free wifi

খুব লোভনীয় একটি কথা না? কিন্তু এটি যদি হয় আপনাকে ধরার একটি ফাঁদ, তখন কি করবেন? কিভাবে বাঁচবেন এই ভয়ানক জাল থেকে? জানা আছে কি আপনার? যদি না জেনে থাকেন তবে আজকের এই পোষ্টটি আপনারই জন্য।

স্বভাব সুলভ ভাবে বলুন আর জেভাবেই বলুন ফ্রি ওয়াইফাই পেলে কিন্তু সচরাচর আমরা সবাই কানেক্ট করে ব্রাউজ করা শুরু করি। একটি বারও ভাবিনা এটির মাধ্যমে আমার কোন ক্ষতি বা আমি হ্যাকারদের শিকার হচ্ছি কিনা।

Free Wifi

মনে রাখবেন আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য হাতিয়ে নেবার জন্য এটি অতি উত্তম একটি মাধ্যম। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কিন্তু খুব সহজেই আপনি হ্যাক হবার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত হতে পারেন।

যেমন, এ নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-

## আমার মতে কফি শপ, লাইব্রেরি, বিশ্ববিদ্যালয়, সহ অন্যান্য যত পাবলিক প্লেসে আপনাকে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে দিবে, চেষ্টা করুন এগুলো এড়িয়ে যাবার। তার কারণ এখানে যে নেটওয়ার্কটি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত অবস্থায় থাকে। আপনার পাসেই বসে থাকা হ্যাকার ঐ একই ওয়াইফাই কানেকশন ব্যবহার করে খুব সহজে আপনার ফোনের বা ল্যাপটপের তথ্য নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতে পারে। তারপরেও যদি আপনার ইচ্ছা করে ব্রাউজ করার তবে করুন।  তখন এমন কোন সাইটে ধুকবেন না যেখান থেকে আপনার গোপন তথ্য চুরি যাবার ভয় থাকে যেমন, ফেসবুক, টুইটার, পেপাল, পেওনির, ইত্যাদি। মনে রাখবেন আপনার পিসি বা ফোন যতই বলুক যে এটা সিকিউর কানেকশন বা পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড তার মানে কিন্তু এই না যে এটি সিকিউর বা নিরাপদ।

## আপনি যদি অ্যাপলের ম্যাক বা উইন্ডোজ নির্ভর পিসি ব্যবহার করেন তবে নিরাপত্তার জন্য প্রতিটা ওএসএক্স বা উইন্ডোজের ইনবিল্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেয়া আছে। এটি চালু করতে হলে সিকিউরিটি সেটিংসে যেয়ে উইন্ডোজ ফায়ারওয়ালের সেটিংসে যাবেন তারপর ওখান থেকে ব্লক অল ইনকামিং ট্রাফিক অন করে দিবেন। এবার চেষ্টা করলেও আর আপনার পিসিতে কেউ সিগন্যাল পাঠাতে পারবে না।

## আমরা অনেকেই একটু অলস প্রকিতির মানুষ। কেমন সেটা বলি। মনে করে দেখেন যখনি আপনি ফেসবুক বা অন্যান্য প্রয়জনিয়া সাইটে ধুকছেন তখন আপনার ব্রাউজার স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনাকে “রিমেম্বার পাসওয়ার্ড” নামের একটি নোটিফিকেশন দিচ্ছে। এটি ইয়েস করে দেবার মানে হল পরবর্তীতে আপনি যখন এই একই ওয়েবসাইটে ধুকবেন তখন আর আপনাকে নতুন করে ইউজার নেম পাসওয়ার্ড দেয়া লাগবে না। আপনার ব্রাউজারই সেটি মনে রাখবে। এটি আমাদের খুবই মারাত্মক একটি ভুল। হ্যাকার রা অনেক সময় আপনার ব্রাউজার কে টার্গেট করে থাকে। এই ফিশিং থেকে বাঁচার জন্য মজিলা ফায়ারফক্সে মাস্টার পাসওয়ার্ড নামে একটি অপশন আছে সেটি অন করে নিবেন। তবে আমার মতে দরকারি ওয়েবসাইট গুলার পাস ব্রাউজারে সেভ না করাই বেষ্ট প্র্যাকটিস।

## কোনও ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে এইচটিটিপি (HTTP) আপনার কাজ সংকেত হিসেবে নেয়। তখন ওখানে যেটা করছেন সেটা কনফিডেনশিয়াল হয়ে যায়। তাই এইচটিটিপি এভরিহোয়্যার (HTTPS Everywhere) ইনস্টল করে নিন। বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইটে আপনার ক্রিয়াকলাপ সংকেত হিসেবে পৌঁছাতে বাধ্য হবে।

## অনেক সময় দেখা গেছে হ্যাকাররা “ফ্রি ওয়াইফাই”  বা অন্য নতুন নামে একটি ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে। সেক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হবে, আপনি যখনি নতুন কোন জায়গার ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন তখন সেটি ব্যাবহার করার আগে অবশ্যই কর্তিপক্ষের কাছ থেকে উক্ত কানেকশনের নাম এবং পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে তারপর সেটি ব্যবহার করবেন।

## খুবই বেক্তিগত ব্যাবহার যেমন, অনলাইনে কেনাকাঁটা করা, ব্যাংক ট্রান্সফার, ইত্যাদি স্পর্শকাতর কাজগুলো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে করবেন না। প্রয়োজনীয় কাজ গুলো আপনার বাসায় সেরে ফেলুন।

সর্বোপরি চেষ্টা করেন উপরের নির্দেশনা ঠিক মতো মেনে চলার। ও হ্যাঁ আরেকটি কথা সবসময় চেষ্টা করবেন একটি ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যাবহার করতে। সেটা আপনার পিসিতেই হোক বা স্মার্টফোনে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.