আমরা সংবাদ পত্র বা টিভি চ্যনেল খুললেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা শুনে থাকি। কিন্তু ব্লগিং যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এবং তথ্য প্রযুক্তিকে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌছে দিতে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকারী একটা মাধ্যম হতে পারে এ বিষয়টিকে নিয়ে বিশেষ কোন পরিকল্পনা দেখা যায় না। অসংখ্য শিক্ষর্থী আছেন যারা ইতোমধ্যেই বিজ্ঞান বিভাগে HSC পাশ করেছেন, মাঝেমাঝে ইন্টারনেটও ব্যবহার করে থাকেন  কিন্তু ব্লগিং কি জানেনই না। আমাকে তো কিছুদিন আগে এক বন্ধু প্রশ্নই করে বসল WordPress কি? Google কি?

……………………………………………………………………………….

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা

r1একটি দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করা নয় বরং প্রযুক্তির কলাকৌশল সম্পর্কে সকলকে জানানো, নতুন নতুন কলাকৌশল উদ্ভাবন অথবা উদ্ভাবনের চেষ্টা করাটাই এখানে মুখ্য। আমাদের দেশে যে এ ধরণের কার্যক্রম যে পরিচালিত হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। ধানের তুষ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবর্জনা থেকে জৈব্যসার তৈরি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে খালের পানির স্রোতকে কাজে লাগানোর মত ছোট ছোট সম্ভাবনাময় খবর প্রায়ই আমাদেরকে সাময়িক ভাবে উৎসায়িত করে তোলে কিন্তু নিমেষেই তা হারিয়ে যায়। অনেকেই এসকল কলাকৌশল ব্যবহারে আগ্রহী হন কিন্তু প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্যের অভাবে তা ব্যবহার করতে পারেন না। একই ভাবে এ ধরণের গবেষণাকে উন্নুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা উচিৎ তাহলে আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাবে।

কেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিস্তারে ব্লগিং সংবাদপত্র এবং পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে ভাল মাধ্যম হতে পারে?

  • গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে r3ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির ধারা আশাব্যঞ্জক। এই ধারা অব্যহত থাকলে বলা যায় যে ব্লগিং কে জনপ্রিয় করাটা সংবাদপত্র এবং পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে সহজ হবে। যদিও বর্তমানে আমাদের দেশে ব্লগিং এখনো শুধুমাত্র শিক্ষিত এবং উৎসাহী তরুনদের মাঝে সীমাবদ্ধ।
  • সংবাদপত্র বা পাঠ্যপুস্তক থেকে কোন তথ্য খুজে পাওয়া খুব কঠিন সাধ্য কাজ, অথচ আমরা ব্লগ থেকে সার্চ ইন্জিনের মাধ্যমে খুব সহজেই তথ্য খুজে পেতে পারি।
  • সংবাদপত্র এবং পাঠ্যপুস্তক পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারে না কিন্তু ব্লগে মন্তব্য প্রদানের মাধ্যমে পাঠক তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে পারে।
  • একজন মানুষের পক্ষে পুরোনো দিনের খবরের কাগজ বা পাঠ্যপুস্তক সংরক্ষণ করাটা বেশ জটিল কাজ, এবং প্রয়োজনের মূহর্তে তা খুঁজে বেড় করাটাও বেশ দূরহ ব্যপার। কিন্তু এখন আমরা যে অবস্থানে পৌছে গেছি, ব্লগের মাধ্যমে খুব শত শত বছরের তথ্য সহজেই সংরক্ষণ করতে পারি, আবার মাউসের দু চার ক্লিকে সার্বজনীনভাবে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে খুঁজেও পেতে পারি।
  • পাঠ্যপুস্তক কিংবা খবরের কাগজ দূরবর্তী মানুষের কাছে পৌছাতে বেশ কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়, কখনো কখনো এ সময় এক সপ্তাহ থেকে ছয় মাস ও হতে পারে। কিন্তু ব্লগের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল প্রান্তে তথ্য একই সাথে পৌছে যায়। বর্তমানে সংবাদপত্রের অনলাইন প্রকাশনা , এ জন্য দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এটা ব্লগিং এরই একটা বিশেষ রূপ।
  • পাঠ্যপুস্তক এবং খবরের কাগজে তথ্য প্রকাশ করাটা ব্যয়বহুল এবং প্রকাশ কালও বৃদ্ধি পায়। একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে সংশোধন এবং পরিমার্জনের সুযোগ থাকে না, কিন্তু ব্লগে তথ্য দ্রুত পকাশ করা যায় এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যায়।
  • পাঠ্যপুস্তক বা খবরের কাগজ যাই হোক না কেন সেখানে গ্রাফিক্স, স্পষ্ট স্থির চিত্র, ভিডিও চিত্র, এনিমেশন তথা মাল্টিমিডিয়ার সর্বোত্তম প্রোয়োগের সুযোগ কম এবং ব্যায়ও বৃদ্ধি পায় ব্লগিং এ কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে করা সম্ভব এবং খরচও সামান্য।
  • এসকল বিষয় ছাড়াও পাঠ্যপুস্তক এবং সংবাদপত্র একই সাথে সীমিত সংখ্যক মানুষ ব্যবহার করতে পারেন। করণ পাঠ্যপুস্তক এবং সংবাদপত্রের সীমিত সংখ্যক কপি ছাপানো হয়। আবার কখনো কখনো প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ছাপানো হলে প্রকাশককে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু ব্লগিং এর ক্ষেত্রে তথ্য প্রাপ্তির জন্য পাঠকের ইচ্ছাটাই যথেষ্ট। r4যদিও এভাবে চিন্তা করতে গেলে ব্লগ বা ওয়েব সাইটে ব্যন্ডওয়াইডের একটা ব্যপার চলে আসে কিন্তু এটা খুব বেশি সমস্যার নয়। আমরা সহজেই প্রয়োজন অনুসারে এ বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

