ্ক এ ধুলো বালু জমে যায়, অথবা ধুলো-বালুর জন্য হিট সিঙ্ক এ লাগানো ফ্যাল টি ভালো ভাবে না ঘুরতে পারে, তবে কম্পনেন্ট গুলো থেকে তাপ সম্পূর্ন ভাবে বের হয়ে যেতে পারে না। ফলাফল ? অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন।

অনেক সময়, আমরা আমাদের কম্পিউটার এর কেস টাকে আমন জায়গায় রাখি, যেখানে সঠিক পরিমান ঠান্ডা বাতাস চলাচল করতে পারে না। আবার অনেক সময় কম দামি কম্পিউটার কেস এর জন্যও বাতাস চলাচলে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
আবার অনেক সময় আমরা, আমাদের কম্পিউটার এর বিভিন্ন হার্ডওয়্যার কে ওভারক্লকিং করে থাকি।ওভারক্লকিং হচ্ছে, আমাদের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার গুলো কে এদের নির্দিষ্ট করে দেয়া ক্ষমতার থেকে অতিরিক্ত ক্ষমতায় পরিচালনা করা।এটা নিয়ে ইনশাল্লাহ, অন্য কোন পোস্ট এ বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। ওভারক্লকিং এর জন্যও কম্পিউটার অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।
এছাড়াও আরো বিভিন্ন কারনে কম্পিউটার গরম হতে পারে।

ক্ষতিরোধকঃ

মাত্রাতিরিক্ত গরমের জন্য যেন কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার এর কোন ধরনের ক্ষতি না হয়, এ জন্য বিভিন্ন কম্পনেন্টের সাথে কিছু বিশেষ ধরনের যন্ত্র লাগানো থাকে, যাকে বলা হয়ে থাকে, থার্মাল সেন্সর। এদের কাজ হয়, যখন কম্পিউটার এর কোন হার্ডওয়্যার তার কার্যকর তাপমাত্রার থেকে বেশি গরম হয়ে যায়, তখনই সেই হার্ডওয়্যার টিকে বন্ধ করে দেয়া, অথবা ইউজার কে জানানো যে, এই হার্ডওয়্যার টি গরম হয়ে যাচ্ছে।
আমাদের কম্পিউটার এর বর্তমান সময়ের প্রসেসর গুলোতে এই ধরনের থার্মাল সেন্সর এর কাজ দেখা যায়। ছোট্ট একটি পরীক্ষা হয়ে যাক;
আপনার কম্পিউটার টির প্রসেসর এর দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন, প্রসেসর এর ফ্যান থেকে চারটি তারের একটি কানেকশন মাদারবোর্ড এ গিয়েছে। সেটা খুলে দিন,

এবার কম্পিউটার কে চালু করুন। তিন টি ধটনা ঘটতে পারে;

১। আপনার কম্পিউটার এর বায়োস থেকে আপনাকে জানিয়ে দিবে, আপনার কম্পিউটার এর সিপিইউ ফ্যান টি কাজ করছে না।
২। কম্পিউটার কিছুক্ষন চলার পরে সিপিইউ গরম হয়ে আপনার কম্পিউটার কে শাট ডাউন করে দিবে।
৩। অথবা, আপনি বিকট পোড়া গন্ধ পাবেন, আপনার কম্পিউটার এর প্রসেসর টি জ্বলে যাবে, এবং সেটা আপনি আমার কম্পিউটার জাদুঘরে দান করে দিবেন। (হেঃ হেঃ হেঃ …… )

আসুন এবার দেখি কম্পিউটার কুলিং এর কিছু পদ্ধতিঃ

এয়ার কুলিং ঃ

নাম শুনেই আশা করি বুঝতে পারছেন যে, এই পদ্ধতিতে বাতাসের মাধ্যমে কম্পিউটার কে ঠান্ডা করা হয়ে থাকে। সাধারনত আমরা কম্পিউটার এর ফ্যান গুলোকে ব্যাবহার করে, বাহির থেকে ঠান্ডা বাতাস আমাদের কম্পিউটার এর কেস এর মধ্যে প্রবেশ করায় এবং কেস থেকে গরম বাতাস গুলো কম্পিউটার কেস এর এয়ার চ্যানেল দিয়ে বাহিরে বের করে দেয়া হয়।

এয়ার কুলিং পদ্ধতির জন্য আমরা বিভিন্ন সাইজের ফ্যান ব্যবহার করে থাকি যেমন; ৪০, ৬০, ৮০, ৯২, ১২০ এবং ১৪০ মিলিমিটার। তবে বর্তমানে, কিছু কিছু কম্পিউটার কেস এ ২০০ মিলিমিটার এর ফ্যান ব্যবহৃত হচ্ছে।

