ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www) এর মাধ্যমে বিশ্ব এখন উন্মুক্ত।  এই ওয়েবের পিছনে আছে ওয়েব সার্ভারগুলো। আমি যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করতে যান তখন আপনার ব্রাউজার HTTP প্রটোকলের মাধ্যমে সার্ভারের কাছে কনটেন্ট রিকোয়স্ট করে। ব্রাউজারের রিকোয়েস্ট পূরণ করে এই কনটেন্ট সার্ভ করাই হচ্ছে ওয়েব সার্ভারের কাজ। আপনি যদি প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামিং জানেন তবে আপনিও চাইলে নিজের জন্য একটা ওয়েব সার্ভার বানিয়ে দিতে পারেন। একটা সময় হয়েছেও এরকমই। নাহলে উইকির লিস্টে এমনি এমনিই ৬০ টা সার্ভার সফটওয়্যারের নাম উঠে আসে না।

সবগুলা সার্ভারেরই কিছুনা কিছু বিশেষত্ব আছে। তাহলে আপনি কোনটা ব্যবহার করবেন? এটা মূলত নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের উপর। এজন্যই আমার আজকের পোস্ট।  তারআগে আসুন দেখে নিই একটা সার্ভে রেজাল্ট। এই সার্ভেটা নেটক্রাফটের করা। তারা ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন হোস্টনেম এবং অন্যান্য আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করছে। ২০১০ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া গ্রাফটা দেখেন।

netcraft-surveyএখানে মাইক্রোসফটের IIS হচ্ছে পিওর উইন্ডোজ সার্ভার। বাকিসবগুলো লিনাক্স নেটিভ সার্ভার।

এবার আসুন কয়েকটা সার্ভারের বিবরণ জানি।

এপাচী (Apache)

logo-apache-300x300-e1293635169232

বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যার হচ্ছে এপাচী। এর মার্কেট শেয়ার প্রায় ৬০%। বেশিরভাগ ওয়েবমাস্টার একে পছন্দ করে এর সিকিউরিটি, ফ্লেক্সিবিলিটি এবং স্ট্যাবিলিটির জন্য। বহুদিন যাবত এপাচী নিজেকে প্রমাণ করে যাচ্ছে। বেশির ভাগ লিনাক্স সিস্টেমে বাই ডিফল্ট এপাচী ইন্সটল করা থাকে। এপাচীর সিনোনিম হল HTTPD.

লাইটী (lighttpd)

light_logo-e1293635122436অনেকেই একে আদর করে লাইটী নামেই ডাকে। এর জন্ম হয়েছিল কম মেমরীতে ফাস্ট, সিকিউর এবং রিলায়েবল ওয়েবসার্ভার এর জন্য। কাজের দিক থেকে এটা এপাচীর পদ্ধতিতেই কাজ করে। তবে খুবই কম মেমরী নেয়। বিজি সার্ভারগুলোতেই লাইটী ব্যবহার করা হয়। এটা এই মুহুর্তে খুবই হাই ট্রাফিক কয়েকটা সার্ভারকে সার্ভ করছে। এর মধ্যে ইউটিউব এবং উইকিপিডিয়াও আছে। লাইটি খুবই এফিশিয়েন্ট একটা সার্ভার। আপনি যদি হাই ট্রাফিক স্কেল করতে চান তবে এটা ব্যবহার করতে পারেন।

এঞ্জিনেক্স (Nginx)

nginx-logoআমার সবচেয়ে প্রিয় ওয়েব সার্ভার হচ্ছে Nginx. এটা খুবই আলাদা ধরণের একটা ওয়েব সার্ভার। এটার কাজ করার ধরণ একেবারেই আলাদা। ব্রাউজার যখণ রিকোয়েস্ট পাঠায় তখন এটা নিজের আওতাধন সার্ভারে রিকোয়েস্টগুলা পাস করে। অনেকেই এটার ক্ষমতা দেখে একে Beast নামে ডেকে থাকেন। খুব খুব খুব হাই ট্রাফিক সাইটে এটা ব্যবহার করা হয়। এখন পর্যন্ত তৈরী হওয়া সবচেয়ে ফাস্ট ওয়েব সার্ভার হচ্ছে এঞ্জিনেক্স। এটার জন্ম হয়েছিল মূলত এপাচীর সাহায্যকারী একটা প্রোগ্রাম হিসেবে। কিন্তু এর ক্ষমতা উপলব্ধি করতে পেরে প্রোগ্রামাররা এটাকে শেষ পর্যন্ত আলাদা একটা সার্ভারেই পরিণত করে। ফেসবুক এবং WordPress.com এর মত সাইটগুলো চলছে Nginx সার্ভারে।

অনেকটা এরকমও বলা হয়ে থাকে যে, এখন লাইটী আর এঞ্জিনএক্সেরই যুগ। এবার আপনার দরকারের সার্ভারটা আপনিই বেছে নিন।

এবার একটা ছোট্ট খবর

টাইটেলে লিখেছিলাম একটা খবর দিব এবার তাহলে সেটা দেই। বহুল প্রতীক্ষীত ডেবিয়ানের নেক্সট স্ট্যাবল ভার্সন আগামী উইকএন্ডে রিলিজ হচ্ছে। শিডিউল সময়ের পরও প্রায় ৮ মাস দেরি হয়েছে। মোটমুটি প্রায় ৩ বছর পর নতুন স্ট্যাবল ভার্সন আসছে। কোডনেম স্কুইজ। আমাদের মত তীর্থের কাকের ন্যায় বসে থাকা সার্ভার এডমিনরা আশা করি এবার পানি পাবে। ওয়েব সার্ভারের জন্য আমার দেখা সবচেয়ে রকসলিড ওএস হচ্ছে ডেবিয়ান। হাইলি কাস্টমাইজেবল। আমি মাত্র ৬৪ মেগা র‍্যামেও ডেবিয়ান চালানোর কথা শুনেছি। এবার তাহলে শুরু হোক কাউন্টডাউন।

comments

5 কমেন্টস

  1. I simply want to say I’m very new to weblog and absolutely loved this blog. Probably I’m want to bookmark your blog post . You definitely have fabulous posts. Bless you for sharing your blog.

  2. I think other website proprietors should take this site as an model, very clean and excellent user genial style and design, as well as the content. You’re an expert in this topic!

  3. Hello there, I discovered your site by way of Google even as looking for a similar topic, your web site came up, it appears to be like great. I have bookmarked it in my google bookmarks.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.