জীবনের স্বরণীয় মুহূর্তগুলোকে অনেকেই ছবি তুলে ধরে রাখতে চান। ফিল্ম ভরে ছবি তোলার দিন এখন আর নেই বললেই চলে।স্মার্টফোনের কল্যাণে হাতে হাতে এখন ক্যামেরা। কিন্তু মানসম্মত ছবি তুলতে চাইলে চাই মানসম্মত ক্যামেরা। অনেকেই এখন বড় ডিএসএলআর মানের ছবি হয় এমন গুণগুলো ছোট ক্যামেরাতে চান। আর কিছু কমপ্যাক্ট ক্যামেরাতেই ম্যানুয়াল কন্ট্রোলসহ ডিএসএলআর-এর প্রচুর ফিচার পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করে মানসম্মত ছবি তোলার অনুশীলন করা যাবে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কয়েকটি ক্যামেরার মডেল। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ম্যানসওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া।

১. সনি DSC-RX100 IV

সনির এ মডেলটি অত্যন্ত অগ্রসর প্রযুক্তির কমপ্যাক্ট ক্যামেরা। বাজারে প্রচলিত অন্যান্য কমপ্যাক্ট ক্যামেরা থেকে এটি উন্নত বলেই দাবি নির্মাতাদের। এতে রয়েছে ৯৬০ এফপিএস স্লো মোশন ক্যাপচার ও অ্যান্টি ডিসটরশন শাটার (শুধু প্রো ইউজ গিয়ারের জন্য প্রযোজ্য)। অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ২৫ পয়েন্ট অটোফোকাস সিস্টেম, বিল্ট ইন ইলেক্ট্রনিক ভিউফাইন্ডার ও এফ১.৮-২.৮ কার্ল জেইস ভ্যারিও সেনার টি লেন্স। এতে রয়েছে ২৪-৮০ এমএম রেঞ্জ এবং ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এছাড়া ওয়াইফাই ও এনএফসি সংযোগের ব্যবস্থা থাকায় এটি থেকে ছবি বিভিন্ন ডিভাইসে সহজেই পাঠানো যায়। এটি র ফরম্যাটে ছবি তুলতে পারে। এছাড়া সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল কন্ট্রোল ব্যবস্থাও রয়েছে। মূল্য কমপক্ষে সাড়ে নয়শ ডলার।

২. লাইকা কিউ

লাইকা ক্যামেরা মানেই অত্যন্ত মূল্যবান ও কার্যকর ক্যামেরা। ছোট আকারের লাইকা কিউও এ ধারার বাইরে নয়। লাইকা কিউ হলো ফিক্সড লেন্স স্মুথ সারফেস ও ক্লিন লাইন ও ফুল ফ্রেম ২৪ মেগাপিক্সেল সেন্সরের ক্যামেরা। এতে রয়েছে বিল্ট ইন ২৮ এমএম এফ ১.৭ এএসপিএইচ লেন্স। এছাড়া লাইটনিং-কুইক অটোফোকাস, একটি ৩.৬৮ মেগাপিক্সেল ইলেক্ট্রনিক ভিউফাইন্ডার রয়েছে। এছাড়া প্রচুর ম্যানুয়াল কাজ করার সুবিধা রয়েছে ক্যামেরাটিতে। পাশাপাশি এ ক্যামেরার প্রসেসর ম্যায়েস্ট্রো টু বেশ গতিশীল। এটি ১০ এফপিএস ছবি তুলতে পারে। ক্যামেরাটি ল্যান্ডস্কেপ ও স্ট্রিট ফটোগ্রাফির জন্য অত্যন্ত ভালো। দাম প্রায় সোয়া চার হাজার ডলার।

৩. প্যানাসনিক লুমিক্স DMC-LX100

প্যানাসনিকের এলএক্স সিরিজ গত দশকের বেস্টসেলার। এ সিরিজের LX100 কম্প্যাক্ট ক্যামেরার মধ্যে অন্যতম সেরা ক্যামেরা। এর সেন্সর যেমন উন্নত তেমন ফিচারও ভালো। এতে রয়েছে২৪-৭৫ এমএম এফ১.৭ -২.৮ লাইকা লেন্স। এছাড়া এতে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক ভিউফাইন্ডার (ইভিএফ), ৪কে ভিডিও শুটিং, হাই স্পিড অটোফোকাস, হাই স্পিড বার্স্ট শুটিং, যা ১১ এফপিএস ছবি তুলতে পারে। এছাড়া এতে রয়েছে অ্যাপারচার ও কন্ট্রোল রিংস, ওয়াইফাই ও এনএফসি সংযোগের ব্যবস্থা। মূল্য প্রায় ৯০০ ডলার।

