এহসান হক

ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি(এম আই টি) এর ২০১৬ সালের শীর্ষ তরুন আবিষ্কারকদের মধ্যে বাংলাদেশী তরুন এহসান হকের নাম এসেছে।

এম আই টি থেকে প্রকাশিত দ্য টেকনোলজি রিভিউ জার্নাল নামক ম্যাগাজিনে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। এহসান হকসহ আরো ৩৫ জন এই তরুন আবিষ্কারকদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এ জার্নালে। এই জার্নালে তাদেরই নাম প্রকাশিত হয় যারা তাদের কাজের মাধ্যমে বিখ্যাত হয়েছেন গোটা পৃথিবীজুড়ে।

গুগলের ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন, ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ, আইপ্যাডের ডিজাইনার জোনাথন আইভ, লিনাক্সের লিনাস টরভাল্ডস, ইয়াহুর জেরি ইয়াং, টুইটারের জ্যাক ডুরসি সহ আরো অনেকের নাম এই জার্নালে ছাপা হয়েছিল।

মানুষের কন্ঠস্বর ও শারীরিক ভাষার ওপর এহসান এক ধরণের গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলের সাহায্যে ডাউন সিনড্রোমের রোগী ও অটিজমে আক্রান্ত রোগীরা বেশ উপকার পাবেন। এর সাহায্যে এমন একটি যন্ত্র প্রস্তুত করা যাবে যার সাহায্যে এই রোগীরা খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারবেন।

এহসান বলেন, “যারা অটিজম কিংবা এসপারজারস রোগে ভুগে থাকেন তারা আমাদের সাথে অনেক সময় যোগাযোগের কোন মাধ্যম খুঁজে পান না বা আমাদের সাথে কিভাবে কথা বলবেন তা বোঝাতে পারেন না। এই যন্ত্রের ব্যবহার করার মাধ্যমে তারা বেশ সহজেই এবার যোগাযোগ করতে পারবেন।”

২০০৮ সালে তিনি এমন একটি যন্ত্র নির্মানের কাজে হাত দেন যেটি মানুষের মুখভঙ্গি, গলার স্বর ও আবেগ নিয়ে যাচাই করতে পারে। ২০০৯ সালে তিনি ওয়াল্ট ডিজনী ল্যাবে একটি রোবট তৈরিতে সাহায্য করেন যেটি নিজে নিজে দেখতে পায়, শুনতে পায় ও নিজের সাহায্যে চিন্তা করার ক্ষমতা রয়েছে।

২০১৩ সালে তিনি “Mood metre” নামক যন্ত্র তৈরি করেন যা মানুষের মুখভঙ্গি দেখেই তা নিরীক্ষা করতে পারে।

এম আই টি থেকে পি এইচ ডি সম্পন্ন করার পর তিনি রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে যোগদান করেন সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে।

এহসান বিশ্বাস করেন যে এসব অসহায় মানুষকে যদি এভাবে প্রযুক্তিগত সাহায্য করা হয় তাহলে তারাও সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করতে পারবে।

 

সূত্রঃ দ্য টেকনোলজি রিভিউ জার্নাল

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.