স্বর্গীয় সংখ্যা বা গোল্ডেন রেশিও

ইতিহাসের প্রতিটি বিখ্যাত জিনিসের মাঝে কিছু দিক রয়েছে যা সাধারণভাবে ধরতে গেলে একই বোঝায়। যেমন, গীজার গ্রেট পিরামিড, এথেন্সের পার্থেনন কিংবা মেক্সিকোর চিচেন ইতজা- এই প্রতিটি জিনিসের মাঝেই সাধারণ কিছু মিল রয়েছে। দর্শনার্থীদের এই জিনিসগুলো খুব আকর্ষণ করে তো বটেই, এছাড়াও এদের আরেকটি বিশেষ মিল রয়েছে। স্থাপত্যবিদ্যার দিক থেকে দেখতে গেলে এই প্রত্যেকটি বিস্ময় তৈরি হয়েছে গোল্ডেন রেশিওর মাধ্যমে।

মোনালিসার ছবিতেই ভিঞ্চি ব্যবহার করেছিলেন গোল্ডেন রেশিও সূত্রঃ ইন্টারনেট
মোনালিসার ছবিতেই ভিঞ্চি ব্যবহার করেছিলেন গোল্ডেন রেশিও
সূত্রঃ ইন্টারনেট

গোল্ডেন রেশিও কি?
সোনালী অনুপাত বা গোল্ডেন রেশিও কে প্রাচীনকালে স্বর্গীয় সংখ্যাও বলা হত।বর্তমানে বড় বড় ভবনের নকশা করা হয় এটি ব্যবহার করে। কোন আয়তের সন্নিহিত বাহু দুটির অনুপাত যদি দ্বিঘাত সমীকরন x^2-x-1 র একটি সমাধান হয়,তবে আয়তক্ষেত্রটি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর হয়।এ সমাধানকে গ্রিক ফাই দ্বারা সূচিত করা হয়।এর মান ১.৬১৮০৩৩৯৮৯…….।

আমাদের মুখমন্ডলে গোল্ডেন রেশিওর ব্যবহার (সূত্রঃ ইন্টারনেট)
আমাদের মুখমন্ডলে গোল্ডেন রেশিওর ব্যবহার (সূত্রঃ ইন্টারনেট)

গোল্ডেন রেশিওর সাথে অনেক কিছুর প্রমাণ পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে যে, পৃথিবীতে যা কিছু তৈরি করা হয় বা রয়েছে তার সবকিছুর মাঝেই গোল্ডেন রেশিওর প্রভাব রয়েছে। নানা দালান কোঠা, পশু পাখি, কীট পতঙ্গ ইত্যাদির সাথে গোল্ডেন রেশিওর সম্পর্ক রয়েছে। আপনি জানেন কি? আমাদের মানবদেহের অঙ্গ বা শরীরের নানা অঙ্গের সাথে রয়েছে গোল্ডেন রেশিও বা স্বর্গীয় অনুপাত বা ফাই এর প্রভাব।

প্রাচীন পুয়েবলোরা স্বর্ণ মন্দিরে ব্যবহার করত গোল্ডেন রেশিওঃ

কলোরাডোর মেসা ভার্দে ন্যাশনাল পার্কে প্রাপ্ত একটি স্বর্ণ মন্দিরে গোল্ডেন রেশিওর অনুপাত পাওয়া গিয়েছে। এর সাথে নানা জ্যামিতিক সৌন্দর্য্য এবং রহস্য জড়িয়ে আছে। পুয়েবলোরা তাদের স্বর্ণ মন্দিরে গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করত।

স্বর্ণ মন্দিরে গোল্ডেন রেশিওর ব্যবহার সূত্রঃ ইন্টারনেট
স্বর্ণ মন্দিরে গোল্ডেন রেশিওর ব্যবহার
                     সূত্রঃ ইন্টারনেট

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে তাদের কোন লিখিত ভাষা কিংবা কোন সংখ্যা ছিল না। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন পদার্থবিদ শেরি টাওয়ার ৮০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই ডি আকৃতির মন্দির নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে, এই মন্দির আসলেই কি কোন পূজা বা ধর্মীয় কাজ করবার জন্য পালন করা হত, নাকি গণিতের কোন মজার বিষয় কিংবা রহস্যও এর মাঝে রয়েছে? তিনি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করেছেন যে এই মন্দিরের ছাদে একটি সান ডায়াল রয়েছে যেখানে সূর্য ঘড়ির মাধ্যমে সময় দেখা যায় এবং চাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায়। প্লিয়াদেস ও ভেগা নামক যে নক্ষত্র রয়েছে তা দেখবার জন্যও প্রাচীন পুয়েবলোরা এই স্থানটি ব্যবহার করত।

শেরি তার প্রবন্ধে বলেছেন যে, এই গবেষণার মাধ্যমে নতুন অনেক তথ্য আমাদের হাতে আসতে পারে। হয়ত হতে পারে প্রাচীন দক্ষিণ আমেরিকার গণিত ও স্থাপত্যবিদ্যার এটিই সবচেয়ে বড় প্রাচীন নিদর্শন।

সূত্রঃ live science

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.