ডেক্সটপ এর ক্ষেত্রেঃ

আমাদের ডেক্সটপ কম্পিউটার এ সাধারনত দুইটি ফ্যান থাকে, এর একটি পাওয়ার সাপ্লাই এর সাথে এবং একটি থাকে কম্পিউটার কেস এর পেছন দিকে। সাধারনত প্রায় সকল নির্মাতারা (হার্ডওয়্যার নির্মাতা) যেটা রেকমেন্ড করেন, তা হচ্ছে, কম্পিউটার কেস এর সামনের নিচের দিকে একটি যথেষ্ট বড় কুলিং ফ্যান। এবং কেস এর উপর দিকে এয়ার ভেন্টিলেশন সিস্টেম, যার মাধ্যমে, সাম্নের ফ্যান টি ঠান্ডা বাতাস নিয়ে ভেতর থেকে গরম বাতাস কে কেস এর উপর দিয়ে বের করে দিতে পারে।

এক্ষেত্রে একটি বিশেষ সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। কিছু কিছু কম্পিউটার কেস এ দুটি ফ্যান থাকে। যার একটি কেস এর সামনে এবং একটি পেছনে। এখন যদি সামনের ফ্যান টি যেই ভলিউম এর ঠান্ডা বাতাস কেস এর মধ্যে প্রবেশ করাচ্ছে, সেই হারে পেছনের ফ্যান টি যদি ভেতরের গরম বাতাস না বের করে দিতে পারে, তবে কম্পিউটার কেস এর মধ্যে বাতাসের চাপের তারতম্য ঘটতে পারে। একে বলা হয়ে থাকে পজিটিভ এয়ার ফ্লো। কিছু কিছু সময় সামান্য পরিমানের পজিটিভ এয়ার ফ্লো কম্পিউটার কেস এ বাহির থেকে ধুলা বালু ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু যদি এর বিপরীত ঘটনা ঘটে, যাদি নেগেটিভ এয়ার ফ্লো (যদি পেছনের ফ্যান টি যেই ভলিউম এ গরম বাতাস কেস এর মধ্যে থেকে বের করাচ্ছে, সেই হারে সামনের ফ্যান টি যদি ভেতরে ঠান্ডা বাতাস না প্রবেশ করাতে পারে) হয়ে যায়, তবে কম্পিউটার এর অপটিক্যাল ড্রাইভ গুলো তে বেশ কিছু ঝামেলা সহ ধুলা বালু কম্পিউটার কেস এ ঢুকতে পারে।

সার্ভার এর ক্ষেত্রেঃ

আমাদের ডেক্সটপ কম্পিউটার এর কুলিং সিস্টেম আর একটি সার্ভারের কুলিং সিস্টেম এর মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। ধরুন, আপনার ডেক্সটপ টি অতিরিক্ত গরমে বন্ধ হয়ে গেল। কোন ঝামেলা নাই, কিন্তু হঠাৎ করে কথা নেই বার্তা নেই, আপনার সার্ভার টি যদি বন্ধ হয়ে যায় ? অথবা আপনার সার্ভারটির যদি কোন ক্ষতি হয়ে যায় ? এ সমস্ত বিষয় কে মাথা তে রেখে, সার্ভার এর কুলিং সিস্টেম টিকে তৈরী করা হয়েছে।

সার্ভার কে ঠান্ডা রাখার জন্য বাতাস কে সামনে থেকে টেনে এনে সার্ভার এর পেছন দিয়ে বের করে দেয়া হয়। আবার অনেক সময় সার্ভারের জন্য ব্লেড কেস ও ব্যবহৃত হয়। এর পেছনে মূল কারন থাকে, যখন সার্ভারের বিভিন্ন কম্পনেন্ট এর মাধ্যমে সার্ভার র্যােক টির ভেতরে গরম হয়ে যায়, সে সময় গরম বাতাস উপরের দিকে উঠে যায়, এবং বাহির থেকে ঠান্ডা বাতাস সার্ভার র্যা ক টিতে প্রবেশ করে। এটা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এবং এভাবে কাঙ্ক্ষিত এয়ার ফ্লো পাওয়া সম্ভব। এবং বর্তমানের প্রায় সকল সার্ভার নির্মাতারাই এই পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।

ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রেঃ

কুলিং সিস্টেম কে সবচাইতে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ল্যাপটপ কুলিং সিস্টেম। কেননা ল্যাপটপ যতবেশি ক্ষমতা সমপন্ন করা হবে, তাতে হিট জেনারেশন ততটাই বেশি হবে। কিন্তু এখানে আবার দুটো সমস্যা আছে। ল্যাপটপ এর আকার এবং এক ওজন। কম্পিউটার থেকে হিট বের করে দিতে হলে, তাতে যেমন ফ্যান এবং হিট সিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রে সে পরিমান (সেই সাইজের) ফ্যান এবং হিট সিঙ্ক ব্যবহার করার জায়গা থাকে না। আবার যদি বড় মাপের হিট সিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, তবে ল্যাপটপ এর ওজন বেড়ে যাবার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাবে না।

(অফটপিকঃ আমার খুব দেখবার ইচ্ছা, কিভাবে বর্তমান সময়ের ম্যাক এয়ার বুক, তার ভেতরের ইন্টেল কোর আই সেভেন প্রসেসর এর হিট বের করে দিতে পারে। আপনারা নিশ্চই জানেন, বর্তমান সময়ের ম্যাক এয়ার বুক কি রকম পাতলা !!!)

তবে বর্তমান সময়ের প্রসেসর গুলোর একটি গুন, এ ক্ষেত্রে নির্মাতাদের খুবই সাহায্য করেছে, আর তা হচ্ছে, লো পাওয়ার কম্পোনেন্ট। এই হার্ডওয়্যার গুলো তাদের সকল ক্ষমতা অপরিবর্তিত রেখেই,খুব কম পাওয়ার এ চলার উপযোগী করে তৈরি করা।

আজ তাহলে এ পর্যন্তই থাক। এই পোস্ট এর পরবর্তি অংশে আমরা দেখব , কম্পিউটার এর আরো বেশ কিছু কুলিং টেকনোলজি। আমার লিখাটি আপনাদের কাছে কেমন লাগল দয়া করে জানাতে ভুলবেন না।

comments

46 কমেন্টস

  1. মাক এর রিসেলার স্টোর এ গিএ দেখে আসতে পারেন।

  2. দারুন পোস্ট । ভাই আমি যদি এক্সট্রা ফ্যান ব্যাবহার করি তাহলে কিভাবে করবো? লাইন জইন দিব কই? আর বাতাস কি ভিতরের দিকে আনব নাকি বাহিরে পাঠাব? ভাই একটু কষ্ট করে জানাবেন।

    • পোস্ট টি ভালো লেগেছে জানিয়েছেন, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ফ্যান আপনি কম্পিউটার কেস এ সামনে লাগালে, বাতাস ভেতরে যাবে, পেছনে লাগালে বাতাস বাহিরে যাবে, বাম পাশে লাগালেও বাতাস বাহিরে যাবে। এই ফ্যান গুলো সাধারনত ১২ ভোল্ট এ চলে। তাই পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ১২ ভোল্ট এর সাথে ফ্যান টিকে সংযুক্ত করুন।

  3. I just want to tell you that I am just beginner to weblog and seriously savored your blog site. More than likely I’m going to bookmark your website . You absolutely come with great article content. Regards for revealing your blog.

  4. I am now not sure the place you are getting your info, but good topic. I must spend some time finding out much more or working out more. Thank you for magnificent information I was in search of this info for my mission.

  5. It’s almost not possible to find well-qualified men and women on this content, however, you look like you are familiar with the things that you’re writing about! Thanks A Lot

  6. I really wish to show you which I am certain beginner to having a blog and completely admired your post. Very likely I am inclined to store your web post . You seriously have superb article stuff. Appreciate it for expressing with us your web write-up.

  7. We simply have to share it with you that I am fresh to posting and very much valued your write-up. Likely I am prone to store your site post . You literally have lovely article topic. Be Grateful For it for giving out with us your domain page.

  8. I really desire to notify you in which I’m just new to blogging and absolutely enjoyed your website. Very possible I am going to remember your web post . You simply have excellent article writing. Delight In it for giving out with us your internet site report.

  9. We simply want to inform you in which I’m just fresh to writing a blog and thoroughly cherished your article. Very possible I am probably to bookmark your site post . You literally have fabulous article subject. Get Pleasure From it for swapping with us your site write-up.

  10. Might be almost not possible to find well-qualified viewers on this theme, nevertheless you come across as like you understand what you’re talking about! Thanks A Lot

  11. Hello, Neat post. There is a problem with your website in web explorer, could test this¡K IE still is the marketplace leader and a huge element of people will pass over your great writing due to this problem.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.