শিশুদের দূরে রাখুন ফাস্ট ফুড থেকে ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট

রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম। সবগাড়ি আটকে আছে। এমন সময় একটি গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখা গেল জানলা দিয়ে একটি বাচ্চা স্যান্ডউইচ কিংবা মোড়ক খুলে তাতে কামড় বসাচ্ছে। খুবই একই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এর মাঝে লুকিয়ে আছে এক নির্মম ভয়ঙ্কর সত্য।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা খুবই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি। মানুষ এখন চায় খুব সহজেই হাতের নাগালেই যেন সব কিছু পাওয়া যায়। এই ‘শর্টকাট’ জীবন পাওয়ার জন্য মানুষ এখন নিজেদের আরো শর্টকাট করে ফেলছে। বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং এই ধরণের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করার জন্য তাদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একটি গবেষণার মাধ্যমে। তারা ছোট ছোট শিশুদের ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু এখন তারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন প্রায়।

তারা বলছেন, ‘এটি হচ্ছে এমন একটি যুদ্ধ যেখানে আপনি আস্তে আস্তে হেরে যাচ্ছেন।’  আধুনিক জীবন যাপনের সাথে তাল মেলাতে যেয়ে আমরা এমনভাবে জড়িয়ে যাচ্ছি যে আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা আমরা ভুলে বসে আছি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা দায়ী করেছেন খাদ্যের অপরিমিত গ্রহণ ও ঝুকিযুক্ত খাবার গ্রহণ।

যুক্তরাজ্যের করা এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ১৯৯৮ সালে যে পরিমাণ শিশুদের ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হত, ২০১৬ সালে এসে তা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। তারা বলছেন বাতাসে দূষণ ও অপরিণত বয়সে অস্বাভাবিক অনুপাতে মোটা হয়ে যাওয়া হচ্ছে এর অন্যতম প্রধান কারণ। আর এই মুটিয়ে যাবার প্রধান কারণ হচ্ছে অত্যধিক পরিমাণ স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া।

১৯৯৮ সালের পর থেকে কোলন ক্যান্সারের হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং থাইরয়েড ক্যান্সার ও লিউকেমিয়ার হারও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

ডক্টর হেন্স শ বলেন,

‘এটা বলার কোন অপেক্ষাই রাখে না যে আধুনিক জীবনযাত্রা এর পেছনে অধিকাংশই দায়ী। আমরা এখন এই জীবনের ফলাফল নিয়ে ভয় পাচ্ছি। ফাস্ট ফুড আমাদের জীবনকে ফাস্ট করছে কি না তা জানি না, তবে মৃত্যুর দিকে আমাদের দ্রুতই নিয়ে যাচ্ছে। এটি সত্যই “ফাস্ট”।’

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কথা বিজ্ঞানীরা বলছেন। ডাক্তাররা বলছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নিত্য নতুন চকচকে মোড়কের পসরা সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য আপনাদের সামনে হাজির করবেই। নিজের রসনা লাভের আশায় আপনি চেখে দেখবেনই। এর মাঝে শিশু কিশোরদের সংখ্যাই সবচাইতে বেশি। সময় থাকতে এর বিরুদ্ধে কিছু একটা না করতে পারলে আমরা অচিরেই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে হারাতে যাচ্ছি।

সুত্রঃ সায়েন্স জার্নাল

comments

কোন কমেন্ট নেই

LEAVE A REPLY

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.