নিয়মিত ভাবে ফেসবুক এবং ই-মেইল ব্যবহার করছেন অনেকেই। কিন্তু নানা সময়ে পাসওয়ার্ড হারিয়ে যাওয়া, হ্যাকড হওয়া বা অন্যান্য কারণে সমস্যায় পড়ে যান অনেকেই। যেহেতু এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করেন তাই এর নিরাপত্তার বিষয়টিও জরুরী হয়ে পড়েছে। অনেকেই ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট হারিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও বিব্রত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। একই ভাবে নিয়মিত যোগাযোগ বা অফিসিয়াল কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইলের পাসওয়ার্ড হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা হ্যাকড হলেও অনেক ধরনের তথ্য বেদখল হয়ে যেতে পারে। তাই ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হতে হবে সতর্ক।

ফেসবুক কিংবা ই-মেইলে কিন্তু চাইলেই নিজে থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব। এতে করে এসব অ্যাকাউন্ট বেদখল হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। কোন বিপদে পড়ার আগেই যদি সে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার পদ্ধতি জেনে রাখা যায় এবং সে পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় তাহলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়া সম্ভব। ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেই কিছু সহজ টিপস অবলম্বন করতে পারেন। ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে ই-মেইল। তাই ফেসবুকে যে ই-মেইল ব্যবহার করবেন তার নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করুন। অনেকেই আমরা মনে করি একটি পাসওয়ার্ড দিলেই মনে হয় ই-মেইল নিরাপদ হয়ে গেল, এছাড়া সহজ পাসওয়ার্ড দিলে মনে থাকে! কিন্তু এক্ষেত্রে একটু সতর্ক হলে কিন্তু অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ফেসবুকে নিরাপদ থাকতে চাইলে যা করবেন:

screenshot-www.facebook.com-2017-07-19-19-27-04সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে নিরাপত্তা নামের একটি আলাদা ফিচারই আছে যেখানে গিয়ে আপনি চাইলে সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। নিয়ন্ত্রণ করা য়া আপনার পোস্ট কে দেখতে পারবে, স্ট্যাটাস কে কে দেখতে পারবে বা আপনাকে কে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারবে ইত্যাদি বিষয়গুলো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় আপনার ই-মেইল ঠিকানা (যেটি ব্যবহার করে আপনি ফেসবুকে লগ-ইন করেন বা ফেসবুকে যুক্ত আছেন) সেটি নিয়ে। শুধুমাত্র ই-মেইল বা ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়েই নিরাপদ না থেকে আরো কয়েকটি নিরাপত্তা মূলক পদক্ষেপ নিয়ে নিন এখনেই। ফেসবুকে বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য একাধিক বাড়তি সুবিধা চালু আছে যার মধ্যে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন একটি। এর কাজটি হচ্ছে, আপনার ইউজার নেম বা ই-মেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করার পর আপনার মোবাইলে বা ফেসবুক মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপের ‘কোড জেনারেটর’ অবশনে একটি কোড আসবে। যখনই আপনি কোথাও আপনার ফেসবুকে লগ-ইন করতে চাইবেন তখনই ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর যে কোডটি দেখা যাবে ‘কোড জেনারেটের’-এ সেটি না দেওয়া পর্যন্ত ফেসবুকে লগ-ইন করা যাবে না। এতে করে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বেড়ে যাবে। এ কোডটি আপনার মোবাইল নম্বরে নিতে পারেন। তবে নেটওয়ার্কজনিত সমস্যায় অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলে এসএমএস আসতে দেরি হয়। তাই ভালো হয় ফেসবুক অ্যাপে থাকা ‘কোড জেনারেটর’টি সক্রিয় করা।

3এ সুবিধাটি চালু করতে ফেসবুকে লগ-ইন করুন। এবার ফেসবুকের ডান পাশে অ্যারোতে ক্লিক করে Settings -এ যান। Settings থেকে বাম পাশে থাকা Security & Login অপশনে ক্লিক করুন। এবার Setting Up Extra Security-তে গিয়ে Use two-factor authentication সুবিধাটি Turn on করুন। এবার এখানেই থাকা Code Generator অপপশনটি Enable করে নিন। এবার যখনই আপনি কোন কম্পিউটারে বা ল্যাপটপে আপনার ফেসবুকে লগ-ইন করবেন তখনই আপনার ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন কোড চাইবে। ছয় অক্ষরের এ কোডটি পেতে আপনার মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপে যাবেন। তারপর অ্যাপের ডান পাশে নীচে (আইফোন) আর উপরে (অ্যান্ড্রয়েড) থাকা অপশনে ক্লিক করুন। এবার নীচের দিকে থাকা Code Generator অপশনে ক্লিক করুন। এখানে ৬০ সেকেন্ড পর পর একটি নতুন কোড আসতে থাকবে। আপনাকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে সে কোডটি ব্যবহার করতে হবে। তবেই আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি নিরাপদ রাখতে পারবেন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। আপনি যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটে নিয়মিত ব্যবহার করবেন বা বাসায় থাকবেন সেখানে একবার কোড দেওয়ার পর Save Browser নির্বাচন করে দিলে সে ডিভাইসে আর এ কোড চাইবে না। তাই একেবারে নিজের একান্ত কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটেই কেবল Save Browser নির্বাচন করে রাখুন। নতুন বা অন্য কোন কম্পিউটার/ল্যাপটপে Don’t Save অপশন নির্বাচন করে দিন।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.