বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অনলাইনে সোমবার এই তথ্য দিয়েছে। ভারতের পূর্বাংশ ও বাংলাদেশে যে অঞ্চলে এই ভূমিকম্প হতে পারে সেখানে ১৪ কোটি মানুষের বসবাস। এ রকম ভূমিকম্প মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় একবছর গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা GPS এর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এই অঞ্চলে যে টেকটনিক প্লেট রয়েছে তা যে কোনো সময় নড়ে যেতে পারে। আর তা হলে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে রিখটার স্কেলে ৯ বা তারও বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আছে।

ন্যাচার জিওসায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলছেন গত ৪০০ বছর ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই গড়ে ওঠা দুটি টেকটোনিক প্লেটের ‘সাবডাকশন জোন’ টান টান অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এটি সরে গেলে দুটি প্লেটের মধ্যে যে অবস্থানের পরিবর্তন ঘটবে তাতে ৪শ’ বছরেরও বেশি পুরনো ঢাকা তার চেহারা হারাবে।

আগে ভাবা হতো যে, এই অঞ্চলের ‘প্লেটের বাউন্ডারি’ আনুভূমিকভাবে কাছের পৃষ্ঠদেশের ওপর দিয়ে পিছলে যাচ্ছে। এটা হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না। তবে সেই ধারণা ভুল ছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘সাবডাকশন জোন’ এর বিষয়টি পর্যালোচনা করে তারা দেখেছেন, ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরেও এ কারণে ভূমিকম্প হয়েছিল। ২০১১ সালে জাপানে হওয়া ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো একই দশা হতে পারে এই অঞ্চলেও। আর এটা হলে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতে পারে রাজধানী ঢাকা।

তবে এই আশঙ্কা কবে সত্যি হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না গবেষকেরা। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির গবেষক মাইকেল স্টেকলার বলছেন, আমাদের অনেকের মাঝেই ভূমিকম্পের বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা আছে। তবে আমাদের কাছে সব তথ্য উপাত্ত নেই। এই ভূমিকম্প শিগগিরই হবে নাকি আরো ৫শ’ বছর পরে হবে সে বিষয়ে আমরা এখনই বলতে পারছি না। তবে মাটির নিচে প্লেট দুটি যে টান টান অবস্থায় রয়েছে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.