এত  সুযোগ সুবিধা থাকার পরও ব্লগিং কে জনপ্রিয় করতে আমাদের সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই। আমরা সংবাদ পত্র বা টিভি চ্যনেল খুললেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা শুনে থাকি। কিন্তু ব্লগিং যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এবং তথ্য প্রযুক্তিকে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌছে দিতে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকারী একটা মাধ্যম হতে পারে এ বিষয়টিকে নিয়ে বিশেষ কোন পরিকল্পনা দেখা যায় না।

অসংখ্য শিক্ষর্থী আছেন যারা ইতোমধ্যেইr5 বিজ্ঞান বিভাগে HSC পাশ করেছেন, মাঝেমাঝে ইন্টারনেটও ব্যবহার করে থাকেন  কিন্তু ব্লগিং কি জানেনই না। আমাকে তো কিছুদিন আগে এক বন্ধু প্রশ্নই করে বসল WordPress কি? Google কি?

………………………………………………………………………………….

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। সবার জন্য শুভকামনা রইল ।

comments

15 কমেন্টস

  1. অসীম কুমার আপনা কে অনেক ধন্যবাদ।এইরকম আরো ভালো লেখা আশাকরি।

  2. আপনার লেখা গুলোর মধ্যে একটা ধারা চলে আসছে। সুন্দর সুন্দর লেখা গুলোর জন্য ধন্যবাদ।

  3. ব্লগ হবে আগামী দিনের পড়াশুনার একমাত্র হাতিয়ার। যদিও বিশ্বের অনেক দেশেই অনলাইন ভিত্তিক পড়াশুনা চালু হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই এবং আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাও বাহিরের দেশে পড়ছেন অনলাইনেই। তারপরেও আমাদের দেশে ব্লগ করা এবং এর সুষ্ঠ বিকাশ করার ব্যপারে কোন উদ্যোগ নেই। আসলে সরকারকে বলে লাভ নাই দেশের জন্য কিচু করতে হলে আমরা যারা এই প্লাটফর্ম এর সাথে জড়িত আছি তাদেরই কাজ চালfয় যাইতে হবে। কারন নিজের উন্নতি নিজেকেই করতে হবে। অন্যের ভরসা করে নাই। 🙂

    তথ্যপূর্ন পোষ্টিং এর জন্য অনেক ধৈন্য 😀

  4. শাওনের সাথে একমত দেশের জন্য কিছু করতে হলে আমরা যারা এই প্লাটফর্ম এর সাথে জড়িত আছি তাদেরই কাজ চালিয়ে যেতে হবে
    আর সবচেয়ে বড় ব্যপার হল সচেতনতা
    ধন্যবাদ আসীম ভাই ও শাওনকে:)

  5. Duplicate Cartier wurde wie die Wiedergeburt der Klassiker angesehen. Puede ser integriert ?sthetik , Innovation sowie perfekte Technik zusammen . Jedes Stück Replik Cartier dient wie makellose Sch?nheit . Cease to live Materialien kommen aus der überlegenen Edelstahl und Edelmetall. Durch sorgf?ltige Polieren , Uhren Replik Cartier immer bleiben gl?nzend und glatt zu sein, was sie frisch sowie ganz neu , ebenfalls sobald sie für eine so lange Zeit nicht benutzt aussehen zu lassen . Ium das Challenge der Reflexion zu vermeiden, Hersteller von Cartier Replik setzen Saphirglas zum Einsatz . Dieses Material durch Antireflex- Beschichtung auf beiden Seiten bedeckt. Derzeit Replik Cartier-Uhren an cease to live Tür klopfen von mehr sowie mehr Menschen, pass away gleichfalls beginnen, selbige Replik-Uhren zu akzeptieren. Seit Cartier ist nicht bereit, auf pass away Konvention halten , head wear es sich wie der Führer der Setting-Pattern serviert. Daher Replik Cartier- Uhren ebenfalls Trickly folgen diesem Prinzip sowie setzen auf expire neuesten Layout in der Welt zu halten .
    kaufe designer replica uhren

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.