৪. ফুজিফিল্ম X100T

এক্স১০০টি হলো অল্প আলোতে ছবি তোলার উপযোগী একটি দারুণ ক্যামেরা। এ ক্যামেরায় রয়েছে এসএলআর সাইজেরে এপিএস-সি সেন্সর। তবে এটি সবার জন্য নয়। কারণ এ ক্যামেরার লেন্স হলো ফিক্সড ২৩এমএম এফ/২.০। এটি ৩৫এমএম মানের হওয়ায় স্ট্রিট ফটোগ্রাফির জন্য উপযুক্ত। এর সেন্সর ১৬.৩ মেগাপিক্সেলের। এছাড়া ১০৮০/৬০পি ফুল-এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং ও প্রতি সেকেন্ডে ছয়টি করে ছবি তুলতে পারে ক্যামেরাটি। এতে ওয়াইফাই সংযোগের ব্যবস্থাও রয়েছে। মূল্য প্রায় ১৩০০ ডলার।

৫. ক্যানন পাওয়ারশট G7 X Mark II

মোটামুটি কমদামে বিশ্বখ্যাত ক্যাননের মানসম্মত ক্যামেরা জি৭ এক্স মার্ক টু। এতে রয়েছে ২০ মেগাপিক্সেল ব্যাকইলুমিনেটেড এক ইঞ্চি টাইপ সিএমওএস সেন্সর। এছাড়া ৪.২এক্স অপটিক্যাল জুম ২৪-১০০ এমএম ছবি তুলতে পারে যার মান হবে এফ ১.৮-এফ২.৮। এছাড়া ক্যামেরাটি ১০৮০/৬০পি ভিডিও রেকর্ডিং, বিল্ট ইন ওয়াইফাই ও এনএফসি, ডিজিক ৭ ইমেজ প্রসেসর, ৩ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন (সেলফি বান্ধব), ৩১ পয়েন্ট এএএফ, ইন্টেলিজেন্ট ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন ও ফুল ম্যানুয়াল কন্ট্রোল রয়েছে। মূল্য প্রায় ৭০০ ডলার।

৬. অলিম্পাস স্টাইলাস TOUGH TG-4

আপনার যদি পাহাড়-পর্বত কিংবা বনে জঙ্গলে ঘোরাঘুরি করতে হয় তাহলে অলিম্পাস স্টাইলাস TOUGH TG-4 ক্যামেরাটি সঙ্গে রাখতে পারেন। এটি পানিতে পড়লে যেমন নষ্ট হবে না তেমন পাহাড়ি পথে হাত থেকে ফস্কে গেলেও সহজে কিছু হবে না। এছাড়া অত্যন্ত ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও ক্যামেরাটির কিছু হবে না বলে জানিয়েছে নির্মাতারা। তবে ছবির দিক দিয়েও ক্যামেরাটি মন্দ নয়। কারণ এর রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল ব্যাকলাইট ১/২.৩ ইঞ্চি সিএমওএস সেন্সর, ট্রুপিক ভিটু ইমেজ প্রসেসর, ফোর এক্স এফ২.০ লেন্স। এছাড়া এতে ১০৮০পি ভিডিও রেকর্ডিং, জিপিএস ও ওয়াইফাই রয়েছে। মূল্য প্রায় সাড়ে তিনশ ডলার।

৭. সনি সাইবারশট RX1R II

সনির সাইবারশট লাইনআপে RX1R II একটি দারুণ ক্যামেরা। এতে রয়েছে ফিক্সড লেন্স ফুল ফ্রেম সেন্সর। এর সিএমওএস সেন্সর ৪২ মেগাপিক্সেলের। এটি ফুল এইচডি রেকর্ডিং ছাড়াও ৫এফপিএস ছবি তুলতে পারে। এছাড়া বিল্ট ইন পপআপ ফ্ল্যাশ, ম্যানুয়াল কন্ট্রোল, দ্রুতগতির অটোফোকাস রয়েছে। মূল্য প্রায় তিন হাজার তিনশ ডলার।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.