পোলক দম্পতির জমজদ্বয়
বিজ্ঞান আমাদের নানা কিছুর উত্তর দিয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা পেয়েছি নানা ধরণের আশীর্বাদ। কিন্তু বিজ্ঞান নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নি। বছরের পর বছর বিজ্ঞানীরা এসব প্রশ্ন নিয়ে ভেবেছেন কিন্তু কোন কূলকিনারা কতে পারেন নি। এমনই একটি ধাঁধা রয়েছে পোলক দম্পতির জমজ কন্যার মাঝে। কি সেই ধাঁধা?
১৯৫৭ সালের মে মাসে জন পোলক ও তাঁর স্ত্রী ফ্লোরেন্সের দুই কন্যা জ্যাকলিন ও জোয়ানা একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ৬ এবং ১১।
শোক কাটিয়ে ওঠার পর এই দম্পতি আবার সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফ্লোরেন্স এবার জমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তাদের নাম রাখা হয় গিলিয়ান ও জেনিফার। সব কিছু ঠিকঠাক মতই চলছিল কিন্তু এই দম্পতি তাদের কন্যাসন্তানদের মাঝে অদ্ভূত কিছু বিষয় লক্ষ্য করা শুরু করেন।
প্রথম বিষয়টি হচ্ছে, তাদের মৃত কন্যাসন্তান জ্যাকলিনের কপালে একটি সাদা দাগ ছিল। এই সাদা দাগটি জেনিফারের কপালেও দেখা যায়। এটি কাকতালীয় বিষয় হিসেবেই তারা ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেখা গেল, জ্যাকলিনের পায়ে একটি জন্মদাগ ছিল। ঠিক একই জন্মদাগ জেনিফারের পায়েও ঠিক একইভাবে একই জায়গায় দেখা যায়।
গিলিয়ান ও জেনিফার
                       গিলিয়ান ও জেনিফার
জন ও ফ্লোরেন্স তাদের মৃত কন্যাদ্বয়ের খেলনাগুলো এবার জমজদের হাতে তুলে দেন। বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন যে, তাদের যে নাম দেয়া হয়েছিল, জমজ কন্যারাও ঠিক একই নাম রেখেছে! এমনকি তাদের মৃত দুই বোন সম্পর্কে ঠিক ঠিক সব কথাও তারা বলে দিতে পারছে। পোলক দম্পতি মনে করেন তাদের মৃত দুই কন্যা আবার পুনর্জন্ম হয়ে ফিরে এসেছে।
বিজ্ঞানীরা নানাভাবে এই দুই কন্যার পরীক্ষা করেছেন। তারা নিশ্চিত যে পোলক দম্পতি তাদ্র মৃত কন্যাদ্বয়ের কথা এদের বলেন নি প্রাপ্তবয়স্কা হবার আগে। তাহলে এরা তাদের কথা আগেই জানতে পারল কিভাবে? বিজ্ঞানের নানা অমীমাংসিত রহস্যের মধ্যে পোলক দম্পতির জমজ কন্যার রহস্য একটি আলোচিত ঘটনা।
সূত্রঃ cooltechlists.com
comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.