লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি

সালটা খুব ভালো করে মনে করুন, এটা ২০১৬ সাল। ঠিক তিন বছর পর পৃথিবী উদযাপন করবে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ৫০০তম মৃত্যুবার্ষিকী। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যেমনটি বলছেন তা যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা তার পুনর্জন্মও উদযাপন করতে যাচ্ছি।
চিত্র বিশেষজ্ঞ, জীনত্বাত্ত্বিক, অণুজীববিজ্ঞানী, এবং ডি এন এ বিশেষজ্ঞদের একটি দল চেষ্টা করে যাচ্ছেন ‘মানুষের বিবর্তন’ নামক দিক নির্দেশনাটির মাধ্যমে ২০১৯ সালের মাঝে কি করে এই বিখ্যাত চিত্রকরের জিনোমকে নতুন করে পুনর্জাগরিত করতে পারেন। এ লক্ষ্যে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও আমেরিকার কিছু গবেষক কাজ করে যাচ্ছেন।
একটি সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন যে, দলের কিছু সদস্য কাজ করবেন তার আঁকা ছবি ও ব্যক্তিগত ডায়েরী থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা নিয়ে। কিছু সদস্য কাজ করবেন তার জন্মস্থান ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিঞ্চির পিতার ও আত্মীয়দের শবদেহ এর অবশিষ্টাংশ উত্তোলন নিয়ে।
রোনডা রবি নামক একজন ডি এন এ বিশেষজ্ঞ বলেন যে, ‘নিত্য নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সকল তথ্য জানা যায়। আমি বিশ্বাস করি যে ভিঞ্চির চিত্রকর্মের মাঝে জৈবিক কিছু উপাদান আছে যা তার জিন কোড ম্যাপিংএ সাহায্য করবে। তবে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কি করে তার এই মহান চিত্রকর্মগুলোকে একটুও নষ্ট না করে তার এই উপাদানগুলো সংগ্রহ করা যায়।’
১৫১৯ সালে ভিঞ্চি যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার দেহের অবশিষ্টাংশ রাখা হয় সেইন্ট ফ্লোরেন্টিনের একটি চ্যাপেলে। এটি শ্যাতো দি আম্বোয়েজের পাশেই অবস্থিত। কিন্তু তার দেহটিকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল কারণ ঐ ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সারাহ ন্যাপটন টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা মনে করছি এটি অসম্ভব কিছু নয়। বিজ্ঞান এখন এমন একটি পর্যায়ে চলে গিয়েছে যেখানে আপনি এখন যে কোন কিছু চাইলেই পেতে পারেন। আমরা আশা করছি ভিঞ্চির বাবার কবর থেকে প্রয়োজনীয় সব উপাদান উদ্ধার করতে পারব। ভিঞ্চিকে পুনর্জাগরিত করার স্বপ্ন এখন দেখা যেতেই পারে।’
দেখা যাক, বিজ্ঞানীরা কতটুকু কি করতে পারেন!

সূত্রঃ স্মিথসোনিয়ান লাইব্রেরি

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.