কিছু দিন বিরতি দিয়ে আবারো ফিরলাম বিপি এর পোষ্টিং প্যানেলে। তো সবাই ভাল আছেন নিশ্চই। চলুন আজকের আলোচনায়। আমদের মধ্যে অনেকেই ফ্রীলান্সিং এ কাজ করতে আগ্রহী কিন্তু কি নিয়ে ফ্রীলান্স শুরু করবেন সেটাই ভেবে পান না। আসলে ফ্রীলান্স এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনি আপনার প্রতিটি অভিজ্ঞতার সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটাতে পারেন। আর এর জন্য প্রয়োজন শুধু একাগ্রতা, সময় আর সাহস। এই তিনটি বিষয় ব্যতিত ফ্রীলান্সিং এর সফলতা কখনোই আসবে না। এবার চলুন লিখালিখি শুরু করি … 🙂

writing-icon

আপনি যখন আপনার ব্যক্তিগত ব্লগ দিয়ে লিখা শুরু করবেন। এটা আপনার জন্য অত্যান্ত চ্যালেন্জিং হয়ে পরবে। কারন, নতুন হিসাবে আপনার ব্লগে তেমন কোন পাঠক থাকবে না। তাই, শুরু থেক্বে আপনাকে চিন্তা করতে হবে কিভাবে আপনার ব্লগে মান সম্পন্ন পাঠক সংগ্রহ করতে পারবেন। এসব চিন্তা না করেই যদি ব্লগ শুরু করে দেন তবে, আপনার বছর শেষে ডোনেইন-হোস্টিং এর টাকাও আয় করতে পারবেননা ব্লগ থেকে! 😉 (অবশ্য আপনার যদি ইচ্ছা না থাকে ব্লগ থেকে আয় করার তাহলে দরকার নাই।) এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসবের কি কোন সমাধান নাই। তাহলে কি ব্লগ লিখা শুধু সময়ের অপচয়? “না”। সমাধান অবশ্যই আছে। আর সেটা হচ্ছে, “ ফ্রীলান্স রাইটিং ”।

একজন ফ্রীলান্স লেখক হতে হলে আপনাকে শুধু ভাল মানের লেখার অভ্যাস গড়তে হবে। তবে হ্যা, আপনি এক লাফেই যে ভাল মানের লেখক হবেন এটা ভাববেন না। আপনাকে প্রধমত গ্রামারটিক্যাল বেসিক নিয়ম জেনে নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। কারন, আপনি যাদের হয়ে লিখবেন তাদের মত বা তাদের ভাষাগত মিল না থাকলে আপনাকে ডিসকোয়ালিফাই করে দিবে। সুতরাং, ভাষাগত এবং ব্যকরনগত সমস্যা ঠিক রেখে আপনাকে ফ্রীলান্স লেখক হিসাবে পদার্পন করতে হবে। 🙂 এখানে সবচেয়ে লক্ষনীয় বিষয় যে, বর্তমান ফ্রীলান্স জগতে লক্ষ লক্ষ লেখক প্রতিনিয়তই লিখালিখি করছেন ব্যক্তিগত ব্লগ ছাড়াও বিভিন্ন ব্লগে, পেইড ব্লগার বলেন অথবা অতিথি ব্লগার। তাই বর্তমান ইন্টারনেট জগত দিন দিন ব্যস্থ হয়ে পড়ছে ব্লগারদের ভীড়ে। একেক ব্লগে একেক রকম কন্টেন্ট নিয়ে লিখালিখি হচ্ছে। আপনিও কি হতে পারেন না তাদের একজন? হ্যা চিন্তা করুন। শুধু ভাল মানের লিখার অভ্যাস থাকলেই আপনি সেই ব্লগে লিখতে এবং এর থেকে অর্থ আয়ের সুযোগও পাবেন।

ইন্টারনেটে ফ্রীলান্স লেখকদের অনেক সুবিধা আছে। প্রথমত, আপনি যেকোন সময় যেকোন জায়গা থেকে লিখতে এবং প্রকাশ করতে পারবেন। দ্বিতৃয়ত, আপনি আপনার পছন্দমত বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন। তৃতীয়ত, আপনি আপনার লিখা সময়মত জমা দিবেন এবং প্রকাশক থেকে অর্থ গ্রহন করবেন কিছু দিন পরপর। 😉 এখানে উল্লেখ্য যে, আপনার পারদর্শীতা প্রকাশের জন্য হয়তো প্রথমত কিছু লিখা বিনা অর্থের বিনিময়ে জমা দিতে হতে পারে। হোক না তাতে ক্ষতি কি। এতে করে আপনার উপর প্রকাশক এর আস্থা এবং আপনার লেখার মান সম্পর্কে ধারন জন্মাবে।

এখন যদি আপনি মনে করেন, আপনি আপনার ব্লগ-এ লিখেই অর্থ উপার্জন করবেন, তাহলে ফ্রীলান্স লেখক হিসাবে কি করলে বা কি মানের লিখা লিখলে ভাল/স্থায়ী পাঠক পাবেন এবং আপনার ব্লগ থেকে বিপুল পরিমানে অর্খ উপার্জন করতে পারবেন। সেভাবে নিজেকে তৈরী করুন। এবং অন্যের ব্লগে লিখে যে অর্থ উপার্জন করেছেন তা নিজের সাইটের উন্নয়নে(লগো ডিজাইন, উন্নত হোষ্টিং স্থাপন) পূনরায় বিনিয়োগ করুন। কারন আপনি হয়তো জানেন না, এতো লক্ষ লক্ষ ব্লগার খাকার পরেও গুনে দেখলে গড়ে ১০০০ জন ইন্টারনেট এর সাথে সম্পর্কযুক্ত মানুষের মধ্যে হাতে গুনা ১০-২০ জন ব্লগ লিখেন। তাই আপনি ভাল মানের লেখক হলে আর দেরি করে নিজের সময় এর অপচয় করবেন না।

যদি আপনি মনে করে পারবেন তবে আজই শুরু করুন এপ্লাই করা। আপনি প্রোব্লগার এর জব বোর্ড থেকেও জব এপ্লাই করতে পারেন।

যদি লক্ষ থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে,
হবেই হবে দেখা, দেখা হবে বিজয়ে
। 😀

ধন্যযোগ সকলকে।

দেখা হবে আগামী পোষ্ট-এ।
সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 🙂

comments

10 কমেন্টস

  1. শাওন ভাই আনেক দিন পর………..এখন ব্লগে পাঠক পাওয়া সহজ বেপার নয় …

    • কি যে বলেন ভাই, ভাল লিখতে জানলে আপনার ব্লগে পাঠক আসবেই। কারন পাঠক ভাল মানের লিখা খুজে, আপনি যদি লিখতে না জানেন তো পাঠক পাবেন কই? 😉

  2. অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ শাওন ভাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.