“ডিজিটাল বাংলাদেশ” শব্দটি বর্তমান বাংলাদেশেরে প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটা নতুন কল্পনার জগৎ সৃষ্টি করে। কারো কাছে এর অর্থ দু বেলা দু মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা আবার কারো কাছে এর অর্থ একটি মাইক্রোপ্রসেসর, যার উপর লেখা Made in Bangladesh। অনেকেই বলে থাকেন শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষেই “ডিজিটাল বাংলাদেশ” শব্দটির অবতারণা, আবার অনেকেই স্বপ্ন দেখেন টেকনোলজিতে সমৃদ্ধ ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত একটা সুখী বাংলাদেশের।

ট্রেনিং সেন্টার সম্পর্কে আধুণিক ধারণা

বর্তমান বাংলাদেশে কোচিং সেন্টার এবং ট্রেনিং সেন্টারের উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত। আধুণিক বিশ্বে বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন কোন একটা প্রযুক্তিগত বিষয় ভালভাবে এবং যত্ন সহকারে আয়ত্ব করার অন্যতম মাধ্যম ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে অভিনব পদ্ধতিতে প্রত্যক্ষ ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। যদিও সাধারণ অর্থে ট্রেনিং সেন্টার বলতে আধুণিক ল্যাব সুবিধা সমৃদ্ধ কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়, তারপরও বর্তমান সময়ে এ ধারণাটির পরিবর্তন ঘটেছে। ইন্টারনেট এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অনলাইন ভিত্তিক ট্রেনিং প্রতিষ্টান ধারণাটিও বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উন্নত জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং পরিকল্পনাকে ছড়িয়ে দেয়ার।

বাংলাদেশে ট্রেনিং সেন্টার সমূহের বর্তমান প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ট্রেনিং সেন্টার এবং কোচিং সেন্টারের কোন অভাব নেই। যে কোন শহরের দিকে দু পা বাড়ালেই চোঁখে পড়বে আকর্ষণীয় ব্যারার আর পোস্টারে মোরানো একটা উৎসব মুখর নগরী, যার পুরো কৃতিত্বই ট্রেনিং সেন্টার, কোচিং সেন্টার আর ক্লিনিকের। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অতিদ্রুত জনপ্রিতার শিখরে পৌছে গেছে ট্রেনিং সেন্টার আর কোচিং সেন্টার গুলো। অনেকেই ভাল ফলাফল পাবার আশায় সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। এই ধরুন কম্পিউটার প্রশিক্ষণের কথাই; সমাজ সেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সরকারী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার সহ বেশ কিছু সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এন জি ও সহ অসংখ্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠান স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান সমূহের সিংহ ভাগই হয়তবা আপনার জন্য নয়।

আসলে বর্তমান প্রেক্ষাপট এমন যে কম বেশি আমাদের নিকট আত্নীয় বা বন্ধু বান্ধবদের কম্পিউটার রয়েছে। তাই আপনার কম্পিউটারের মাউস হাতে নেয়ার জন্য ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি কম্পিউটার কেনার পর নিকট আত্নীয় বা বন্ধুদের কাছ থেকে হেল্প নিয়ে এবং কিছু বই পত্র এবং সিডি থেকে অফিস প্রোগ্রাম গুলোর পাশাপাশি, ফটোশপ এবং ইন্টারনেট সম্পর্কিত সাধারণ বিষয়গুলো আয়ত্ব করতে পারেন।

আসলে যা কিছু বললাম আপনি যদি কোন একটি প্রতিষ্ঠানে তিন মাস মেয়াদী কোন সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হন এর থেকে বেশি কিছু হয়তবা শিখতে পারবেন না, আর দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের কথা আজ নাই বা বললাম।

শুধু কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদাহরণ দিলাম, যে কোন টেকনোলজি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখনই সময় আমাদের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার এবং উপযুক্ত সমাধান খুজেঁ বের করবার।

………………………………………………………………………………..

আজ এ পর্যন্তই। সকলের জন্য শুভকামনা রইল ।

comments

5 কমেন্টস

  1. আপনার প্রত্যেকটি লাইনের সাথে আমি সহমত। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকগুলো কম্পিউটার ট্রেইনিং সেন্টারে ঘুরেছি এবং প্রশিক্ষনও নিয়েছি। কিন্তু, তাদের শিখে বাস্তব কোন কাজ করতে পারি নাই। আসলে আমি যেহেতু কম্পিউটার বর্তমান সময়ের একটি অতিব প্রয়োজনীয় একটি সৃষ্টি তাই এর ব্যবহার সবাইকে জানা উচিৎ। কিন্তু আমাদের স্বভাটি এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, নিজের থেকে কিছু শিখতে ইচ্ছাবোধ করি না। ঔ ট্রেইনিং সেন্টার কি শিখালো তা নিয়ে ঘুরপাক খেতেই আমাদের জ্ঞান অর্জনের সখ মিটে যায়। আর পরে দোষ দেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। আসলে বেপারটি এমন যে, আপনি শিক্ষক থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি তার স্বাধ নিতে চেষ্টা না করেন তবে, সে শিক্ষা কোন মূল্য থাকে না। আমার কথা মূল্য লক্ষ হচ্ছে, যেখানেই শিখুন না কেন, শুধু সার্টিফিকেট পাওয়ার আশার বসে থাকবেন না। যা শিখছেন ভাল করে শিখুন। শিক্ষকের পাশাপাশি নিজে চেষ্টা করুন নতুন কিছু শিখতে সেই বিষয়েই। তার ইন্টারনেট তো আছেই, দিন না সার্চ। দেখবেন হাজারো উপাত্ত আপনার সামনে। 🙂

  2. “আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকগুলো কম্পিউটার ট্রেইনিং সেন্টারে ঘুরেছি এবং প্রশিক্ষনও নিয়েছি। কিন্তু, তাদের কাছে শিখে বাস্তব কোন কাজ করতে পারি নাই।” এই লাইন দুটো আপনার এবং আমার কাছে যেমন সত্য তেমনি এরকম অসংখ্য মানুষের কাছেই সত্য।

    আর ইন্টারনেট তো আছেই, দিন না সার্চ। একবার চিন্তা করে দেখুন তো শাওন ভাই প্রথম যখন ইন্টারনেটের সাথে আপনার পরিচয় হয়েছিল, আপনি কি সার্চ দিতেন? আসলে আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সার্চ দিয়ে বের করার পদ্ধতি জানতেও কিন্তু বেশ সময় লেগেছিল।

    ধন্যবাদ বিশ্লেষণধর্মী মতামতের জন্য। শুভকামনা রইল।

  3. আনেক সুস্দর আপনার এ পোস্টটি আমার আনেক ভাল লাগছে আমি আপনার কাছে আর ও আনেক ভাল দয়াকরে চালিয়ে যান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.