ফেসবুকঃ কতটা মানসিক শান্তি যোগায় আপনাকে?

দ্য আমেরিকান একাডেমী অব পেডিয়াট্রিকস ২০১১ সালে সর্বপ্রথম “ফেসবুক ডিপ্রেশন” টার্মটি ব্যবহার করে। এর সংজ্ঞায়নে তারা বলে যে, “যেসকল টিন এজার বা প্রাক-টিন এজাররা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে অন্যের কার্যকলাপ দেখে ঈর্ষান্বিত হয় এবং বিষন্নতার সবগুলো মাত্রা অতিক্রম করে।”

এই প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক হান্না নিকোলস তার গবেষণায় বলেন যে, একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রায় ১.৭৯ বিলিয়ন মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি একটি বিপ্লব এবং এর মাধ্যমে মানুষ এখন একজন আরেকজনের আরো কাছে চলে আসতে পারছে। কিন্তু পর্দার আড়ালের দৃশ্যটি আমরা কতটুকু দেখতে পাই?

হান্না তার গবেষণায় বলেন যে, ফেসবুকে মানুষ তাদের সকালের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের ঘুমাবার আগ পর্যন্ত কি কি কাজ করে তার সব কিছুর একটি আমলনামা দেয়। এ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, যারা সুবিধাবঞ্চিত কিংবা যারা এই ধরণের লাইফস্টাইল উপভোগ করতে পারছে না তারা নিজেদের জীবন নিয়ে এক ধরণের বিষন্নতায় ভুগে থাকে। অনেক সময় এটি মারাত্মক সব অপরাধেরও জন্ম দিতে পারে।

তিনি তার গবেষণায় এই বিষন্নতার মাত্রা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে দেখানঃ

১) ভার্চুয়াল একটি আইডেন্টিটি বা পরিচয়ে তারা ভুগতে থাকেন যেটি তাদেরকে এই ভার্চুয়াল জগতে দেয়া হয়।

২) অন্য মানুষের লাইফস্টাইল দেখে নিজের মাঝে ঈর্ষা কাজ করা।

৩) যত্রতত্রভাবে স্ট্যাটাস আপডেট দেয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত কথায় লিপ্ত হওয়া।

৫) নেতিবাচকভাবে অপরের সাথে নিজের তুলনা করা।

পরিশেষে হান্না বলেন যে, দিন যতই যেতে থাকবে, আমাদের মাঝে এই ধরণের প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তাই সময় থাকতেই আমাদের এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা উচিত।

সূত্রঃ Medicalnewstoday.com

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.