কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি ভাল। আমরা গত পর্বে কম্পিউটারের খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি অংশ কুলিং সিস্টেম এর প্রয়োজনীয়তা এবং “এয়ার কুলিং” সম্পর্কে জেনেছিলাম। যথারীতি আজকের পর্বে আমরা আরো কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জানবো

লিকুইড সাবমার্সিবল কুলিং সিস্টেমঃ

নামটি একটু খটমটে, এবং এই পদ্ধতিটি তেমন বহুল ব্যবহৃত নয়। এই পদ্ধতির সহজ বাংলা বলা যায়, বিশেষ প্রকার তরলে ডুবিয়ে ঠাণ্ডা করা। এই পদ্ধতিতে কোন ধরনের ফ্যান এর প্রয়োজন নেই। তাহলে এটা কিভাবে কাজ করে? এই পদ্ধতিতে, হার্ডওয়্যার কে একটি বিশেষ ধরনের তরলে ডোবান থাকে, যা সম্পূর্ন ভাবে বিদ্যুৎ অপরিবাহী, কিন্তু অবশ্যই সম্পূর্ন রূপে তাপ পরিবাহী। হার্ডওয়্যার গরম হয়ে গেলেই, এই তরল টি হার্ডওয়্যার থেকে তাপ পরিহবন করে বের করে দিবে। আর এতে সাহায্য করবে, পারিপার্শিক বাতাস।

তাহলে এমন লিকুইড / তরল কোথায় পাওয়া যাবে ? আর কোথায় ব্যবহার করা হবে ?

অনেক প্রশ্ন……

3M কোম্পানির নাম আমরা অনেকেই শুনেছি। এই কোম্পানি এক ধরনের তরল এর প্রস্তাব নিয়ে এসেছে; যার নাম, Fluorinert , এটা ২১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিতে সক্ষম। এছাড়াও আছে সিলিকন অয়েল নামক তরলও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এই ধরনের কুলিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়ে থাকে সাধারনত সুপার কম্পিউটার গুলোতে। ক্রে ২, ক্রে টি ১৯০ সুপের কম্পিউটার গুলোকে এই সিস্টেম এ ঠাণ্ডা করা হয়ে থাকে।

কন্ডাক্টিভ এবং রেডিয়েটিভ কুলিং সিস্টেমঃ

মনে আছ, আমার এই কুলিং সিস্টেম নিয়ে লিখা প্রথম লিখাটির কথা ? আমরা কথা বলেছিলাম, আমাদের ল্যাপটপ গুলো তে জায়গার সল্পতার জন্য বড় ধরনের কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু একবার ভাবুন তো,

আমারা ল্যাপটপ এর সম্পূর্ন বডি টাকেই যদি এক বিশাল তাপ পরিবাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয় ? হ্যা, কন্ডাক্টিভ এবং রেডিয়েটিভ কুলিং সিস্টেম ঠিক এভাবেই কাজ করে। সাধারনত ল্যাপটপ এ এই সিস্টেম টিকে ব্যবহার করা হয়। ল্যাপটপ এর ভেতরে অ্যালুমিনিয়াম এর একটি ফ্রেম ব্যবহার করা হয়, যার সাথে ল্যাপটপ এর হার্ডডিস্ক এবং রম গুলোকে স্পর্শ করিয়ে দেয়া হয়, যাতে করে, উৎপন্ন তাপ, অ্যালুমিনিয়াম এর ফ্রেম টির মাধ্যমে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান সময়কার অনেক র্যা ম এ (২ গিগাবাইটের ডিডিআর ২ বা তার অধিক) টেকনোলজি টি ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্যাসিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেমঃ

প্যাসিভ হিট সিঙ্ক কুলিং হচ্ছে, কম্পিউটার বা অন্য যে কোন ডিভাইস এর যে সকল চিপস গুলো খুব বেশি তাপ উৎপন্ন করে তাদের উপরে একটি মেটাল ব্লক বসিয়ে দেয়া। কেন ? এভাবে চিন্তা করুন, কম্পিউটার এর চিপ গুলো কিন্তু খুব একটা উচ্চতার হয় না, এগুলো বেশ নিচু। এতে করে সরাসরি বাতাস চিপ গুলো কে ঠান্ডা করতে পারে না। আবার মেটাল খুব সহজেই চিপ থেকে উৎপন্ন হওয়া গরম কে নিজের মধ্যে নিতে পারে এবং বাতাসের সংস্পর্শে খুব তারাতারি ঠান্ডাও হয়ে যেতে পারে। শোষণ অথবা যদি এভাবে বলতে চান যে, হিট ট্র্যান্সফার করার ক্ষমতা সাধারন মেটাল থেকে কপারের অনেক বেশি হবার জন্য, এখন কার দিনের বেশির ভাগ হিট সিঙ্ক গুলো কপার দিয়ে বানানো।

