উল্কিকাটা মমি

শরীরটা ছিল উল্কিতে ঢাকা। প্রায় ৩০ ধরনের ফুল, পশু ও পবিত্র সব সংকেতে ঢাকা ছিল মমির শরীরটি।অ্যানি অস্টিন নামক একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ মিশরের ডেইর এল মেদিনা নামক শহরে প্রায় ৩০০০ বছরের পুরোনো এক মমির সন্ধান পেয়েছেন। এর মাঝে যে অবাক করা বিষয় রয়েছে তা হল অন্যান্য সব মমির গায়ে ডোরাকাটা দাগ কিংবা সাধারণ কিছু ডট লাইন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এর আগে কেউ কোন মমির শরীরে এমন উল্কি পায় নি। অস্টিন ও তার সহকর্মীরা এ ঘটনায় হতবিহবল হয়ে গিয়েছেন।

প্রাপ্ত মমিটি একজন মহিলার। তার চোখে আঁকা রয়েছে পবিত্র ওয়াজেট নামক পশুর উল্কি, কাঁধে ও পিঠে রয়েছে অঙ্কুরিত পদ্ম ও হাতের বাহুতে রয়েছে গরুর উল্কি। তার গ্রামের পাশেই ছিল সে সময়কার নকশাকারকদের বাস যারা প্রাচীন ফারাও রাজা এবং তাদের ঈশ্বরের মূর্তি ও নকশা তৈরি করত।

মহিলাটির শরীরে উল্কিগুলোর তাৎপর্য কি কিংবা কেনইবা তার শরীরে এত উল্কি আঁকা রয়েছে তা সম্পর্কে অস্টিন নিশ্চিত নন। তবে তিনি ধারণা করছেন যে এর মাঝে ধর্মীয় বিশ্বাসের কিছু যোগসূত্র হয়তবা থাকতে পারে। বিশেষ করে চোখ ও গরুর উল্কি নির্দেশ করে দেবী হাথোরের প্রতি।

অস্টিন বলেন, “যদি আপনি এটার দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন যে স্বর্গীয় এক জোড়া চোখ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।” প্রথমে তিনি এটার কাঁধে একটি বেবুনের উল্কি দেখতে পান। তারপর তিনি সন্দেহ করেন যে এটির শরীরে হয়তবা আরো উল্কি থাকতে পারে। পরীক্ষার পর দেখা যায় যে তার ধারণাই সত্য।

অস্টিন যখন ইনফ্রারেড পদ্ধতির সাহায্যে উল্কিগুলোকে স্পষ্ট করছিলেন, তখন তিনি আরো কিছু গোপন উল্কি পেয়ে যান। তিনি তারপর তার সহকর্মীদের সাথে বাকি উল্কিগুলোও দৃশ্যমান করে তোলেন। তারা মহিলার মমিটির গায়ে এমন সব স্থানে কিছু উল্কি দেখতে পান যাতে ধারণা করা হচ্ছে যে, ঐ প্রাচীন সময়ে এসব স্থানে উল্কি আঁকানো ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণার। কিছু কিছু স্থানে উল্কির কালি হালকা হয়ে আসছিল। তারা ধারণা করেন, হয়ত মহিলাটি হালকা হয়ে আসবার কারনে নতুন কালি দিয়ে উল্কির ওপর আবার হয়ত দৃশ্যমান করে তুলেছিলেন।

তবে একটি ব্যপারে অস্টিন নিশ্চিত। এই উল্কিগুলোর মাঝে প্রবল পরিমানে সাংস্কৃতিক ধ্যান ধারণা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের আস্থা খুঁজে পেয়েছেন তারা, যা ভবিষ্যতে গবেষণায় তাদের আরো সাহায্য করবে।

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.