২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্কাইপ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অনলাইন ভিডিও দেখার মাধ্যমে কথা বলার জনপ্রিয় সার্ভিস। ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার, এমএসএন ম্যাসেঞ্জারসহ অন্যান্য সার্ভিসের চেয়ে স্কাইপের শব্দ কথাও বেশি স্পষ্ট এবং সারভার সাপোর্ট অনেক উন্নত। কিন্তু এই সাপোর্ট দিতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পরতে হয় স্কাইপকে। বিশাল সারভারের ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট সমোন্নত রাখতে গিয়ে বিভিন্ন সময় অনেক ঋণের বোঝা মাথায়ও নিতে হয় তাদেরকে। বেশ কয়েকবারই স্কাইপ হাত বদল হয়।তার-ই সার সংক্ষেপ প্রকাশ করবো এখানে।

skype

২০০৩ সালে নিকলাস ও জেনাস ফেরিস দুইজন মিলে শুরু করে স্কাইপের অগ্রযাত্রা। প্রথমে একটি ওয়েব এপ্লিকেশনের মাধ্যমে কথা আদান প্রদানের মাধ্যম সৃষ্টি করেন। প্রথম দুই বছরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও তারা অনেক টাকার ঋণের মধ্যে পরে যান।

২০০৫ সালে  অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ই-বে স্কাইপ পরিচালনা শুরু করে। স্কাইপের মাধ্যমে কথা বলার কারনে দক্ষিণচীনে এটি নিসিদ্ধ হয়। ২০০৫ সালের প্রথম দিকে ভিডিও দেখা ও কথা বলার সুবিধা চালু হয় স্কাইপে।

২০০৬ সালটি স্কাইপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর ছিল। সেই বছরই  ১০০ মিলিয়ন স্কাইপ ব্যবহারকারীতে উন্নিত হয়। উইনডোজের জন্য স্কাইপ ৩.০ এবং ম্যাকের জন্য স্কাইপ ২.০ ভার্শণ অবমুক্ত হয়।

২০০৭ সালে স্কাইপের সিস্টেমে ব্যাপক সমস্যা দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারীই স্কাইপের সার্ভিসে অসন্তুষ্ট হয়। ই-বে জানায় যে এই প্রজেক্টে লাভের চেয়ে খরচই বেশি হচ্ছে। স্কাইপ ভার্শণ ৩.১,৩.২ ও ৩.৫ মুক্ত হয় যাতে বেশ কিছু নতুন সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- অনুসন্ধানের মাধ্যমে পরিচিতদের সাথে কথা বলা, সয়ংক্রিয়-রিডায়াল ইত্যাদি।

২০০৮ সালে স্কাইপের প্রতিষ্ঠাতা ও ই-বের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সিলভারম্যানকে নতুন সিইও করা হলে এই ঝামেলা মিটে যায়। স্কাইপ ৩.৮ মুক্তি পাওয়ার পর স্কাইপ ভিডিও কলের গুরুত্ব প্রদান করেন।

২০০৯ সালে স্মার্টফোনের ব্যাপক প্রচলনের সাথে সাথে স্কাইপ মানুষের হাতে হাতে চলে যায়। এই সময় আইফোনএন্ডোয়েড এপ্লিকেশন তৈরী হয় যার মাধ্যমে ভিডিও কল অত্যন্ত সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। স্কাইপ ৪ রিলিজ হয় আর সেই সাথে সম্পূর্ণ স্ক্রিনে ভিডিও দেখা যায়। ব্যবহারকারীরা হাই-ডেফিনেশন ভিডিওর সুবিধা পায় । অবশ্য সেই সাথে স্কাইপের পরিচালনার খরচও ব্যপকহারে বাড়তে থাকে। ই-বে তার অংশিদারের ৭০ ভাগই ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়।

২০১০ সালে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার (১০০ মিলিয়ন ডলার) শেয়ার ছাড়েন বাজারে। স্কাইপ ৫ অবমুক্ত হয়। আর সর্বোচ্চ ৪ জনের গ্রুপভিডিও চ্যাটিং সুবিধা চালু হয়। এমন কি তারা এইচডিটিভি স্ক্রিনকাস্টও চালু করেন। থ্রিজি নেটওয়ার্কের সমৃদ্ধির জন্য মোবাইল এপ্লিকেশনগুলোও ধারাবাহিকভাবে আপডেট করা হয়।

বাধা বিঘ্নের স্কাইপ ইতিহাস

নানান জল্পনা কল্পনাকে মিথ্যা প্রমান করে অবশেষে প্রযুক্তি দানব মাইক্রোসফটই সারে আট বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় স্কাইপকে।  এখন স্কাইপে প্রতিমাসে ১০০ মিলিয়ন লোক সক্রিয় থাকে যারা ১০০ মিলিয়ন মিনিটের বেশি সময় ভিডিও চ্যাটিং এ থাকে। এখন দেখা যাক মাইক্রোসফট স্কাইপকে নিয়ে কি খেলা খেলে। মাইক্রসফটের এমএসএন মেসেঞ্জারেও প্রায় একই ধরনের সার্ভিস চলে আসছে অনেক আগে থেকেই। অনেকে বলছে মাইক্রোসফট তাদের টাকা তোলার জন্য ভিডিও বিজ্ঞাপণও দিতে পারে। তবে মাইক্রোসফটের নিজস্ব ব্যবহারকারীদের আইডি দিয়ে স্কাইপে লগইন করার সুবিধা প্রদান করে স্কাইপকে আরো জোড়ালো করতে পারবে   বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া তাদের রয়েছে বিশাল ওয়েব ও বিজ্ঞাপণ মার্কেট সব কিছুকে একত্রিত করে এগিয়ে গেলে স্কাইপকে আরও উন্নত করা যাবে বলে আশা রাখি।

স্কাইপ ইতিহাসের সচিত্র গ্রাফটি থেকে জানতে পারবেন আরো কিছু। (ছবিতে ক্লিক করে বড় আকারে দেখতে পারেন।)

Skype



[ গ্রাফ সূত্র : Focus এবং The Credit Score Blog]

comments

2 কমেন্টস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.