‘অরকুট’ কে বলা হয় সোশ্যাল সাইটের জন্মদাতা। বিশ্বের প্রথম সোশ্যাল সাইট ‘অরকুট’-এর জন্ম দিয়েছিলেন অরকুট বুয়ুক্কোকটেন। সে তো ২০০৪ সালের কথা। গত কয়েক বছর ধরে তো সোশ্যাল সাইট বলতে একটাই নাম ঘুরে ফিরে আসে-ফেসবুক। আর এই ফেসবুকের আগ্রাসনেই ২০১৪ সালে ‘মৃত্যু’ হয় সাইটটির। কিন্তু জানেন কি ‘অরকুট’-এর জনপ্রিয়তার ইতিহাস? ২০০৪ জন্ম নেওয়া ‘অরকুট-এর জনপ্রিয়তা এক ইতিহাস তৈরি করেছিল। টেক স্যাভি দুনিয়াকে মাতিয়েছিল ‘সোশ্যাল মিডিয়া’-র নেশায়। যার হাত ধরে আজ বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘ফেসবুক’। ২০০৯-এর শেষ থেকে ‘ফেসবুক’-এর জনপ্রিয়তা বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছছিলো যে পিছিয়ে পড়েছিল ‘অরকুট’।

২০১৪ সালের অক্টোবরে ‘অরকুট’-এর স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছিল গুগল।কিন্তু, আজও  কোথাও না কোথাও কারোর না কারোর মনে উঁকি দেয় ‘অরকুট’-এ হারিয়ে যাওয়া তাদের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল। তাই ‘অরকুট’ মানেই এক নষ্টালজিয়ায় ভেসে যাওয়া।সেই ‘অরকুট’ অবশেষে ফিরল সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে নতুন নামে, নতুন চেহারায়। অরকুট.কম-এ একথা ঘোষণাও করা হয়েছে। অরকুটের নতুন সোশ্যাল মিডিয়ার নাম হয়েছে, ‘হ্যালো’। কমিউনিটি বেসড সোশ্যাল নেটওয়ার্কই ছিল অরকুটের সাফল্যের চাবিকাঠি। সেই কমিউনিটি বেসড ভাবনাই ‘হ্যালো’-র ইউএসপি। তবে, এই কমিউনিটি কমিউনিকেশনকে আরও সহজ এবং চমকপ্রদ করেছে অরকুট। ‘হ্যালো’-র সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ইন্টারনেটে ইউআরএল টাইপ করে পাওয়া গেলেও তাতে লগ-ইন করা যাবে না। ‘হ্যালো’ সম্পূর্ণভাবে একটি অ্যাপ নির্ভর স্মার্টফোন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। ফলে মোবাইলে অ্যাপ ডাউনলোড করলে তবেই এতে লগ-ইন করা যাবে। ‘হ্যালো’-তে মোট ১০০-এর বেশি কমিউনিটি রাখা হয়েছে। এরমধ্যে থেকে পছন্দমতো ৫টি কমিউনিটি বেছে নিতে হবে। এই কমিউনিটির উপর ভিত্তি করেই বাড়বে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ফ্রেন্ডশিপ। অরকুট বুয়ুক্কোকটেনের দাবি, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং দুনিয়াকে নতুন পথের দিশা দেখাবে হ্যালো’। সেইসঙ্গে ‘ফেসবুক’-কে ব্যঙ্গ করে তিনি জানিয়েছেন,‘হ্যালো’ তৈরি হয়েছে ভালবাসা দিয়ে, শুধুমাত্র ‘লাইক’-এর কথা ভেবে নয়।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.