Ivory

যারা সিটকম দেখতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে “মিয়ামি ভাইস” একটি অতি পরিচিত নাম। দুইজন পুলিশ অফিসারের ছদ্মবেশে অপরাধ জগতের সাথে যোগ দিয়ে অপরাধীদের সনাক্ত করা নিয়েই ছিল এই সিটকমের মূল বিষয়। যদি মিয়ামি ভাইস আবার নতুন করে তৈরি করা হয়, তবে খল চরিত্ররা অবশ্যই ড্রাগ নিয়ে কাজ করতেন না। তাদের কাজ হত বন্য পশু পাচার। কেন? বলছি।

নিউ ইয়র্কের মাদক ও অপরাধ কর্ম তদন্তকারী একটি প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে বন্য পশু ও তাদের থেকে প্রাপ্ত যে সমস্ত চামড়া ও অন্যান্য বস্তু পাওয়া যায়, তা পাচার করে প্রতি বছর বন্য পশু চোরাচালানকারীরা বিপুল অর্থের মালিক হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয় যে, পৃথিবীর প্রায় ১২০টিরও দেশে অবৈধ এসব ব্যবসা করে প্রাপ্ত উপাদান থেকে তৈরি করা হয় নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি। পরিবেশের ওপর ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নানাভাবে তা প্রভাব ফেলছে।

কিন্তু প্রতিবেদনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন তথ্যটি উঠে এসেছে তা হল, হাতির দাঁত অবৈধভাবে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচার হচ্ছে এবং এর ফলে পোচাররা নির্বিচারে হাতি শিকার করছেন। এই শিকারে ব্যবহার করা হয় ট্রাংকুলাইজার ও নানা ধরনের মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্র। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে লোভনীয় বস্তু হচ্ছে কোকেনের চালান এবং বর্তমানে তারা কোকেনের চোরাচালান ও অবৈধ হাতির দাঁতের ব্যবসাকে একই রকম লাভবান বলে মনে করছেন। কারণ, কোকেনের চোরাচালানে যে পরিমাণ লাভ উঠে আসে, ঠিক সমপরিমাণ লাভ উঠে আসছে হাতির দাঁতের ব্যবসায়। এমনকি তারা মনে করছেন খুব শীঘ্রই কোকেনকেও টেক্কা দিয়ে যাবে এ ব্যবসা।

এসব চোরাচালানীরা প্রায় বিলুপ্ত কিংবা যেসব বন্য পশুরা তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় অসহায় হয়ে পড়ছে, তাদেরকে ব্যবসার মূল হাতিয়ার বানাচ্ছেন। কারণ, যারা এসবের ব্যবসা করেন তাদের কাছে এসব জন্তু জানোয়ারের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের চাহিদা প্রচুর।

জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে যে প্রতি বছর থাইল্যান্ড থেকে প্রচুর পরিমাণে হাতি শিকার করা হয় এবং এর ফলে দিন দিন দেশ থেকে হাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিবেশবিদরা এটি নিয়ে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। যদি এভাবে প্রতি বছর আশঙ্কাজনকভাবে হাতির সংখ্যা কমতে থাকে তবে পরিবেশের ওপর তা বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাছাড়া থাইল্যান্ডসহ আফ্রিকার কিছু কিছু দেশে হাতিকে দেবতার ন্যায় পূজা করা হয়। হাতির দাঁতকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মানা হয়ে থাকে। ডাক্তাররা বলেন হাতির দাঁত থেকে নানা ধরণের মূল্যবান ঔষধও তৈরি করা হয়।

সবশেষে কথা একটাই। প্রকৃতিতে নিজেদের মত বাঁচার, আবাস গড়ে নেয়ার অধিকার প্রতিটি জীবের রয়েছে। এসব অবৈধ কাজ যারা করছে তাদের প্রতি সোচ্চার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন।

 

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.