অনেক বছর ধরেই ব্লগিং ও ওয়েব ডেভলপমেন্টের সাথে জরিত থাকা সত্ত্বেও হোষ্টিং নিয়ে ব্যবসার পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু অনলাইন ও অফলাইন পরিচয় সূত্রে আনেকেই আমার কাছে ডোমেইন ও হোষ্টিং বিষয়ে সহায়তা চেয়েছে। কেউ বলেছে পে-প্যাল একাউন্ট দিয়ে কোন কোন ওয়েব হোষ্টং কিনে দেওয়ার কথা। আবার অনেকেরই হুট-হাট ডোমেইন দরকার পরে। আর দ্রুত সময়ের মাঝে বাংলাদেশের অনেকরই নিজস্ব আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ভেরিফাইড পে-পাল একাউন্ট না থাকায় পড়েন বিপাকে। আমি নিজেও এরকম সমস্যায় পড়েছি প্রথম দিকে।

কারো কারো সমস্যা হয়েছে একটু ভিন্ন ধরনের। এ পর্যন্ত তিন ধরনের সমস্যার কথা বাংলাদেশের অনেকের কাছে শুনেছি।

shared_hosting_provider

১. যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সার্ভিস না পাওয়া

কোন একজন বাংলাদেশি লোকাল হোষ্টিং প্রভাইডারের কাছ থেকে ডোমেইন ও হোষ্টিং নিলেন এবং দেখরেন কিছু দিন পরে তাকে আর অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন এবং নম্বরটি বন্ধ বা কোন কারনে ধরছে না।

আপনার হয়তো ব্যান্ডউইথ বাড়ানো দরকার বা ডোমেইনটির নেমসারভার পরিবর্তণ দরকার, অথবা ডোমেইনটি অন্য কারো হোষ্টিং এ ব্যবহার করতে চাইছেন অথবা ডোমেইনটি ট্রান্সফার করতে চাইছেন। তাকে এটা বলার পর সে ইনএকটিভ থাকলো এবং আপনার কাজটি করে দিল না।

২. ডোমেইনের কন্ট্রোল

সারাজীবন আপনার ডোমেইনের কন্ট্রোলটি নিজের কাছে রাখার একটি চেষ্টা করেন অনেকে। এর কারন হলো আপনি তার কাছে দায় বদ্ধ থাকবেন। আর ডোমেইনটিকে ট্রান্সফার করার বেপারে কখনোই তারা সহযোগিতা করবে না। এমনও হতে পারে ডোমেইন এক্সপেয়ার হওয়ার পরে আপনার ডোমেইনটি সে কিনে রাখবে এবং পার্ক করে রাখবে। যখন আপনি ডোমেইনটি কিনতে চাইলে বিশ দাম হাকাবে।

৩. হোষ্টিং একাউন্ট বাতিলঃ

অবাক করার মতো একটা সমস্যা  এটি। একবছরের জন্য হোষ্টিং নিলেন আথচ ছয় মাস পড়েই একাউন্ট বন্ধ। তার পরে বলল আরো টাকা দিতে হবে। না হলে সাইট চলবে না।

বাংলাদেশী কোন লোকাল প্রভাইডারের কাছ থেকে হোষ্টিং কিনার ক্ষেত্রে

এরকম সমস্যায় খুব কম লোক পড়লেও ধোকাবাজির ঝামেলা এড়াতে অবশ্যই প্রফেশনাল এবং ব্যবসায়ীক সুনাম আছে এমন লোকের কাছ থেকে হোষ্টিং কেনা উচিৎ। বেশ কিছু জিনিস দেখে হোষ্টং নিবেন।

  • সবসময় অনলাইনে পাবেন কিনা?
  • মোবাইলে যোগাযোগ করেত পারবেন কিনা?
  • ই-মেইলের জবাব দ্রুত পান কিনা?
  • সামাজিক নেটওয়ার্কে তাকে দেখা যায় কিনা?
  • অনলাইনে তার অবস্খান ও পরিচিতি কেমন?