অ্যাক্টিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেমঃ

অ্যাক্টিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেম এবং প্যাসিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেম এর মধ্যে আসলে কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য বলতে শুধু মাত্র একটি আছে, আর তা হচ্ছে, প্যাসিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেম এ মেটাল টি সিস্টেম এর মধ্যেকার বাতাস ব্যবহার করে নিজেকে এবং চিপ কে ঠান্ডা করে। আর অ্যাক্টিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেম এ মেটাল টির উপরে একটি ফ্যান বসানো থাকে, যার কাজ হয় বাতাস কে টেনে এনে মেটাল (হিট সিঙ্ক)টির উপর দিয়ে প্রবাহিত করে দেয়া।
একটি বাজে দিক আছে, এই অ্যাক্টিভ হিট সিঙ্ক কুলিং সিস্টেম এর। আর তা হচ্ছে, যেহেতু ফ্যান টি বাহির থেকে বাতাস টেনে আনে এবং তা বেশ ভালো প্রেসার দিয়েই, এতে করে খুব তারাতারি হিট সিঙ্ক এর মধ্যে ধুলো-বালু জমে যায়। একটা সময় দেখা যায় (হিট সিঙ্ক এর মধ্যে জমে থাকা ধুলো-বালু না পরিস্কার করলে) এই ময়লা হিট সিঙ্ক টির জন্যই চিপ টির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। কেননা ধুলো-বালু জমে থাকার কারনে এটা সঠিক ভাবে তাপ পরিবহন করতে পারে না।

হিট পাইপ কুলিং সিস্টেমঃ

হিট পাইপ কুলিং সিস্টেম এ চিপ এর উপরে বসানো হিট সিঙ্ক থেকে এক বা একাধিক খালি পাইপ বের হয়ে চিপ থেকে একটু দূরে (অধিকতর ঠাণ্ডা স্থানে) চলে আসে, এবং এই পাইপ গুলোতে হিট ট্রান্সফার লিকুইড দেয়া থাকে। যখন হিট সিঙ্ক টি গরম হয়ে যায়, হিট পাইয়ের মধ্যে থাকা হিট ট্রান্সফার লিকুইড বাস্পীভুত হয়ে পড়ে এবং তা ঠাণ্ডা স্থানের দিকে যেতে থাকে (Capillary Action http://en.wikipedia.org/wiki/Capillary_action), আর এ সময় তরল গুলো অতিরিক্ত তাপ কে হিট সিঙ্ক থেকে বহন করে। ঠাণ্ডা স্থানে এসে হিট ট্রান্সফার লিকুইড গুলো তাদের বাষ্পীভূত অবস্থা থেকে আবার তরলে রূপান্তরিত হয়, এবং আবারো তা গরম স্থানের দিকে চলে যায়। আর এভাবেই চিপ টির তাপমাত্রা এর সহনীয় পর্যায়ে থাকে।

আজ তাহলে এ পর্যন্তই থাক। এই পোস্ট এর পরবর্তি এবং সর্ব অংশে আমরা দেখব , কম্পিউটার এর আরো বেশ কিছু মর্ডান কুলিং টেকনোলজি। আমার লিখাটি আপনাদের কাছে কেমন লাগল দয়া করে জানাতে ভুলবেন না।

comments

5 কমেন্টস

  1. সঞ্চয় ভাই কি দেকান। লোভ লাগে তো। C2D দিয়া চালাই, এখন তো বাজার স্যান্ডি ব্রিজ, পিসিআই৩ এ ভর্তি। কদিন পর XDDR ও আইব। তার মাঝে কুলার দেখাইয়া পেইন দিলেন।

    পোস্ট ভালা হইছে। পিলাচ। 🙄

    • অনেক ধন্যবাদ শাওন ভাই … হেঃ হেঃ পেইনের দেখছেন কি ?? আমি তো কাজ না থাকলেই Computer City তে খালি ঘুরি আর হার্ডওয়্যার দেখি … ইশ আমাকে কেউ যদি লাখ তিনেক টাকা দিত … ভয়ংকর একটা গেমিং পিসি বানাইতাম … 🙁

  2. I just want to tell you that I am all new to weblog and certainly savored your web-site. Most likely I’m want to bookmark your site . You absolutely have good articles and reviews. Regards for sharing your website page.

  3. *I don’t even know how I ended up here, but I thought this post was good. I do not know who you are but certainly you are going to a famous blogger if you aren’t already Cheers!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.