ফেসবুকের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ ২৮ আগস্ট,  ৪৭ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি ফেসবুকের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তিনি তার দক্ষ পরিচালনা জ্ঞানের  মাধ্যমে ফেসবুককে সহায়তা ও বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের বিস্তৃতি বাড়াতে কাজ করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মানুষের তালিকায় রয়েছে তার নামও।

 

ফলে তার সম্পর্কে কৌতূহল রয়েছে অনেকেরই। জেনে নিন, ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) অর্থাৎ প্রধান পরিচালনা কমকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ সম্পর্কে ১১ তথ্য।

 

* তিন ভাইবোনের মধ্যে শেরিল স্যান্ডবার্গ সবার বড়। ১৯৬৯ সালের ২৮ আগস্ট  যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে একটি ইহুদি পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা অ্যাডেল স্যান্ডবার্গ চক্ষুচিকিৎসক ছিলেন এবং মা জোয়েল স্যান্ডবার্গ কলেজ শিক্ষক ছিলেন।

 

* শেরিল নর্থ মিয়ামি বীচ হাইস্কুলে পড়ালেখা করেছেন। এরপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ ডিগ্রি নিয়েছেন। ১৯৯৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

 

* হার্ভাডে পড়ালেখাকালীন সময়ে তিনি অর্থনীতি ও সরকারে নারী নামক একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তার মতে, ‘গ্রুপটি তৈরির উদ্দেশ্যে ছিল অর্থনীতি এবং সরকারে আরো বেশি দক্ষ নারী পেতে।’

 

* হার্ভার্ড থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে তিনি প্রথমে ম্যাকিনজি অ্যান্ড কোম্পানি এবং তারপর বিশ্ব ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০১ সালে গুগলে যোগদান করার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন।

 

* গুগলে থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘গ্লোবাল অনলাইন সেলস’ এর ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। গুগলের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য এবং গুগল  বুক সার্চ-তার দায়িত্বের আওতায় ছিল। এছাড়া গুগলের জনপ্রিয় প্রকল্প গুগল ডট অর্গ চালুতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

 

*  ২০১২ সালে শেরিল স্যান্ডবার্গ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে প্রথম নারী হিসেবে ফেসবুক বোর্ডে যোগদান করেন।

 

* শেরিল স্যান্ডবার্গ ‘লিন ইন: উইম্যান, ওয়ার্ক অ্যান্ড দ্য উইল টু লিড’ নামক বইয়ের লেখক। সর্বাধিক বিক্রিত এই বইটিতে বিশ্বে কয়েকজন নারী নেতৃত্বের সফলতার কারণগুলো আলোচনা করা হয়েছে।

 

* নারীদের ক্ষেত্রে ‘বজি’ (প্রভুত্বপরায়ণ) শব্দটি নিষিদ্ধকরণে শেরিল স্যান্ডবার্গ প্রচারণামূলক কাজ করছেন বিয়ন্স, জেনিফার গার্নার, কন্ডোলিৎসা রাইসের মত্যে তারকা ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে।

 

* ২০১২ সালে তিনি টাইমস ম্যাগাজিনের মতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের মধ্যে তালিকাভুক্ত হোন। জানুয়ারি, ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী তার সম্পত্তির পরিমাণ ১ বিলিয়ন আমেরিকান ডলারেরও বেশি। শেরিলের এ ধনী হওয়ার পেছনে রয়েছে ফেসবুকের শেয়ার। ফেসবুক ছাড়াও তিনি ওয়াল্ট ডিজনি ও উইমেন ইন্টারন্যাশনালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।

 

* ব্যক্তিগত জীবনে শেরিল স্যান্ডবার্গ ২৪ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে ব্রেইন ক্রাফ এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। তবে পরের বছরেই অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। ২০০৪ সালে ডেভ গোল্ডবার্গকে বিয়ে করেন তিনি। ডেভ গোল্ডবার্গ সে সময়ে ইয়াহুর নির্বাহী ছিলেন এবং পরবর্তীতে সার্ভেমাঙ্কি প্রধান নির্বাহী। এই দম্পত্তি এক ছেলে এবং এক মেয়ে সন্তানের জনক। ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন ডেভ গোল্ডবার্গ। শেরিল ২০১৩ সালে তার লেখা ‘লিন ইন’ বইটি ডেভ গোল্ডবার্গকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং সেখানে লিখেছিলেন, ‘ডেভের মতো সত্যিকারের একজন সঙ্গী এখন খুব দুর্লভ।’

 

* শেরিল স্যান্ডবার্গ বর্তমানে ৫৩ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ববি কটিকের সঙ্গে প্রেম করছেন।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.