এটা এজন্য যে, বাংলাদেশের প্রায় সবাই-ই অন্য দেশের হোষ্টিং থেকে রিসেরার বা ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সারভার ভাড়া নিয়ে রি-সেল করে। আর তাদের ব্যবসায়ীক আবস্থান ও সাপোর্ট সেন্টারও নাই। সরকারীভাবে কোন লাইসেন্স বা নজরদারীরও কোন বেপার নাই। এ ক্ষেত্রে ব্যান্ডউইথ বা ওয়েবস্পেসের সাথা সাথে এই বেপারগুলোও প্রয়জনীয়।

মূলতঃ নিজের অনেকগুলো সাইট এবং আমার পরিচিতদের সার্ভিস দেওয়ারজন্যই একটি হোষ্টিং প্লানের আয়োজন করেছি। এ লিনাক্স সারভারে অনেক ব্লগাররা তাদের সাইট  হোষ্ট করে সন্তুষ্ট প্রকাশ করার কারনে আমি এটা সবার জন্য উম্মুক্ত করার সাহস পেয়েছি। দেখে নিতে পারেন আমার ডোমেইন হোষ্টিং প্লান।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনঃ

৮০০ টাকা (নিজস্ব কন্ট্রোল)

শেয়ার হোষ্টিং

রিসোর্স ফ্রি (Free) সাশ্রয়ী (Economy)
১. ওয়েবস্পেস ৩০০ মেগাবাইট ১ গিগাবাইট
২. ব্যান্ডউইড্থ (প্রতিমাসে) ৫ গিগাবাইট ৫ গিগাবাইট
৩. ডোমেইন ১ টি ১ টি
৪. সাবডোমেইন ১০টি ২০ টি
৫. ডাটাবেজ ৫টি ১০ টি
৬. ই-মেইল ২০টি ২০ টি
৭. এফটিপি একাউন্ট ৫টি ৫টি
৮.সি-প্যানেল আছে আছে
৯. খরচ বিনা মূল্য ১০০০ টাকা/প্রতি বছর
রিসোর্স সাধারন (Basic) রূপালী (Silver)
১. ওয়েবস্পেস ২ গিগাবাইট ৩ গিগাবাইট
২. ব্যান্ডউইড্থ (প্রতিমাসে) ১০ গিগাবাইট ২০ গিগাবাইট
৩. ডোমেইন অসংখ্য অসংখ্য
৪. সাবডোমেইন অসংখ্য অসংখ্য
৫. ডাটাবেজ ১০টি অসংখ্য
৬. ই-মেইল ১০০টি অসংখ্য
৭. এফটিপি একাউন্ট ১০টি ২০টি
৮.সি-প্যানেল আছে আছে
৯. খরচ ২০০০ টাকা/প্রতি বছর ৩০০০ টাকা/প্রতি বছর
রিসোর্স সোনালী (Golden) প্লাটিনাম (Platinum)
১. ওয়েবস্পেস ৪ গিগাবাইট ৫ গিগাবাইট
২. ব্যান্ডউইড্থ (প্রতিমাসে) ৩০ গিগাবাইট ৫০ গিগাবাইট
৩. ডোমেইন অসংখ্য অসংখ্য
৪. সাবডোমেইন অসংখ্য অসংখ্য
৫. ডাটাবেজ অসংখ্য অসংখ্য
৬. ই-মেইল অসংখ্য অসংখ্য
৭. এফটিপি একাউন্ট ২০টি ২০টি
৮.সি-প্যানেল আছে আছে
৯. খরচ ৪০০০ টাকা/প্রতি বছর ৫০০০ টাকা/প্রতি বছর

* ফ্রি হোষ্টিং পরিক্ষামূলক ছয় মাসের জন্য দেওয়া হবে।

রিসেলার প্যাকেজ

রিসেলার প্যাকেজের মাধ্যমে আপনি সহজেই একটি হোষ্টিং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। আপনি নিজেই সি-প্যনেল একাউন্ট, প্যাকেজ ও কোটা তৈরী করে নিজের একটি হোষ্টিং ব্যবসার মাত্র নির্ধারন করতে পারবেন। অনেকগুলো ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করলেও রিসেলার প্যাকেজটি কিনতে পারেন। ভিন্ন ভিন্ন নিরাপত্তার স্তর সহ আকর্ষনীয় রিসেলার হোষ্টিং প্যাকেজ দু’টি দেখে নিন।

রিসোর্স রিসেলার-১ (Reseller-1) রিসেলার-২ (Reseller-2)
১. ওয়েবস্পেস ৫ গিগাবাইট ১০ গিগাবাইট
২. ব্যান্ডউইড্থ (প্রতিমাসে) ৫০ গিগাবাইট ১০০ গিগাবাইট
৩. ডোমেইন অসংখ্য অসংখ্য
৪. সাবডোমেইন অসংখ্য অসংখ্য
৫. ডাটাবেজ অসংখ্য অসংখ্য
৬. ই-মেইল অসংখ্য অসংখ্য
৭. এফটিপি একাউন্ট অসংখ্য অসংখ্য
৮.সি-প্যানেল অসংখ্য সি-প্যানেল অসংখ্য সি-প্যানেল
৯.WHM আছে আছে
১০. খরচ ৫০০০ টাকা/প্রতি বছর (অথবা ৪৫০ টাকা প্রতি মাসে) ৮০০০ টাকা/প্রতি বছর (অথবা ৭০০ টাকা প্রতি মাসে)

যোগাযোগঃ

সরাসরিঃ http://tutorialbd.com/service/contact.php
মোবাইলঃ ০১৯১৩৫৩১৫৫৬
ই-মেইলঃ mahbubpalash(at)yahoo.com. info(at)tutorialbd.com
ফেসবুকঃ http://www.facebook.com/mahbubpalash

বিঃ দ্রঃ এই প্লান ও পোষ্টের সকল দায়িত্ব আমার নিজের। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এটার সাথে জরিত নয়।

প্রয়োজনীয় লিংকঃ

ওয়েব হোস্টিং কেনার আগে যে সব বিষয় ভেবে দেখবেন

ভিপিএস হোস্টিং বিষয়ক তথ্যভান্ডার

comments

10 কমেন্টস

  1. আসলেই এই সমস্যা গুলোয় অনেকি ভুগেন
    আশা করি একটু হলেও তার লাঘব ঘটবে 🙂
    ধন্যবাদ মাহাবুব ভাই
    তবে আমার মতে আপনার এই হোষ্টিং নিয়ে একটা বড়সড় রিভিউ লিখতে পারেন
    তাতে অনেক প্রশ্নের অনলাইনেই সমাধান হয়ে যাবে
    কি ভুল বললাম ??

  2. মাহাবুব ভাই ধন্যবাদ, গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয় নতুনদের অনেকেই এই ধরণের সমস্যায় জর্জরিত। বেশির ভাগ ব্লগারই ব্লগিং এর মাধ্যমে ওয়েব ডেভলপমেন্ট সম্পর্কে ধারণা অর্জন করে নিজে সাইট তৈরির কথা চিন্তা করেন বা তৈরি করে থাকেন। এক্ষেত্রে হোস্টিং সম্পর্কে ভাল ধারণা অর্জনের সুযোগ সবারই হয়ে উঠে না। আর এই সুযোগেই অসাধু লোকাল হোস্টিং প্রভাইডাররা ঝোপ বুঝে কোপ মারেন। অনেকেই এদেরকে বিশ্বাস করে এদের ফাঁদে পা জরিয়ে তাপর হোস্টিং সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কিন্তু ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের জন্য প্রথম প্রয়োজনটা হল সততা আর স্বচ্ছতা। অসাধু লোকাল হোস্টিং প্রভাইডাররা কি এভাবেই সারাজীবন সফলভাবে মানুষকে ধাকা দিয়ে যাবেন? তাদেরকি পতন হবে না? ধিক্কার জানাই এধরণের হোস্টিং প্রভাইডারদের।

    মাহাবুব ভাই আপনাদের মত সৎ অভিজ্ঞ এবং পরিচিত ব্লগারা আমাদের মত নতুনদের জন্য সবসময়ই ভরসার প্রতীক হয়ে আছেন, আর এজন্যই আমরাও সহস পাচ্ছি নির্ভয়ে ব্লগিং করে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার।

  3. তবে বাংলাদেশেও অনেক লোকাল ব্যবসায়ীরা সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনাকে অবশ্যই তাদের খুজে নিতে হবে। বিশেষ করে যারা অনেকদিন ধরে এই ব্যবসার সাথে জরিত রয়েছেন তাদের সার্ভিসটি ভাল হয়ে থাকে। যাদের নিজস্ব আফিস আছে এবং সার্ভিস দেওয়ার ভাল ব্যবস্থা আছে তাদের কাছ থেকে ডোমেইন হোষ্টিং কিনলে খরচ একটু বেশি হলেও ভাল সার্ভিস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
    সবসময় ডোমেইনের কন্ট্রোলটা নিজের থাকলে কেউ তেমন কোন সমস্যা করতে পারে না।আজ যার সাথে ভাল সম্পর্ক সে কাল আপনার সাথে বিট্রেও করতে পারে। আর তাই জেনে নিবেন ডোমেইনের কন্ট্রোল দিবে কিনা।

    হোষ্টিং নেওয়ার পর নিয়মিত ব্যাকআপ রাখাটাও বেশ জরুরী। যে কোন সময় হোষ্টিং সারভার ক্যাশও করতে পারে। তখন আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হারিয়ে যাবে। এই দুইটি কাজ করলে আপনি বেশ সেইফ থাকবেন।

    দোয়া করবেন। আশা করি সততার সাথে ব্যবসা করে যেতে পারবো।

  4. আমি নিজে ও এ সমস্যা ভুগছি। মাহাবুব ভাই এ সমস্যার মমাধান দিয়েছেন। ধন্যবাদ মাহাবুব ভাই।

  5. গুরুত্তপূর্ন বিষয়গুলি শেয়ার করার জন্য মাহবুব ভাইকে ধন্যবাদ।

  6. আমার জানা মতে এ সকল সমস্যা সবারই প্রায়ই হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন একটি কোম্পানী আছে যারা এসকল সমস্যার সমাধান দেয়। তাদের নিজস্ব সারভার থেকে হোস্টিং প্রভাইড করে। সারভিস চারজ ও কম।আপনারা কথা বলে দেখতে পারেন।

    http://www.ancbd.com

    কেউ যদি প্রতারিত হন আমাকে জানালে আমি তার সমাধান করে দিতে পারবো।

    একরাম।

    • সাইট দেখরেই বুঝা যায়। নিদেরও নিজেদের সারভার না। আমেরিকা ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তারা সারভার ভাড়া করে ব্যবসা করছে। http://www.whoishostingthis.com/ancbd.com এখানে দেখুন তারা কাদের কাছ থেকে সার্ভিস নিয়ে রিসেল করছে।
      আরেকটা কথা, বাংলাদেশ সরকারও চাইলে আরেকজনের ডোমেইনের নিয়ন্ত্রন নিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে আপনি কিভাবে সমাধান দিবেন?

  7. ভাই এই সমস্যা আমারও হয়েছে , হোস্ট পরিবর্তন এর জন্য কি করতে পারি একটু বলবেন কি ? 😥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.